জাহিদুর রহমানকে মন্ত্রী না করলে ঠাকুরগাঁও-৩ বঞ্চিতই থাকবে,চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান
- ০১:২৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 1

পারভেজ হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান-কে অবিলম্বে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়ে সরব হয়েছেন পীরগঞ্জ উপজেলার ৬নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান চৌধুরী।
তাঁর সাফ বক্তব্য, “জাহিদুর রহমানকে মন্ত্রী না করলে ঠাকুরগাঁও-৩ আবারও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে বঞ্চিত হবে। এই অঞ্চল আর অবহেলা সহ্য করবে না।”
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন জাহিদুর রহমান। পরবর্তীতে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি রাজনৈতিক শৃঙ্খলার নজির স্থাপন করেন। স্থানীয় নেতাদের মতে, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার এমন দৃষ্টান্ত বিরল।
চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-৩ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও কৃষি আধুনিকায়নে পিছিয়ে। বড় কোনো শিল্পপ্রকল্প নেই, উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ নেই, যুবকদের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের পথও সংকীর্ণ। এই বাস্তবতায় প্রভাবশালী নেতৃত্ব ছাড়া পরিবর্তন অসম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও দমন-পীড়নের সময়েও জাহিদুর রহমান মাঠে সক্রিয় ছিলেন। “দলের দুর্দিনে যারা আড়ালে সরে যায়, তিনি তাদের মতো নন। তিনি রাজপথে ছিলেন, সংগঠন ধরে রেখেছেন,” বলেন তিনি। পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈলে তৃণমূল সংগঠন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তাঁর আর্থিক ও ব্যক্তিগত ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান।
মোখলেসুর রহমান দাবি করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করা এই নেতা দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে একাধিকবার পীরগঞ্জে এনে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার ভূমিকা রাখেন তিনি, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতি আনে।
চেয়ারম্যানের ভাষায়, “ঠাকুরগাঁও-৩ আর প্রতিশ্রুতি চায় না—চায় বাস্তব উন্নয়ন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শক্ত অবস্থান না থাকলে বড় বাজেট, বড় প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল বা বিশেষ কৃষি কর্মসূচি আদায় করা কঠিন। জাহিদুর রহমান সেই লড়াই করতে সক্ষম।”
স্থানীয় নেতাকর্মীরাও একই সুরে বলেন, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি কেবল ব্যক্তিগত পদোন্নতি নয়—এটি হবে ঠাকুরগাঁও-৩-এর উন্নয়ন রাজনীতির মোড় ঘোরানোর সুযোগ। তাঁদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপের।
এলাকাজুড়ে তাই একটিই বার্তা উচ্চারিত হচ্ছে—“যোগ্য নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিন, ঠাকুরগাঁও-৩-কে বঞ্চিত রাখবেন না।”

























