লাখাইয়ে প্রধান শিক্ষক লিটনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
- ০৫:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর ২০২৪
- / 0
লাখাইয়ে প্রধান শিক্ষক লিটনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: মুফতী আসাদুজ্জামান আনোয়ারী
লাখাই উপজেলার লাখাই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন সুত্রধরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, নারী কেলেংকারী, সেচ্ছা চারিতা ও সনদ বানিজ্য সহ নানা অভিযোগ বিগত ২০০৭ সালে তদন্তে প্রমানিত হওয়া সত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে একই পদে আসীন রয়েছে।
অভিযোগকারী বিজয় কৃষ্ণ রায় সহ গ্রামের অভিভাবক, ছাত্র ছাত্রী সহ ভুক্তভোগীরা মনে দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা। কেউ কেউ বলছেন লিটনের খুঁটির জোর কোথায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিগত ২০০৭ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়ীত্বে ছিলেন আয়াতুল ইসলামের আমলে কৃষ্ণপুর কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন সুত্রধরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে একটি দরখাস্ত করলে তাৎকালিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জাফর ইকবাল চৌধুরী কে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে তিনি সরেজমিনে তদন্তকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের প্রদর্শিত কাগজাত পর্যালোচনা করেন এবং ম্যানেজিং কমিটির উপস্থাপিত কাগজাত পর্যালোচনা করে তিনি এই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন যে, অভিযুক্ত লিটন সুত্রধরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য প্রমানিত হয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দেন কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ফলে অভিযোকারীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা কৌতুহল।
পরবর্তীতে গত ৮ অক্টোবর ২৪ ইং তারিখে কৃষ্ণপুর গ্রামের কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য বিজয় কৃষ্ণ রায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানার বরাবর পূনরায় আরকটি দরখাস্ত দাখিল করে। দরখাস্ত সুত্রে জানা যায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিভুক্ত একজন সদস্য তাই তিনি বিগত দরখাস্তের অভিযোগ প্রমানিত হওয়া সত্বেও সাবেক এমপি আবু জাহির ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিউল আলম আজাদ এর ছত্রছায়ায় তিনি পার পেয়েছেন।
দরখাস্ত সুত্রে আরো জানা যায় কৃষ্ণপুর কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন সুত্রধরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, সেচ্চা চারিতা, নারী কেলেংকারী, ভুয়া সনদ বানিজ্য সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও জেলা সমন্বয়কারী মোঃ জামিল হোসেন রাজুর বরাবর প্রেরন করেন। এবং ২০০৭ সালের দরখাস্তের কপি, তদন্ত প্রতিবেদনের কপি ও ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের কপি সহ এই অনুলিপি পাওয়ার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক গত ২২ অক্টোবর ২৪ইং তারিখে ৪৩১ নং স্মারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা কে এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করে বলেন দরখাস্তকারীর অভিযোগের আলোকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কৃষ্ণপুর কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন সুত্রধরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিনিধি কে বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমি ঔ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে থাকার আমার আর কোন ইচ্ছে নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে প্রধান শিক্ষক লিটনের বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ আমি পেয়েছি। যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমানিতে হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
























