ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

ভূমি অফিস কর্মচারীর বিয়ের দাবি ঘিরে তোলপাড়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • ১০:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তিন সন্তানের জননীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সফিকুল ইসলাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই নারীর আগের স্বামী বেলাল হোসেনের সঙ্গে সফিকুল ইসলামের বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেলাল হোসেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের খুটামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সফিকুল ইসলাম প্রায়ই খুটামারা এলাকায় আছিম উদ্দিনের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তবে ওই পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আগে প্রতিবেশীদের জানা ছিল না। বুধবার

বিকেলে তিনি ওই বাড়িতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় সফিকুল ইসলাম আছিম উদ্দিনকে নিজের শ্বশুর এবং তার মেয়ে আঞ্জুয়া বেগমকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

স্থানীয়দের দাবি, আঞ্জুয়া বেগমের স্বামী হিসেবে তারা দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা সবুজপাড়া এলাকার বেলাল হোসেনকে চেনেন। তাদের জানা মতে,

প্রায় ২৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে বেলাল ও আঞ্জুয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে আঞ্জুয়া বেগম জানান, তিনি আগের স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তালাকের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ডাকযোগে আগের স্বামীর ঠিকানায় তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে সফিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমীনের সঙ্গে তার সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সফিকুলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে সফিকুল ইসলাম পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রায় তিন মাস আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। বুধবার হঠাৎ করে সফিকুলের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ের দাবির বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। স্ত্রীর

তালাকের কোনো কাগজপত্রও হাতে পাননি বলে দাবি করেন বেলাল। এ ঘটনায় তিনি দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে সফিকুল ইসলাম বলেন, তার শ্বশুর ফোন করে দেখা করতে বলায় তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। ইসলামি শরিয়াহ মেনে তারা বিয়ে করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে বিয়ে ও তালাকের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভূমি অফিস কর্মচারীর বিয়ের দাবি ঘিরে তোলপাড়

১০:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তিন সন্তানের জননীকে নিজের স্ত্রী দাবি করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সফিকুল ইসলাম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ওই নারীর আগের স্বামী বেলাল হোসেনের সঙ্গে সফিকুল ইসলামের বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেলাল হোসেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের খুটামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সফিকুল ইসলাম প্রায়ই খুটামারা এলাকায় আছিম উদ্দিনের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তবে ওই পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আগে প্রতিবেশীদের জানা ছিল না। বুধবার

বিকেলে তিনি ওই বাড়িতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় সফিকুল ইসলাম আছিম উদ্দিনকে নিজের শ্বশুর এবং তার মেয়ে আঞ্জুয়া বেগমকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

স্থানীয়দের দাবি, আঞ্জুয়া বেগমের স্বামী হিসেবে তারা দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা সবুজপাড়া এলাকার বেলাল হোসেনকে চেনেন। তাদের জানা মতে,

প্রায় ২৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে বেলাল ও আঞ্জুয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে আঞ্জুয়া বেগম জানান, তিনি আগের স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তালাকের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ডাকযোগে আগের স্বামীর ঠিকানায় তালাকের কাগজ পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে সফিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমীনের সঙ্গে তার সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সফিকুলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।

বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে সফিকুল ইসলাম পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রায় তিন মাস আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। বুধবার হঠাৎ করে সফিকুলের সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ের দাবির বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। স্ত্রীর

তালাকের কোনো কাগজপত্রও হাতে পাননি বলে দাবি করেন বেলাল। এ ঘটনায় তিনি দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে সফিকুল ইসলাম বলেন, তার শ্বশুর ফোন করে দেখা করতে বলায় তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। ইসলামি শরিয়াহ মেনে তারা বিয়ে করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে বিয়ে ও তালাকের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।