ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিষপানে একসঙ্গে মারা গেলেন স্বামী-স্ত্রী।

প্রতিনিধির নাম
  • ০৯:১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 1

ভালোবেসে মাত্র পাঁচ মাস আগে ঘর বাঁধেন মনিকা বেগম (১৮) ও মাহফুজ আলম (১৯)।

কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্প আজ রোববার ২৬ এপ্রিল মর্মান্তিক মৃত্যুতে শেষ হলো।

একইসঙ্গে বিষপান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ দম্পতি। পারিবারিক সূত্রে থেকে জানা যায়, দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজ।

পেশায় তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে তারা উভয় পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয় এবং তারা পারিবারিক ভাবেই বসবাস করছিলেন।ভালোবাসার টানে মাত্র পাঁচ মাস আগে ঘর বাঁধেন মনিকা বেগম (১৮) ও মাহফুজ আলম (১৯)।

কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্প রোববার (২৬ এপ্রিল) মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হলো। একসঙ্গে বিষপান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ দম্পতি।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজ।

পেশায় তিনি গার্মেন্টস কর্মী। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয় এবং তারা পারিবারিক ভাবেই বসবাস করছিলেন।

পরিবারের লোকজনের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য দেখা দিয়েছিল। আজ রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই দুজন বিষপান করেন।

মাহফুজের বাবা আজিজুর রহমান জানান, আজ রববার সকালে তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ রান্না শেষে পরিবারের সদস্যদের খাবার পরিবেশন করেন। তিনি খাবার শেষে হাওরে ধান কাটতে চলেগেলে কিছুক্ষণ পর খবর পেয়ে বাড়িতে দৌড়ে এসে দেখেন, তার ছেলে ও পুত্রবধূ রান্নাঘরে বিষপান করে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরবর্তীতে দ্রুত তাদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহফুজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মনিকা বেগমের মৃত্যু হয়। মাহফুজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে এমএজি উসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তিনি মারা গেছেন বলে শুনেছি।

এদিকে, দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানান, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বিষপানের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিষপানে একসঙ্গে মারা গেলেন স্বামী-স্ত্রী।

০৯:১০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ভালোবেসে মাত্র পাঁচ মাস আগে ঘর বাঁধেন মনিকা বেগম (১৮) ও মাহফুজ আলম (১৯)।

কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্প আজ রোববার ২৬ এপ্রিল মর্মান্তিক মৃত্যুতে শেষ হলো।

একইসঙ্গে বিষপান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ দম্পতি। পারিবারিক সূত্রে থেকে জানা যায়, দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজ।

পেশায় তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে তারা উভয় পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয় এবং তারা পারিবারিক ভাবেই বসবাস করছিলেন।ভালোবাসার টানে মাত্র পাঁচ মাস আগে ঘর বাঁধেন মনিকা বেগম (১৮) ও মাহফুজ আলম (১৯)।

কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্প রোববার (২৬ এপ্রিল) মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হলো। একসঙ্গে বিষপান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ দম্পতি।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মাহফুজ।

পেশায় তিনি গার্মেন্টস কর্মী। প্রায় পাঁচ মাস আগে একই গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয় এবং তারা পারিবারিক ভাবেই বসবাস করছিলেন।

পরিবারের লোকজনের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য দেখা দিয়েছিল। আজ রোববার দুপুরে হঠাৎ করেই দুজন বিষপান করেন।

মাহফুজের বাবা আজিজুর রহমান জানান, আজ রববার সকালে তার স্ত্রী ও পুত্রবধূ রান্না শেষে পরিবারের সদস্যদের খাবার পরিবেশন করেন। তিনি খাবার শেষে হাওরে ধান কাটতে চলেগেলে কিছুক্ষণ পর খবর পেয়ে বাড়িতে দৌড়ে এসে দেখেন, তার ছেলে ও পুত্রবধূ রান্নাঘরে বিষপান করে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরবর্তীতে দ্রুত তাদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহফুজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মনিকা বেগমের মৃত্যু হয়। মাহফুজের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে এমএজি উসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তিনি মারা গেছেন বলে শুনেছি।

এদিকে, দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানান, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বিষপানের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।