বালাইনাশক স্প্রের পর নষ্ট করলাখেত, ক্ষতিপূরণ চান দিশেহারা কৃষক
- ০৬:২৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 5

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে বালাইনাশক স্প্রে করার পর তিন বিঘা জমির করলাখেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষক ইসলাম উদ্দিন। এতে দেড় লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
ইসলাম উদ্দিন আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, আটোয়ারী উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের
কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমানের দোকান থেকে পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘এম পেড’ নামের একটি জৈব বালাইনাশক কেনেন তিনি। এক হাজার মিলিলিটারের বোতলটির দাম নেওয়া হয় ১ হাজার ১০০ টাকা।
গত ১৮ অক্টোবর জমিতে বালাইনাশকটি স্প্রে করার পরদিন থেকেই গাছ বিবর্ণ হতে শুরু করে। পরে গাছের ডগা মরে যায় এবং করলা ঝরে পড়তে থাকে। এতে পুরো করলাখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন কৃষক।
কৃষক ইসলাম উদ্দিন বলেন, ধারদেনা করে প্রায় তিন বিঘা জমিতে করলার চাষ করেছিলেন তিনি। বাগানে ভালো ফলনও হয়েছিল। ইতিমধ্যে দুই দফা করলা বিক্রিও করেছেন।
কিন্তু বালাইনাশকটি স্প্রে করার পর বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর দাবি, চাষাবাদে প্রায় দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এখন এই লোকসান কীভাবে সামাল দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের করলাখেতেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল। অথচ বালাইনাশক স্প্রে করার পর বাগানটি নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি এ ধরনের বালাইনাশকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আরেক কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ইদানীং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা কৃষকদের নানা কথা বুঝিয়ে নিজেদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করেন।
কিন্তু এসব পণ্য ব্যবহারে ক্ষতি হলে অনেক সময় তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু। তিনি বলেন, একই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক ব্যবহার করেছেন।
তাঁদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তাঁর দাবি, ইসলাম উদ্দিন হয়তো সঠিক নিয়মে বালাইনাশকটি স্প্রে করতে পারেননি।
পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের আটোয়ারী উপজেলার সহকারী বিপণন কর্মকর্তা সবুজ আলী বলেন, ওই কৃষকের
খেতে এমনটি কেন হয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না। তাঁর ধারণা, কৃষকটি বালাইনাশকটির সঙ্গে অন্য কোনো ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।






















