ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফের চাল আমদানি শুরু হয়েছে, এতে করে সরবরাহ বাড়ায় কমছে চালের দাম

প্রতিনিধির নাম
  • ০৫:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 2

মোঃ সেলিম রেজা (শামিম) (ষ্টাফ রিপোর্টার)

 

হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় চালবোঝাই ট্রাক
আমদানি শুরু হয়েছে। সরকারের অনুমতি দেওয়ার পর দীর্ঘ চার মাস পর এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল আসতে শুরু করেছে। ফলে সরবরাহ বেড়ে পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট থেকে নিয়মিত চাল আমদানি হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ৩৩২টি ভারতীয় ট্রাকে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল দেশে প্রবেশ করেছে। আমদানির শুরুতে শুল্ক কর নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিলেও পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করায় সমস্যার সমাধান হয়। এর ফলে বর্তমানে নির্বিঘ্নে চাল আমদানি চলছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন জানান, আমদানির প্রথম কয়েক দিন কাস্টমসের সার্ভারে পুরনো শুল্ক হার দেখানো হচ্ছিল। তখন চালের উপর ৬৩ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত দেখা গেলেও পরে এনবিআর-এর নির্দেশনায় বর্তমান ২ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর হয়। এর পর থেকে প্রতিদিনই ভারতীয় ট্রাকে চাল প্রবেশ করছে।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, সরকারের এই উদ্যোগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। হিলির পরিচিত চাল আমদানিকারক ললিত কেশরা বলেন, “দেশে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হচ্ছে। এতে সরবরাহ বাড়ছে এবং কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।”

ভারত থেকে আসা চালের মধ্যে স্বর্ণা, সম্পা কাটারি, রত্না, মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাত রয়েছে। আরেক আমদানিকারক রনি জানান, চাল আমদানির খবর পেয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা হিলি বন্দরে আসছেন। দর কষাকষি করে তারা চাল কিনছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোকামে ভালো মানের চিকন চাল কেজিতে ৩ টাকা কমে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আঠাশ জাতের চাল কেজিতে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা এবং স্বর্ণা ৫২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চালের পাইকাররা বলছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তারা আশা করছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে সামনে আরও দাম কমবে। বগুড়া থেকে আসা এক পাইকার বলেন, “আমরা কয়েক দিন আগে যে দামে চাল কিনেছি, বৃহস্পতিবার তার চেয়ে ২-৩ টাকা কমে একই চাল পেয়েছি। সরবরাহ যথেষ্ট থাকায় এখন বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।”

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ চার মাস আমদানি বন্ধ থাকার কারণে বাজারে প্রভাব পড়েছিল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আমদানিকারকরা আবারও চাল আনতে পারছেন। এ কারণে হিলি বন্দর এলাকায় আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে চাল ব্যবসা।

সব মিলিয়ে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও কিছুটা কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানির এ ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফের চাল আমদানি শুরু হয়েছে, এতে করে সরবরাহ বাড়ায় কমছে চালের দাম

০৫:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

মোঃ সেলিম রেজা (শামিম) (ষ্টাফ রিপোর্টার)

 

হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় চালবোঝাই ট্রাক
আমদানি শুরু হয়েছে। সরকারের অনুমতি দেওয়ার পর দীর্ঘ চার মাস পর এই বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল আসতে শুরু করেছে। ফলে সরবরাহ বেড়ে পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট থেকে নিয়মিত চাল আমদানি হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ৩৩২টি ভারতীয় ট্রাকে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল দেশে প্রবেশ করেছে। আমদানির শুরুতে শুল্ক কর নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিলেও পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করায় সমস্যার সমাধান হয়। এর ফলে বর্তমানে নির্বিঘ্নে চাল আমদানি চলছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন জানান, আমদানির প্রথম কয়েক দিন কাস্টমসের সার্ভারে পুরনো শুল্ক হার দেখানো হচ্ছিল। তখন চালের উপর ৬৩ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত দেখা গেলেও পরে এনবিআর-এর নির্দেশনায় বর্তমান ২ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর হয়। এর পর থেকে প্রতিদিনই ভারতীয় ট্রাকে চাল প্রবেশ করছে।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, সরকারের এই উদ্যোগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। হিলির পরিচিত চাল আমদানিকারক ললিত কেশরা বলেন, “দেশে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হচ্ছে। এতে সরবরাহ বাড়ছে এবং কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।”

ভারত থেকে আসা চালের মধ্যে স্বর্ণা, সম্পা কাটারি, রত্না, মিনিকেটসহ বিভিন্ন জাত রয়েছে। আরেক আমদানিকারক রনি জানান, চাল আমদানির খবর পেয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা হিলি বন্দরে আসছেন। দর কষাকষি করে তারা চাল কিনছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোকামে ভালো মানের চিকন চাল কেজিতে ৩ টাকা কমে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আঠাশ জাতের চাল কেজিতে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা এবং স্বর্ণা ৫২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

চালের পাইকাররা বলছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তারা আশা করছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে সামনে আরও দাম কমবে। বগুড়া থেকে আসা এক পাইকার বলেন, “আমরা কয়েক দিন আগে যে দামে চাল কিনেছি, বৃহস্পতিবার তার চেয়ে ২-৩ টাকা কমে একই চাল পেয়েছি। সরবরাহ যথেষ্ট থাকায় এখন বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।”

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ চার মাস আমদানি বন্ধ থাকার কারণে বাজারে প্রভাব পড়েছিল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে আমদানিকারকরা আবারও চাল আনতে পারছেন। এ কারণে হিলি বন্দর এলাকায় আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে চাল ব্যবসা।

সব মিলিয়ে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও কিছুটা কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানির এ ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।