ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম হল অদ্রিত পাল

প্রতিনিধির নাম
  • ০৭:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 6

লুতুব আলি,রিপোর্টার

 

৪৯৬ নম্বর পেয়ে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অদ্রিত পাল। আজ, ৮ মে ফল প্রকাশ করেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের উপ-সচিব (পরীক্ষা) উৎপল কৃ. বিশ্বাস। এবার প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে মোট ৪৭ জন।

*মেধাতালিকায় নরেন্দ্রপুর-পুরুলিয়ার দাপট*
প্রথম ১০ জনের মধ্যে ১৭ জনই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ থেকে আছে ৯ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ২১ জন, পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ৫ জন করে, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ৩ জন করে কৃতী উঠে এসেছে। এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মালদা, হাওড়া, হুগলি থেকেও ১ জন করে প্রথম দশে জায়গা পেয়েছে। সব মিলিয়ে ১০টি জেলার প্রতিনিধিত্ব এবারের মেধাতালিকায়।

সেরা পাঁচ র‍্যাঙ্ক
র‍্যাঙ্ক ১: ৪৯৬ -অদ্রিত পাল – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
র‍্যাঙ্ক ২: ৪৯৫ – জিষ্ণু কুন্ডু -পশ্চিম মেদিনীপুর, ঋতব্রত নাথ, ঐতিহ্য পাছাল – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
র‍্যাঙ্ক ৪: ৪৯৩- অনিরুদ্ধ সামন্ত – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
র‍্যাঙ্ক ৫: ৪৯২- ঋষি ঘোষ, রাজদীপ ভট্টাচার্য, ঋতব্রত দাস, প্রিয়াংশু মুখার্জি, স্বর্ণাভ খাটুয়া, আলেখ্য মাইতি – দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সৌমিক দত্ত – পূর্ব মেদিনীপুর
র‍্যাঙ্ক ৬: ৪৯১- অনুরাগ গাঙ্গুলি, শুভদীপ অধিকারী, প্রত্যুষ মন্ডল, অদ্রিতা পাল, পল্লব কুমার ভৌয়াল – দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মণিদীপ মাহাতো – বাঁকুড়া, সৌম্যদ্বীপ খান, শুভদীপ দিন্দা – পুরুলিয়া, অনিমেষ মুখার্জি – বীরভূম, সৌমাল্য রুদ্র – মালদা

সাফল্যের নেপথ্যে শৃঙ্খলা আর জেদ
সংসদের উপ-সচিব উৎপল কৃ. বিশ্বাস জানালেন, “১০টি জেলার প্রতিনিধিত্ব প্রমাণ করছে, রাজ্যের সর্বত্র শিক্ষার মান বেড়েছে। আবাসিক স্কুলের পাশাপাশি জেলার সরকারি স্কুল থেকেও কৃতীরা উঠে আসছে।”

নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া মিশনের অধ্যক্ষদের মতে, “শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ আর পরিশ্রমই আসল। ভূগোল কোনো বাধা নয়।” ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিকের ফল আবার দেখিয়ে দিল, পরিশ্রম করলে বাংলার মেধা যে কোনো প্রান্ত থেকেই শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।

রাজ্যে প্রথম অদ্রিত পালের কথায়, “মহারাজদের শাসন আর হোস্টেলের ঘণ্টাধ্বনিই আমার জীবনের ছন্দ ঠিক করে দিয়েছে। বাবা-মা বরানগরে থাকলেও তাঁদের আশীর্বাদ ছিল প্রতিটা পাতায়। মোবাইল নয়, গণিত আর পদার্থবিদ্যার সমীকরণেই মজে ছিলাম। স্বপ্ন দেখি আইআইএসসি বেঙ্গালুরু থেকে গবেষণা করে দেশের জন্য কিছু করার।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম হল অদ্রিত পাল

০৭:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

লুতুব আলি,রিপোর্টার

 

৪৯৬ নম্বর পেয়ে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অদ্রিত পাল। আজ, ৮ মে ফল প্রকাশ করেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের উপ-সচিব (পরীক্ষা) উৎপল কৃ. বিশ্বাস। এবার প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে মোট ৪৭ জন।

*মেধাতালিকায় নরেন্দ্রপুর-পুরুলিয়ার দাপট*
প্রথম ১০ জনের মধ্যে ১৭ জনই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের। পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ থেকে আছে ৯ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ২১ জন, পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ৫ জন করে, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ৩ জন করে কৃতী উঠে এসেছে। এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মালদা, হাওড়া, হুগলি থেকেও ১ জন করে প্রথম দশে জায়গা পেয়েছে। সব মিলিয়ে ১০টি জেলার প্রতিনিধিত্ব এবারের মেধাতালিকায়।

সেরা পাঁচ র‍্যাঙ্ক
র‍্যাঙ্ক ১: ৪৯৬ -অদ্রিত পাল – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
র‍্যাঙ্ক ২: ৪৯৫ – জিষ্ণু কুন্ডু -পশ্চিম মেদিনীপুর, ঋতব্রত নাথ, ঐতিহ্য পাছাল – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
র‍্যাঙ্ক ৪: ৪৯৩- অনিরুদ্ধ সামন্ত – দক্ষিণ ২৪ পরগনা
র‍্যাঙ্ক ৫: ৪৯২- ঋষি ঘোষ, রাজদীপ ভট্টাচার্য, ঋতব্রত দাস, প্রিয়াংশু মুখার্জি, স্বর্ণাভ খাটুয়া, আলেখ্য মাইতি – দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সৌমিক দত্ত – পূর্ব মেদিনীপুর
র‍্যাঙ্ক ৬: ৪৯১- অনুরাগ গাঙ্গুলি, শুভদীপ অধিকারী, প্রত্যুষ মন্ডল, অদ্রিতা পাল, পল্লব কুমার ভৌয়াল – দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মণিদীপ মাহাতো – বাঁকুড়া, সৌম্যদ্বীপ খান, শুভদীপ দিন্দা – পুরুলিয়া, অনিমেষ মুখার্জি – বীরভূম, সৌমাল্য রুদ্র – মালদা

সাফল্যের নেপথ্যে শৃঙ্খলা আর জেদ
সংসদের উপ-সচিব উৎপল কৃ. বিশ্বাস জানালেন, “১০টি জেলার প্রতিনিধিত্ব প্রমাণ করছে, রাজ্যের সর্বত্র শিক্ষার মান বেড়েছে। আবাসিক স্কুলের পাশাপাশি জেলার সরকারি স্কুল থেকেও কৃতীরা উঠে আসছে।”

নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়া মিশনের অধ্যক্ষদের মতে, “শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ আর পরিশ্রমই আসল। ভূগোল কোনো বাধা নয়।” ২০২৬-এর উচ্চ মাধ্যমিকের ফল আবার দেখিয়ে দিল, পরিশ্রম করলে বাংলার মেধা যে কোনো প্রান্ত থেকেই শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।

রাজ্যে প্রথম অদ্রিত পালের কথায়, “মহারাজদের শাসন আর হোস্টেলের ঘণ্টাধ্বনিই আমার জীবনের ছন্দ ঠিক করে দিয়েছে। বাবা-মা বরানগরে থাকলেও তাঁদের আশীর্বাদ ছিল প্রতিটা পাতায়। মোবাইল নয়, গণিত আর পদার্থবিদ্যার সমীকরণেই মজে ছিলাম। স্বপ্ন দেখি আইআইএসসি বেঙ্গালুরু থেকে গবেষণা করে দেশের জন্য কিছু করার।”