ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

জিপিএ-৫ জীবনের সবকিছু নয়, ভালো মানুষ হতে হবে: দেবীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
  • ০৪:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 9

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, “জিপিএ-৫ জীবনের সবকিছু নয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, অধ্যবসায়, চেষ্টা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে একজন ভালো

মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “তোমরাই জেন-জি, অর্থাৎ তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তোমাদের নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন সমাজের মানুষ তোমাদের দেখে একজন ভালো মানুষ হিসেবে চিনতে পারে।”

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ১নং চিলাহাটি ইউনিয়নে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির

বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১নং চিলাহাটি ইউনিয়ন শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তাদের কেউ দেবীগঞ্জে, কেউ দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর কিংবা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে তারা। তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা এবং মানবিক গুণাবলি অর্জন করাও জরুরি।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর এই গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে।” তাঁর বক্তব্যে তিনি দীর্ঘদিনের

অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব কারণে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের কেউ স্কুল বা কলেজের শিক্ষক হবে, কেউ ডাক্তার, প্রকৌশলী কিংবা সরকারি কর্মকর্তা হবে। কেউ বিসিএস ক্যাডার, পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ভারপ্রাপ্ত

কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। কিন্তু যে পেশাতেই তারা যাক না কেন, সমাজে ভালো মানুষের অভাব পূরণে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “আমি মনে করি, আজকে আমাদের সমাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যে বিষয়টির অভাব আমি অনুভব করি, সেটা হচ্ছে ভালো মানুষ।” তাঁর মতে, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত সাফল্য দিয়ে একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন করা যায় না; বরং সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি মানবিক আচরণই একজন মানুষের পরিচয় তুলে ধরে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনিয়মের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর সেবা নিশ্চিত করা; কিন্তু অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত রোগীর

অপারেশন না করার মতো আচরণ কাম্য নয়। একজন শিক্ষকেরও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগী হওয়া উচিত। একইভাবে প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য পেশাজীবীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করতে হবে।

জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেউ মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী যে পদেই অধিষ্ঠিত হোন না কেন, তাঁদেরও সততা ও নৈতিকতার

বিষয়টি ধারণ করতে হবে। অন্যরা কী করছে, আত্মীয়স্বজন কী বলছে কিংবা কে কোন অবস্থানে রয়েছে, সেটিকে বড় করে না দেখে নিজের চরিত্র ও কাজের মান উন্নত করার দিকে মনোযোগী হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “তুমি যে মতের হও না কেন, যে দলের হও না কেন, যে ধর্মের হও না কেন—আমি সেই বিষয়টা বিচার করব না। আমি তোমাদের কাছে প্রত্যাশা করব, তোমরা সমাজে একজন ভালো মানুষে পরিণত হও।” শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেন তাঁদের দেখে অন্যরা অনুপ্রাণিত হয় এবং আরও অনেকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা পায়।

সৎ ও নীতিবান পেশাজীবীদের উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে এমন অনেক শিক্ষক, কর্মজীবী ও চাকরিজীবী রয়েছেন, যাঁরা অভাব-অনটন ও পারিবারিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কখনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না। তাঁদের সততা ও নৈতিকতা সমাজের জন্য অনুসরণীয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবর্ধনা পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীরা তাঁর বক্তব্যের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে যে পেশাতেই দায়িত্ব পালন করুক না কেন, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আয়োজক সংগঠনের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জিপিএ-৫ জীবনের সবকিছু নয়, ভালো মানুষ হতে হবে: দেবীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

০৪:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, “জিপিএ-৫ জীবনের সবকিছু নয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, অধ্যবসায়, চেষ্টা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে একজন ভালো

মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “তোমরাই জেন-জি, অর্থাৎ তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তোমাদের নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন সমাজের মানুষ তোমাদের দেখে একজন ভালো মানুষ হিসেবে চিনতে পারে।”

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ১নং চিলাহাটি ইউনিয়নে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির

বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, দেবীগঞ্জ উপজেলার ১নং চিলাহাটি ইউনিয়ন শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তাদের কেউ দেবীগঞ্জে, কেউ দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর কিংবা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে তারা। তবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা এবং মানবিক গুণাবলি অর্জন করাও জরুরি।

তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর এই গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে।” তাঁর বক্তব্যে তিনি দীর্ঘদিনের

অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব কারণে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের কেউ স্কুল বা কলেজের শিক্ষক হবে, কেউ ডাক্তার, প্রকৌশলী কিংবা সরকারি কর্মকর্তা হবে। কেউ বিসিএস ক্যাডার, পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ভারপ্রাপ্ত

কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। কিন্তু যে পেশাতেই তারা যাক না কেন, সমাজে ভালো মানুষের অভাব পূরণে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “আমি মনে করি, আজকে আমাদের সমাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যে বিষয়টির অভাব আমি অনুভব করি, সেটা হচ্ছে ভালো মানুষ।” তাঁর মতে, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত সাফল্য দিয়ে একজন মানুষের প্রকৃত মূল্যায়ন করা যায় না; বরং সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের প্রতি মানবিক আচরণই একজন মানুষের পরিচয় তুলে ধরে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনিয়মের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর সেবা নিশ্চিত করা; কিন্তু অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত রোগীর

অপারেশন না করার মতো আচরণ কাম্য নয়। একজন শিক্ষকেরও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগী হওয়া উচিত। একইভাবে প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্য পেশাজীবীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করতে হবে।

জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেউ মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী যে পদেই অধিষ্ঠিত হোন না কেন, তাঁদেরও সততা ও নৈতিকতার

বিষয়টি ধারণ করতে হবে। অন্যরা কী করছে, আত্মীয়স্বজন কী বলছে কিংবা কে কোন অবস্থানে রয়েছে, সেটিকে বড় করে না দেখে নিজের চরিত্র ও কাজের মান উন্নত করার দিকে মনোযোগী হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “তুমি যে মতের হও না কেন, যে দলের হও না কেন, যে ধর্মের হও না কেন—আমি সেই বিষয়টা বিচার করব না। আমি তোমাদের কাছে প্রত্যাশা করব, তোমরা সমাজে একজন ভালো মানুষে পরিণত হও।” শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেন তাঁদের দেখে অন্যরা অনুপ্রাণিত হয় এবং আরও অনেকে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা পায়।

সৎ ও নীতিবান পেশাজীবীদের উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে এমন অনেক শিক্ষক, কর্মজীবী ও চাকরিজীবী রয়েছেন, যাঁরা অভাব-অনটন ও পারিবারিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কখনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করেন না। তাঁদের সততা ও নৈতিকতা সমাজের জন্য অনুসরণীয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবর্ধনা পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীরা তাঁর বক্তব্যের শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে যে পেশাতেই দায়িত্ব পালন করুক না কেন, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আয়োজক সংগঠনের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।