ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

মধুপুরের পালবাড়ীতে আরিফের বিরুদ্ধে জমি দখল

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • ১১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 17

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের পালবাড়ী (মধু পালবাড়ী) এলাকায় আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও গাছ কাটাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধু পালবাড়ী এলাকার মৃত শাহ আলীর ছেলে আরিফের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের জমি দখলের চেষ্টা ও বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় রইচ উদ্দিন মেকারের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জীবিত অবস্থায় রইচ উদ্দিন তার স্ত্রীকে ৫ শতাংশ এবং একমাত্র মেয়ে রোমানাকে ৮ শতাংশ জমি লিখে দেন। পরে রইচ উদ্দিন মারা গেলে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেয়ে রোমানা চিকিৎসার জন্য মাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এ সুযোগে বাড়িতে কেউ না থাকায় পার্শ্ববর্তী আরিফ তাদের বসতঘর দখলের চেষ্টা করেন এবং জমিতে থাকা একটি কাঁঠালগাছ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে রোমানা বাড়িতে গিয়ে তার জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ দেখতে পান। এ সময় আরিফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ওই জায়গা নিজের বলে দাবি করেন বলে রোমানার অভিযোগ। এ নিয়ে রোমানা ও তার স্বামী এরশাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফের লোকজন এরশাদকে মারধর করে এবং সেখানে আর না আসার জন্য হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এঘটনায় এরশাদ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে রোমানা প্রতিবেশী নজরুলের কাছে জমি বিক্রির জন্য বায়না করে টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নজরুলের অভিযোগ, জমি কেনার জন্য তিনি বায়নাপত্র করলেও আরিফ তাকে জমি না কেনার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তার নামেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল বলেন, তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মিস্ত্রি। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। জমি কেনার জন্য বৈধভাবে বায়না করলেও তাকে ওই জমি না কেনার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রইচ উদ্দিনের বাড়ির সঙ্গে তার প্রায় ১০ শতাংশ জমিও আরিফ দখল করে রেখেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও মারামারির অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’’
অন্যদিকে, আরিফের বিরুদ্ধে মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। মাজহারুলের দাবি, জমি কেনার কথা বলে আরিফ তার কাছ থেকে ওই টাকা ধার নেন এবং তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর টাকা ফেরত না দিয়ে আরিফ একটি চেক দেন বলে অভিযোগ করেন মাজহারুল।
মাজহারুল জানান, তিনি ব্যাংকে চেক জমা দিলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ব্যাংক থেকে লিখিত প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি আদালতে চেকসংক্রান্ত মামলা করেন। মামলা করার পর সেটি প্রত্যাহারের জন্য আরিফ ও তার লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মাজহারুল। পরবর্তী সময়েও মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, আরিফ এলাকায় মাদক সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক, জমি নিয়ে বিরোধ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে কারও জমি জবরদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং পালবাড়ী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মধুপুরের পালবাড়ীতে আরিফের বিরুদ্ধে জমি দখল

১১:২০:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের পালবাড়ী (মধু পালবাড়ী) এলাকায় আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও গাছ কাটাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধু পালবাড়ী এলাকার মৃত শাহ আলীর ছেলে আরিফের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের জমি দখলের চেষ্টা ও বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় রইচ উদ্দিন মেকারের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জীবিত অবস্থায় রইচ উদ্দিন তার স্ত্রীকে ৫ শতাংশ এবং একমাত্র মেয়ে রোমানাকে ৮ শতাংশ জমি লিখে দেন। পরে রইচ উদ্দিন মারা গেলে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেয়ে রোমানা চিকিৎসার জন্য মাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এ সুযোগে বাড়িতে কেউ না থাকায় পার্শ্ববর্তী আরিফ তাদের বসতঘর দখলের চেষ্টা করেন এবং জমিতে থাকা একটি কাঁঠালগাছ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে রোমানা বাড়িতে গিয়ে তার জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ দেখতে পান। এ সময় আরিফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ওই জায়গা নিজের বলে দাবি করেন বলে রোমানার অভিযোগ। এ নিয়ে রোমানা ও তার স্বামী এরশাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফের লোকজন এরশাদকে মারধর করে এবং সেখানে আর না আসার জন্য হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এঘটনায় এরশাদ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে রোমানা প্রতিবেশী নজরুলের কাছে জমি বিক্রির জন্য বায়না করে টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নজরুলের অভিযোগ, জমি কেনার জন্য তিনি বায়নাপত্র করলেও আরিফ তাকে জমি না কেনার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তার নামেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল বলেন, তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মিস্ত্রি। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। জমি কেনার জন্য বৈধভাবে বায়না করলেও তাকে ওই জমি না কেনার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রইচ উদ্দিনের বাড়ির সঙ্গে তার প্রায় ১০ শতাংশ জমিও আরিফ দখল করে রেখেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও মারামারির অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’’
অন্যদিকে, আরিফের বিরুদ্ধে মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। মাজহারুলের দাবি, জমি কেনার কথা বলে আরিফ তার কাছ থেকে ওই টাকা ধার নেন এবং তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর টাকা ফেরত না দিয়ে আরিফ একটি চেক দেন বলে অভিযোগ করেন মাজহারুল।
মাজহারুল জানান, তিনি ব্যাংকে চেক জমা দিলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ব্যাংক থেকে লিখিত প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি আদালতে চেকসংক্রান্ত মামলা করেন। মামলা করার পর সেটি প্রত্যাহারের জন্য আরিফ ও তার লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মাজহারুল। পরবর্তী সময়েও মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, আরিফ এলাকায় মাদক সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক, জমি নিয়ে বিরোধ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে কারও জমি জবরদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং পালবাড়ী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে।