ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের ১৬ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, মূল আসামি গ্রেপ্তার

এ,কে পলায় কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • ১১:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ১৬ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কোড়েরপাড় মধ্যপাড়া গ্রামের একটি কাঁচা সড়কে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত মাসুদ মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক নারীকে কেন্দ্র করে নিহত মাসুদ মিয়া ও তাঁর ভাগিনা শিপন মিয়ার মধ্যে

বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই নারীর সঙ্গে প্রথমে মাসুদ মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে শিপন মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে শিপন মাসুদের বোনের বাড়িতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় শিপন প্রকাশ্যে মাসুদকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কৌশলে মাসুদকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক

তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিপন রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ

(ডিবি) তদন্ত শুরু করে। গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকা থেকে শিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিপন ওই নারীকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মামাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের ১৬ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, মূল আসামি গ্রেপ্তার

১১:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানায় মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ১৬ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের কোড়েরপাড় মধ্যপাড়া গ্রামের একটি কাঁচা সড়কে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত মাসুদ মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক নারীকে কেন্দ্র করে নিহত মাসুদ মিয়া ও তাঁর ভাগিনা শিপন মিয়ার মধ্যে

বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই নারীর সঙ্গে প্রথমে মাসুদ মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে শিপন মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে শিপন মাসুদের বোনের বাড়িতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ সময় শিপন প্রকাশ্যে মাসুদকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কৌশলে মাসুদকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক

তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিপন রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ

(ডিবি) তদন্ত শুরু করে। গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকা থেকে শিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিপন ওই নারীকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মামাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।