ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ভূমিকম্প প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ক্যাম্পেইন এবং জাতীয় গনমাধ্যম এগিয়ে আসতে হবে

প্রতিনিধির নাম
  • ০৪:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 2

ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি

 

২২ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ভূমিকম্প থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের এখনই জরুরি ভিত্তিতে করণীয় ঠিক করা উচিত।’এবং গণমাধ্যমে বেশি বেশি করে প্রচারণা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যদি আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থাৎ সরকারে যারাই আছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তাহলে পুরান ঢাকার যে বিল্ডিংগুলোর কথা মনে মনে চিন্তা করেন, আর তুরস্কে বা ইরানে যে ভূমিকম্প হয় বা আফগানিস্তানে যে ভূমিকম্প হয় সেটার চিন্তা করেন। আর আজকে সকালে ভূমিকম্পে নিশ্চয়ই ভাবার কোন কারণ নেই যে আমাদের খুব আরামে থাকার সম্ভাবনা আছে।’

‘কাজেই সার্বিকভাবে আমি সরকারকে এবং সেই সাথে সচেতন সকল মানুষকে এবং এটার সাথে বিশেষ করে জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং যারা বিল্ডিংয়ের ডিজাইন এন্ড প্লানিং করেন সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, দিস ইজ রাইট টাইম। আর বেশি দেরি করলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, তার থেকে যাতে কম ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

গত শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।

জাহিদ বলেন, ‘আপনারা জানেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে ব্রাজিলে এবং সারা পৃথিবীর যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী যেসব উন্নত দেশ তাদের রেসপন্ড ঠিক ততটুকু নেই। যার জন্য ইদানিং দেখবেন বাংলাদেশে কখনো দেখা যাচ্ছে শীত খুব লম্বা হচ্ছে, কখনো গরম বেশি, কখনো কখনো আমাদের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।’

সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিলো ৫ দশমিক ৭। এই সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়।

হঠাৎ করে ভূমিকম্প শুরু হলে আলোচনা সভার নেতা-কর্মীরা দ্রুত মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে আসেন।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসের কথা অনেকের মনে আছে, শেরাটন হোটেলের সামনে দ্বিতলা বিআরটিসি বাসে গানপাউডার দিয়ে ১১ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল ১৭৪ দিন হরতাল করে। সেই সময়ে যারা এটা করেছিল, তারাই দেখেন আজকে বিচারের রায় হবে, সেটার আগে এবং পরে বিভিন্নভাবে দেশের মধ্যে সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসকে নিয়ে তারা আবার মাঠে নেমেছে।’

‘কাজেই জাতি ৫ আগস্টের পরে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল আজকে যদি আমাদের মধ্যে বিভাজন হয় তাহলে লাভ হবে কাদের? লাভ হবে ওই পতিত বা পলায়নকৃত স্বৈরাচারের দোসরদের। ওই ফাঁক দিয়ে আমাদের ঐক্য যদি বিনষ্ট করতে পারে, সেই ফাটল দিয়ে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করবে পতিত স্বৈরাচার। স্বৈরাচার পালিয়েছে, তাদের দোসররা কিন্তু আছে। মনে রাখতে হবে আপনার আমার আশেপাশের মানুষগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে তারা কি করছে? তারা কি আচরণ করছে?’

নির্বাচনের জন্য জনগণের রায় নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্যজীবী দলের উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব কে এম সোহেল রানা ও উত্তরের সদস্য সচিব বাকি বিল্লাহ‘র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মৎস্যজীবী দলের সদস্য সাবেক সচিব আবদুর রহিম, দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহ আলমসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ব্যাপক গণসচেতনতা বৃদ্ধি হলে এবং সবার কার্যকর ভূমিকা পালন করলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বলে আশা করা যায়। ভূমিকম্প এমন একটি দুর্যোগ এখন পর্যন্ত পৃথিবীর কেউ কোন বিশেষজ্ঞ কোন পূর্ব সংকেত আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে সচেতন থাকলে প্রাণহানি অনেকটা কমব বলে আশা করা যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভূমিকম্প প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ক্যাম্পেইন এবং জাতীয় গনমাধ্যম এগিয়ে আসতে হবে

