বিএনপি নেতাদের প্রতিহিংসামুলক কথা বর্জনের আহ্বান জানালেন সারজিস আলম
- ০২:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫
- / 2

বিশেষ প্রতিনিধি পঞ্চগড়
বিএনপি নেতাদের প্রতিহিংসা মুলক বক্তব্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরবঙ্গের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন রাজনীতীতে তারা আমাদের সিনিয়র। আমরা তাদের কাছে শিখব। শনিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ধাক্কামাড়া ইউনিয়নের মিড়গড় জেলা প্রশাসন ইকোপার্ক পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি প্রতিহিংসা মুলক বা কাওকে ছোট করে বক্তব্যের কালচারটা আবার তৈরী করেন যেটা আমরা দেখতাম শেখ হাসিনা ড. ইউনুসকে ছোট করে বিভিন্ন কথা বলতেন বা খালেদা জিয়াকে ছোট করে বিভিন্ন কথা বলতেন।
এটা কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বদের মধ্যে সৌহার্দ্যপুর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলেছিল। আমরা তো সিনিয়র রাজনিতীবীদদের কাছ থেকে একই কালচার বা একই আচরন তাদের মাধ্যমে দেখতে চাইনা। সেই জায়গায় আমরা মনে করি আমাদের জন্য যদি তাদের কোন পরামর্শ থাকে সেই পরামর্শ দেবেন এবং এই পরামর্শও একটি শ্রদ্ধা পূর্ন সম্পর্কের মাধ্যমে দেয়া উচিত। এটাই আমরা তাদের কাছে প্রত্যাশা করবো। তিনি বলেন বিএনপি এক নেতা বলেছেন যে আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশে শিক্ষা বা শিক্ষার যে পরিবেশ সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে এটা সত্যি যে কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্তু আমরা শেষ হয়ে গিয়েছে বা নষ্ট হয়ে গিয়েছে এটা আসলে বলতে পারিনা। একটা কথা হচ্ছে কি এই যে এখন বাংলাদেশের রাজনীতির পরিমন্ডলে কথা বলছে এই মানুষগুলো কিন্তু আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে কিনা এটারও কিন্তু নিশ্চয়তা ছিলনা। আমরা দেখেছি কিভাবে বিএনপির যারা অনেক বেশি স্ট্রাগল করেছিল গত ১৬ বছর ধরে তাদের বড় বড় নেতৃবৃন্দ কিভাবে কান্না কাটি করেছে সোস্যাল মিডিয়ার সামনে এসে যে তারা তাদের পরিবারের সামনে যেতে পারছেনা, তার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য তার ভাই মারা যাচ্ছে দাফন করতে যেতে পারছেনা এবং এই ছাত্রদের এতবড় ত্যাগ, এতো রক্তের পরেই কিন্তু এতো বড় একটি অভ্যুত্থান। এই মানুষগুলো এভাবে এখন মিডিয়ার সামনে এসে কিংবা বুক ফুলিয়ে তাদের জায়গা থেকে স্বাধিনভাবে কথা বলছে।
সো ক্ষতিটা অবশ্যই কিছটা না কিছু হয়েছে। পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। কিন্ত এই যে এতো বড় ত্যাগ এটা কিন্তু শুধু তাদের জন্য ত্যাগ নয় পুরো বাংলাদেশের জন্য ত্যাগ। ইভেন এই ত্যাগ তাদের জন্যও যারা এতোদিন রাজনীতিটা ঠিক মতো করতে পারেনি। আমি মনে করি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাটা সবসময় থাকা উচিত। কোন রাজনীতি এলো গেলো এটা ফ্যাক্ট না। আগামীর বাংলাদেশে যদি আমরা গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাই তাহলে যেই রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তাহলে যেই ছাত্ররা এই অভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের প্রতি এতটুকু শ্রদ্ধা সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের থাকা উচিত এবং আমি বিশ্বাস করি এ ক্ষেত্রে বিএনপি তাদের যায়গা থেকে কিংবা বিএনপির কোন নেতা তাদের যায়গা থেকে আরও বেশি এই দায়িত্বটি পালন করবেন। কারণ যেহেতু তারা বড় দল তাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সারজিস আলম এসময় আরও বলেন বাংলাদেশ ভারত পাশাপাশি দুটি দেশ কখনো এ দুটি দেশের সম্পর্ক এমন অবস্থায় যাবেনা যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা এটা প্রত্যাশা করিনা। কিন্তু ভারতের কাজ বা তারা বাংলাদেশকে কিভাবে ডিল করবে বা কোন চোখে দেখছে এই জিনিষগুলি ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কগুলি নির্ধারন করবে। কোন কিছু থেমে থাকেনা।
আমরা মনে করি আমাদেরকে কেউ যদি অনৈতিক ভাবে বা অযৌক্তিভাবে বঞ্চিত করে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিকল্প অপসন খুঁজে নেবে। এখন এই গোল্বাল ওয়াল্ডে সবকিছুরই অবশ্যই কোন না কিছু বা আরেকটি অপসন রয়েছে। এটি করে কিন্তু অনেক পরাশক্তি ছোট ছোট দেশ গুলোকে চেপে ধরার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওই ছোট ছোট শক্তি বা দেশ গুলো বিকল্প অসংখ্য পথের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আমরা মনে করি শুধু ভারত নয় এ ক্ষেত্রে পৃথিবীর যে কোন দেশই যদি আমাদেরকে এরকম চেপে ধরার চেষ্টা করে তাহলে আমরা মনে করি পুরো বিশ্ব আমাদের জন্য খালি রয়েছে। আমরা বিশ্বের অন্য যায়গায় যে যায়গায় আমাদের সমতার শ্রদ্ধার সুন্দর ভাতৃত্বের যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কটি রেখে আমরা আমাদের সুন্দর বানিজ্যিক সম্পর্ক করবে আমরা সেদিকে যাবো। সো এ ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বাস করি আমরা ভারত একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে নয় একটি দেশ হিসেবে ফাংশন করবে এবং দেশ হিসেবে আরেক দেশের সাথে তার যে বাণিজ্যিক চুক্তিগুলি সেগুলো তারা সম্পাদন করবে।

























