ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

পঞ্চগড়ে ২৬৮ পূজামণ্ডপে এসআরবি-১৩-এর কড়া নজরদারি

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
  • ০২:০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে পঞ্চগড়ের ২৬৮টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি জোরদার করেছে এসআরবি-১৩। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠপর্যায়ে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে।

যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্প, এসআরবি-১৩-এর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর পঞ্চগড় জেলার ২৬৮টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসআরবি-১৩।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-১৩-এর রংপুর কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, কোনো দুষ্কৃতকারী বা অশুভ চক্র হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, পূজার উপকরণ চুরি-ডাকাতি কিংবা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমা বিসর্জনের দিনও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে উৎসবের শেষপর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে নাশকতার কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত র‍্যাবকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

র‍্যাব সদর দপ্তর থেকেও সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ও সিপিসি-২, এসআরবি-১৩, রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার

মোঃ আবু রোহানী পারভেজ রনী বলেন, দুর্গাপূজাকে নিরাপদ, আনন্দময় ও সম্প্রীতিপূর্ণ উৎসবে পরিণত করতে এসআরবি-১৩ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বসাধারণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ে ২৬৮ পূজামণ্ডপে এসআরবি-১৩-এর কড়া নজরদারি

০২:০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে পঞ্চগড়ের ২৬৮টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি জোরদার করেছে এসআরবি-১৩। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠপর্যায়ে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে।

যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্প, এসআরবি-১৩-এর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর পঞ্চগড় জেলার ২৬৮টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উৎসব চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসআরবি-১৩।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-১৩-এর রংপুর কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, কোনো দুষ্কৃতকারী বা অশুভ চক্র হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, পূজার উপকরণ চুরি-ডাকাতি কিংবা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমা বিসর্জনের দিনও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে উৎসবের শেষপর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

যাচাই না করে কোনো তথ্য শেয়ার না করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে নাশকতার কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত র‍্যাবকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

র‍্যাব সদর দপ্তর থেকেও সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ও সিপিসি-২, এসআরবি-১৩, রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার

মোঃ আবু রোহানী পারভেজ রনী বলেন, দুর্গাপূজাকে নিরাপদ, আনন্দময় ও সম্প্রীতিপূর্ণ উৎসবে পরিণত করতে এসআরবি-১৩ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সর্বসাধারণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।