০৪:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিভাগীয় প্রতিনিধি

 

২২ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ.জেড.এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ভূমিকম্প থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকারের এখনই জরুরি ভিত্তিতে করণীয় ঠিক করা উচিত।’এবং গণমাধ্যমে বেশি বেশি করে প্রচারণা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যদি আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থাৎ সরকারে যারাই আছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, তাহলে পুরান ঢাকার যে বিল্ডিংগুলোর কথা মনে মনে চিন্তা করেন, আর তুরস্কে বা ইরানে যে ভূমিকম্প হয় বা আফগানিস্তানে যে ভূমিকম্প হয় সেটার চিন্তা করেন। আর আজকে সকালে ভূমিকম্পে নিশ্চয়ই ভাবার কোন কারণ নেই যে আমাদের খুব আরামে থাকার সম্ভাবনা আছে।’

‘কাজেই সার্বিকভাবে আমি সরকারকে এবং সেই সাথে সচেতন সকল মানুষকে এবং এটার সাথে বিশেষ করে জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং যারা বিল্ডিংয়ের ডিজাইন এন্ড প্লানিং করেন সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, দিস ইজ রাইট টাইম। আর বেশি দেরি করলে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, তার থেকে যাতে কম ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

গত শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করেন।

জাহিদ বলেন, ‘আপনারা জানেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হচ্ছে ব্রাজিলে এবং সারা পৃথিবীর যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী যেসব উন্নত দেশ তাদের রেসপন্ড ঠিক ততটুকু নেই। যার জন্য ইদানিং দেখবেন বাংলাদেশে কখনো দেখা যাচ্ছে শীত খুব লম্বা হচ্ছে, কখনো গরম বেশি, কখনো কখনো আমাদের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।’

সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ সারা দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্রা ছিলো ৫ দশমিক ৭। এই সময়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়।

হঠাৎ করে ভূমিকম্প শুরু হলে আলোচনা সভার নেতা-কর্মীরা দ্রুত মিলনায়তন থেকে বেরিয়ে আসেন।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসের কথা অনেকের মনে আছে, শেরাটন হোটেলের সামনে দ্বিতলা বিআরটিসি বাসে গানপাউডার দিয়ে ১১ জন মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল ১৭৪ দিন হরতাল করে। সেই সময়ে যারা এটা করেছিল, তারাই দেখেন আজকে বিচারের রায় হবে, সেটার আগে এবং পরে বিভিন্নভাবে দেশের মধ্যে সেই পুরনো আগুন সন্ত্রাসকে নিয়ে তারা আবার মাঠে নেমেছে।’

‘কাজেই জাতি ৫ আগস্টের পরে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল আজকে যদি আমাদের মধ্যে বিভাজন হয় তাহলে লাভ হবে কাদের? লাভ হবে ওই পতিত বা পলায়নকৃত স্বৈরাচারের দোসরদের। ওই ফাঁক দিয়ে আমাদের ঐক্য যদি বিনষ্ট করতে পারে, সেই ফাটল দিয়ে ঢুকে পড়তে চেষ্টা করবে পতিত স্বৈরাচার। স্বৈরাচার পালিয়েছে, তাদের দোসররা কিন্তু আছে। মনে রাখতে হবে আপনার আমার আশেপাশের মানুষগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে তারা কি করছে? তারা কি আচরণ করছে?’

নির্বাচনের জন্য জনগণের রায় নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্যজীবী দলের উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব কে এম সোহেল রানা ও উত্তরের সদস্য সচিব বাকি বিল্লাহ‘র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মৎস্যজীবী দলের সদস্য সাবেক সচিব আবদুর রহিম, দক্ষিণের আহ্বায়ক শাহ আলমসহ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ব্যাপক গণসচেতনতা বৃদ্ধি হলে এবং সবার কার্যকর ভূমিকা পালন করলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বলে আশা করা যায়। ভূমিকম্প এমন একটি দুর্যোগ এখন পর্যন্ত পৃথিবীর কেউ কোন বিশেষজ্ঞ কোন পূর্ব সংকেত আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে সচেতন থাকলে প্রাণহানি অনেকটা কমব বলে আশা করা যায়।