ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

শত বছরের ঐতিহ্য নবান্নকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শিবগঞ্জে উথলী হাটে বসেছে মাছের মেলা

প্রতিনিধির নাম
  • ০২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 22

মোঃ তৌহিদ হাসান বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

 

শিবগঞ্জের উথলী বাজারে নবান্ন উপলক্ষ্যে বিশাল মাছের মেলা বসেছে। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। নবান্নয় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে নতুন আলুসহ নানা জাতের সবজি দিয়ে মাছের নানা পদ রান্না করে জামাই-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়ন করা হয়।

ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, মেলায় প্রায় দেড় হাজার মন মাছ উঠে। দুই কেজি থেকে শুরু করে ২০ কেজি ওজনের রুই, কাতলা, ব্লাক কার্প, বাঘাইড়, সিলভার কার্পসহ হরেক রকম মাছ বিক্রি হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম কিছুটা বেশি। প্রতি কেজি বাঘাইড় মাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা, বোয়াল ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ও কাতলা ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, ব্লাককার্প, ব্রিগেড ও সিলভার কার্প ৪৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা দরে মাছ বেচাকেনা হচ্ছে।

এলাকার প্রবীণরা জানান একদিনের এ মাছের মেলা প্রায় শত বছর ধরে চলে আসছে। সনাতন পঞ্জিকার হিসাব অনুসারে মঙ্গলবার ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলমানরাও নতুন ফসল ঘরে তোলা উপলক্ষ্যে নবান্ন উৎসব পালন করেন। আর নবান্নয় মাছের মেলা বসে। এবারের মেলায়ও ব্যবসায়ীরা বড় বড় হরেক রকমের মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। শুধু মাছ নয়; মেলায় নতুন আলুসহ বিভিন্ন সবজি, মিষ্টান্ন, মাংস, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, মুড়ি, মুরকি, চিঁড়া, জিলাপি, গুড়, নারকেল, আচার ঝালসহ নানা খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামে উৎসব চলছে। প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাই, নাতি- নাতনি, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনে ভরে গেছে। অনেকে বাড়িতে শীতের বিভিন্ন পুলিপিঠাও তৈরি করা হচ্ছে।

মেলাকে ঘিরে উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদল্লাপুর, বেড়াবালা, আকন্দপাড়া, গরীবপুর, দেবিপুর, গুজিয়া, মেদনীপাড়া, বাকশন, রহবল, মোকামতলা, লক্ষ্মীকোলাসহ ২০ গ্রামের ঘরে ঘরে উৎসবের আয়োজন ছিল চোখে পরার মতো। শিবগঞ্জের মাছ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ মন বিভিন্ন ধরনের মাছ এনে বিক্রি করছেন। প্রতিটি মাছ দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। জয়পুরহাটের মাছ ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম জানান, মেলায় ছোট-বড় মিলে শতাধিক মাছের দোকান বসেছে। প্রত্যেকে পাঁচ থেকে ১০ মন করে মাছ বিক্রি করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শত বছরের ঐতিহ্য নবান্নকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শিবগঞ্জে উথলী হাটে বসেছে মাছের মেলা

০২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ তৌহিদ হাসান বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

 

শিবগঞ্জের উথলী বাজারে নবান্ন উপলক্ষ্যে বিশাল মাছের মেলা বসেছে। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। নবান্নয় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে নতুন আলুসহ নানা জাতের সবজি দিয়ে মাছের নানা পদ রান্না করে জামাই-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়ন করা হয়।

ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, মেলায় প্রায় দেড় হাজার মন মাছ উঠে। দুই কেজি থেকে শুরু করে ২০ কেজি ওজনের রুই, কাতলা, ব্লাক কার্প, বাঘাইড়, সিলভার কার্পসহ হরেক রকম মাছ বিক্রি হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম কিছুটা বেশি। প্রতি কেজি বাঘাইড় মাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা, বোয়াল ১ হাজার ৪০০ টাকা, রুই ও কাতলা ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, ব্লাককার্প, ব্রিগেড ও সিলভার কার্প ৪৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা দরে মাছ বেচাকেনা হচ্ছে।

এলাকার প্রবীণরা জানান একদিনের এ মাছের মেলা প্রায় শত বছর ধরে চলে আসছে। সনাতন পঞ্জিকার হিসাব অনুসারে মঙ্গলবার ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মুসলমানরাও নতুন ফসল ঘরে তোলা উপলক্ষ্যে নবান্ন উৎসব পালন করেন। আর নবান্নয় মাছের মেলা বসে। এবারের মেলায়ও ব্যবসায়ীরা বড় বড় হরেক রকমের মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। শুধু মাছ নয়; মেলায় নতুন আলুসহ বিভিন্ন সবজি, মিষ্টান্ন, মাংস, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, মুড়ি, মুরকি, চিঁড়া, জিলাপি, গুড়, নারকেল, আচার ঝালসহ নানা খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামে উৎসব চলছে। প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাই, নাতি- নাতনি, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনে ভরে গেছে। অনেকে বাড়িতে শীতের বিভিন্ন পুলিপিঠাও তৈরি করা হচ্ছে।

মেলাকে ঘিরে উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদল্লাপুর, বেড়াবালা, আকন্দপাড়া, গরীবপুর, দেবিপুর, গুজিয়া, মেদনীপাড়া, বাকশন, রহবল, মোকামতলা, লক্ষ্মীকোলাসহ ২০ গ্রামের ঘরে ঘরে উৎসবের আয়োজন ছিল চোখে পরার মতো। শিবগঞ্জের মাছ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ মন বিভিন্ন ধরনের মাছ এনে বিক্রি করছেন। প্রতিটি মাছ দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। জয়পুরহাটের মাছ ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম জানান, মেলায় ছোট-বড় মিলে শতাধিক মাছের দোকান বসেছে। প্রত্যেকে পাঁচ থেকে ১০ মন করে মাছ বিক্রি করেছেন।