ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু জব্দ করেছে

প্রতিনিধির নাম
  • ০৫:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 1

সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি মোঃমোজাম্মিল আলী

 

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে গতকাল মঙ্গলবার নিলামে বালু বিক্রির দিন ও তারিখ ধার্য করেছিলো পরে ঐ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রশাসন। স্থগিত করা হয়েছে নিলাম। উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায় ২ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। নিলামে তোলার কথা থাকলেও এক পর্যায়ে তা স্থগিত করতে হয়েছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কচুয়া মৌজার পকোরিয়া মহাল এলাকা। উপজেলা প্রশাসন বলছে, তারা ২ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করেছে। নিলামে তোলার কথা থাকলেও এক পর্যায়ে স্থগিত করতে হয়েছে। অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করে বিপাকে পড়েছে হবিগঞ্জের প্রশাসন। জব্দ করা এ বালু গতকাল মঙ্গলবার নিলামে বিক্রির দিন ও তারিখ ধার্য করেও প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের চাপে পরে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে প্রশাসন বিষয়টি অস্বীকার করেছে। চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কচুয়া মৌজার পকরিয়া মহাল থেকে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করে আসছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাঈম ও চুনারুঘাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সহ সংগঠনটির বেশ কিছু নেতাকর্মী। তাঁরা যন্ত্রের সাহায্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে স্তূপ করে রাখেন বালুমহাল এলাকায়। এ নিয়ে এলাকাবাসী মৌখিক ভাবে চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।

তবে চুনারুঘাটের ইউএনও মোঃ রবিন মিয়া বলেন, যখন বালুগুলো জব্দ করা হয়, তখন উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কাজেই যাঁরা দাবি করছেন ৮ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট প্রায় কোটি টাকার বালু, তাঁদের এ দাবি সঠিক নয়। যতটুকু উত্তোলন করা হয়েছে, সেটুকুই জব্দ করেছেন। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, সেই ছাত্রদল নেতা আবু নাঈম ও যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, বালু উত্তোলনের জায়গাটি তাঁরা ইজারা নিয়েছেন। এদিকে জব্দ করা বালু ছাড়িয়ে নিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে রাজনৈতিক ভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা নিলাম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। গত মঙ্গলবার নিলামের দিন ও তারিখ নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা আবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলাম স্থগিত করেছে। উপজেলার সাটিয়া জুরি কচুয়া এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন, তাঁরা নিজেদের ইজারার স্থান থেকে বালু উত্তোলনের দাবি করে এলেও এ দাবি সঠিক নয়। এখন তাঁরা এ বালু নিলামে বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছেন প্রশাসনকে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) নাঈমা খন্দকার বলেন, কোনো চাপে নয়, বালু উত্তোলন কারীরা হাইকোর্টে এ জব্দ করা বালুর নিলাম বন্ধে মামলা করেছে। যে কারণে আপাতত নিলাম স্থগিত রেখেছেন তাঁরা। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু জব্দ করেছে

০৫:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি মোঃমোজাম্মিল আলী

 

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে গতকাল মঙ্গলবার নিলামে বালু বিক্রির দিন ও তারিখ ধার্য করেছিলো পরে ঐ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রশাসন। স্থগিত করা হয়েছে নিলাম। উপজেলা প্রশাসন থেকে জানা যায় ২ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। নিলামে তোলার কথা থাকলেও এক পর্যায়ে তা স্থগিত করতে হয়েছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কচুয়া মৌজার পকোরিয়া মহাল এলাকা। উপজেলা প্রশাসন বলছে, তারা ২ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করেছে। নিলামে তোলার কথা থাকলেও এক পর্যায়ে স্থগিত করতে হয়েছে। অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করে বিপাকে পড়েছে হবিগঞ্জের প্রশাসন। জব্দ করা এ বালু গতকাল মঙ্গলবার নিলামে বিক্রির দিন ও তারিখ ধার্য করেও প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের চাপে পরে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তবে প্রশাসন বিষয়টি অস্বীকার করেছে। চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কচুয়া মৌজার পকরিয়া মহাল থেকে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করে আসছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু নাঈম ও চুনারুঘাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সহ সংগঠনটির বেশ কিছু নেতাকর্মী। তাঁরা যন্ত্রের সাহায্যে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে স্তূপ করে রাখেন বালুমহাল এলাকায়। এ নিয়ে এলাকাবাসী মৌখিক ভাবে চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।

তবে চুনারুঘাটের ইউএনও মোঃ রবিন মিয়া বলেন, যখন বালুগুলো জব্দ করা হয়, তখন উপজেলা প্রশাসনের লোকজন ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কাজেই যাঁরা দাবি করছেন ৮ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট প্রায় কোটি টাকার বালু, তাঁদের এ দাবি সঠিক নয়। যতটুকু উত্তোলন করা হয়েছে, সেটুকুই জব্দ করেছেন। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, সেই ছাত্রদল নেতা আবু নাঈম ও যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, বালু উত্তোলনের জায়গাটি তাঁরা ইজারা নিয়েছেন। এদিকে জব্দ করা বালু ছাড়িয়ে নিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে রাজনৈতিক ভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা নিলাম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। গত মঙ্গলবার নিলামের দিন ও তারিখ নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু গতকাল দুপুরে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা আবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলাম স্থগিত করেছে। উপজেলার সাটিয়া জুরি কচুয়া এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন, তাঁরা নিজেদের ইজারার স্থান থেকে বালু উত্তোলনের দাবি করে এলেও এ দাবি সঠিক নয়। এখন তাঁরা এ বালু নিলামে বিক্রি করতে চাপ দিচ্ছেন প্রশাসনকে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) নাঈমা খন্দকার বলেন, কোনো চাপে নয়, বালু উত্তোলন কারীরা হাইকোর্টে এ জব্দ করা বালুর নিলাম বন্ধে মামলা করেছে। যে কারণে আপাতত নিলাম স্থগিত রেখেছেন তাঁরা। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।