ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

মামুন যেভাবে মেধাবী রাকিবকে হত্যা করে

মোঃ ইউসুফ খাঁন রংপুর সংবাদদাতা
  • ০২:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 29

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চাল ব্যবসায়ী আফসার আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়।

 

পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মামুন।

মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রাকিবের ম’রদেহ একটি কার্টনের মধ্যে ভরে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠেন। পথে কার্টনের ভেতরে কী রয়েছে জানতে চাইলে সেটিতে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানান তিনি।

রংপুরে পৌঁছানোর পর লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসেন মামুন। পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে জিজ্ঞাসা বাদে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য মামুনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।
তবে তাদের সম্পৃক্ততার ধরন ও ঘটনার সঙ্গে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো—রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ
রয়েছে।

ওই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে রাকিব জীবিত রয়েছে এমন বিশ্বাস তৈরি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পায়নি।

মরদেহ উদ্ধারের পর রাকিবের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা স্বজনেরা এখন হ*ত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ম’রদেহ উদ্ধারে ডিমলা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে ডিমলা থানা পুলিশ ম*রদেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করে। উদ্ধার করা ম*রদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহ’ত মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিব, কৃষক বাবার স্বপ্ন পূরণে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন ।

তিনি গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল এর ছোট ছেলে ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মামুন যেভাবে মেধাবী রাকিবকে হত্যা করে

০২:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার শুক্রাবাদে রাকিবের সঙ্গে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চাল ব্যবসায়ী আফসার আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ মামুনের পরিচয় হয়।

 

পরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন মামুন।

মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রাকিবের ম’রদেহ একটি কার্টনের মধ্যে ভরে বাসা থেকে বের হন তিনি। পরে ঢাকার কল্যাণপুরে গিয়ে রংপুরগামী একটি গাড়িতে ওঠেন। পথে কার্টনের ভেতরে কী রয়েছে জানতে চাইলে সেটিতে ইলিশ মাছ রয়েছে বলে জানান তিনি।

রংপুরে পৌঁছানোর পর লোকাল বাসে করে ডিমলায় আসেন মামুন। পরে মরদেহটি নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে কার্টনসহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে জিজ্ঞাসা বাদে জানিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য মামুনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে।
তবে তাদের সম্পৃক্ততার ধরন ও ঘটনার সঙ্গে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো—রাকিবকে হত্যার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ
রয়েছে।

ওই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে রাকিব জীবিত রয়েছে এমন বিশ্বাস তৈরি করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবার চার লাখ টাকা দিলেও শেষ পর্যন্ত রাকিবকে ফিরে পায়নি।

মরদেহ উদ্ধারের পর রাকিবের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা স্বজনেরা এখন হ*ত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ম’রদেহ উদ্ধারে ডিমলা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে ডিমলা থানা পুলিশ ম*রদেহ উদ্ধারে সহযোগিতা করে। উদ্ধার করা ম*রদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহ’ত মেধাবী শিক্ষার্থী রাকিব, কৃষক বাবার স্বপ্ন পূরণে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন ।

তিনি গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের দাদির আটা গ্রামের খাদেমুল এর ছোট ছেলে ।