ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

নীল আকাশে বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা, সৌন্দর্যে মুগ্ধ পঞ্চগড়বাসী

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
  • ১০:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7

শরতের নীল আকাশ, দূরের দিগন্তজুড়ে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর ভোরের আলোয় ঝলমলে তুষারাবৃত চূড়া—প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আবারও ধরা দিয়েছে পঞ্চগড়ের আকাশে। মেঘের আড়াল সরে যাওয়ায়

বাংলাদেশের সর্বউত্তরের এই জেলা থেকে দেখা যাচ্ছে হিমালয়ের বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। দূরের পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগের দিন বুধবার সকালেও মেঘমুক্ত আকাশে স্পষ্ট

দেখা গিয়েছিল বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি। টানা তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ক্যামেরায় বন্দি করছেন দূরের পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য। সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ও ভিডিও। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় অনেকেই নিজেদের মুগ্ধতার মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন পরিচিতজনদের সঙ্গে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। ভোরের সূর্যের আলো বরফে ঢাকা পাহাড়ের

চূড়ায় পড়লে কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় অপরূপ হয়ে ওঠে পর্বতশৃঙ্গটি। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর দৃশ্যমানতাও বদলে যায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার একটি বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। ভৌগোলিক

অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে অনুকূল আবহাওয়ায় দূরের এই পর্বতশৃঙ্গ দেখা যায়।

প্রতিবছর বর্ষা শেষে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক, আলোকচিত্রী ও

প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁদের কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধু একটি পর্বতশৃঙ্গ নয়, বরং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য আকর্ষণ।

তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে অনুকূল আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আকাশে মেঘ, কুয়াশা, বাতাসে জলীয়বাষ্প ও দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে পর্বতশৃঙ্গটি কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা সম্ভব হয় না।

গত দুর্গাপূজার ছুটিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চগড়ে এসেছিলেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কিন্তু সে সময় আকাশে মেঘ থাকায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পর্বতশৃঙ্গের দেখা পাননি। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁদের। বর্তমানে টানা কয়েক দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান থাকায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে আবারও আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় বর্তমানে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের

আবহাওয়া আরও এক থেকে দুই দিন থাকতে পারে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর আকাশে মেঘের সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘ তৈরি হলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আবারও আড়ালে চলে যেতে পারে এবং পর্বতশৃঙ্গটি দেখা নাও যেতে পারে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ পঞ্চগড়ের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই হিমালয়ের বরফঢাকা

পর্বতশৃঙ্গ দেখার সুযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভ্রমণপিপাসুদেরও মুগ্ধ করে। তাই অনুকূল আবহাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিললেই পঞ্চগড়জুড়ে তৈরি হয় অন্যরকম আনন্দ ও উৎসাহ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নীল আকাশে বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা, সৌন্দর্যে মুগ্ধ পঞ্চগড়বাসী

১০:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

শরতের নীল আকাশ, দূরের দিগন্তজুড়ে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর ভোরের আলোয় ঝলমলে তুষারাবৃত চূড়া—প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আবারও ধরা দিয়েছে পঞ্চগড়ের আকাশে। মেঘের আড়াল সরে যাওয়ায়

বাংলাদেশের সর্বউত্তরের এই জেলা থেকে দেখা যাচ্ছে হিমালয়ের বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। দূরের পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগের দিন বুধবার সকালেও মেঘমুক্ত আকাশে স্পষ্ট

দেখা গিয়েছিল বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি। টানা তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ আবার ক্যামেরায় বন্দি করছেন দূরের পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য। সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ও ভিডিও। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আকাশ পরিষ্কার হওয়ায় অনেকেই নিজেদের মুগ্ধতার মুহূর্ত ভাগ করে নিচ্ছেন পরিচিতজনদের সঙ্গে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। ভোরের সূর্যের আলো বরফে ঢাকা পাহাড়ের

চূড়ায় পড়লে কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় অপরূপ হয়ে ওঠে পর্বতশৃঙ্গটি। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর দৃশ্যমানতাও বদলে যায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার একটি বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। ভৌগোলিক

অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে অনুকূল আবহাওয়ায় দূরের এই পর্বতশৃঙ্গ দেখা যায়।

প্রতিবছর বর্ষা শেষে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক, আলোকচিত্রী ও

প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন তেঁতুলিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তাঁদের কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা শুধু একটি পর্বতশৃঙ্গ নয়, বরং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগের এক অনন্য আকর্ষণ।

তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে অনুকূল আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আকাশে মেঘ, কুয়াশা, বাতাসে জলীয়বাষ্প ও দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে পর্বতশৃঙ্গটি কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে অনেক সময় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা সম্ভব হয় না।

গত দুর্গাপূজার ছুটিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চগড়ে এসেছিলেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কিন্তু সে সময় আকাশে মেঘ থাকায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত পর্বতশৃঙ্গের দেখা পাননি। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁদের। বর্তমানে টানা কয়েক দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান থাকায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে আবারও আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় বর্তমানে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের

আবহাওয়া আরও এক থেকে দুই দিন থাকতে পারে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর আকাশে মেঘের সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘ তৈরি হলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আবারও আড়ালে চলে যেতে পারে এবং পর্বতশৃঙ্গটি দেখা নাও যেতে পারে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ পঞ্চগড়ের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই হিমালয়ের বরফঢাকা

পর্বতশৃঙ্গ দেখার সুযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভ্রমণপিপাসুদেরও মুগ্ধ করে। তাই অনুকূল আবহাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিললেই পঞ্চগড়জুড়ে তৈরি হয় অন্যরকম আনন্দ ও উৎসাহ।