ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ফুলবাড়িয়ায় বিচ্ছেদ সইতে না পেরে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা।

প্রতিনিধির নাম
  • ১২:০৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 1

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রুবায়েত হাসান রাকিব (২৩) নামের যুবক ভালবাসার বিচ্ছেদ সইতে না পেরে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার (৪ মে) সকালে পৌর শহরের পোস্ট অফিস সংলগ্ন নিজ বাসায় রাকিবের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ। রাকিব ফুলবাড়িয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের বৈদ্যবাড়ী গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। রাকিব ফুলবাড়িয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি  ২০২০ ব্যাচের ছাত্র।

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল নুসরাত জাহান রীথি নামের এক মেয়েকে ময়মনসিংহ কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করে। নি’হত রাকিব আ’ত্মহত্যার পূর্বে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মৃ’ত্যুর জন্য স্ত্রী রীথি, রীথির পিতা, ভাই ও মামা সহ পুরো পরিবারকে দায়ী করে বিস্তারিত লিখে একটি পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন,

আমি রাকিব হোসেন আমার বউ নুসরাত জাহান রীথি। আমরা দীর্ঘ চার বছর  লিভিং রিলেশনশিপে ছিলাম  এবং ১৯/০৪/২০২৬ তারিখে দুজনের ইচ্ছাতে ময়মনসিংহ কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করি । এখন আমাদের সম্পর্কটা রীথির ফ্যামিলি এবং রীথি মানে না। আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে প্রথমে রীথির আব্বু মোহাম্মদ  মাকসুদুল আলম (মাসুদ) এবং রীথির ছোট ভাই রিফাত এবং তার মামা।

আর রীথির পুরো ফ্যামিলি আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। আমি আত্মহত্যা করি নাই আমারে খুন করা হয়েছে।

আমার জব নাই আমি বেকার ছেলে আরো অনেক কিছু বোঝাইছে রীথি সবকিছু বুঝে শুনে আমাকে বিয়ে করছে।এখন রীথি বলতেছে সে নাকি রাগের মাথায় আমার বিয়ে করছে আমি নাকি তার সুযোগ নিছি। এখন বলতেছে আমার সরকারি চাকরি না হইলে আমার  সাথে থাকবে না।

তিনি পোষ্টে আরো লিখেন, আপনারা সবাই আমার খুনের  সঠিক বিচারটা কইরেন। আর প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আমার ফ্যামিলি যাতে এর সঠিক বিচারটা পায়। আমি জানি তুমি আমারে  অনেক ভালোবাসো আমিও তোমারে অনেক ভালবাসি রীথি। হয়তো এখন তুমি তোমার ফ্যামিলি চাপের জন্য আমারে ভুল বুঝেছো। আমি তোমারে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি তাই তুমি আমারে খুন করলা। তোমারে আমি কথা দিয়েছিলাম তোমার কথা আমি রাখলাম। তুমি হয়তো এখন আমারে বোঝো নাই বুঝবা যখন আমি আর এই দুনিয়াতে থাকবো না। তখন বুঝলেও আর কোন লাভ হবে না।

আব্বু আম্মু আমি তোমাদের জন্য কোন কিছু করতে পারলাম না। তোমরা আমারে মাফ কইরা দিও।  তোমরা ভালো থাইকো তোমরা নিজেদের খেয়াল রাইখো। তোমাদের ছেলেকে তারা বাঁচতে দিল না খুন কইরা ফেলছে । আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম আমি সুন্দর সংসার করতে চেয়েছিলাম আমি রীথিকে অনেক ভালোবাসতে চেয়েছিলাম। দুনিয়ার মানুষের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন এটা কি আমার অপরাধ ছিল??

স্থানীয়রা জানান,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাকিবের ফেইসবুকে আত্ম হত্যার বিষয়টি জানতে পারলে আশেপাশের লোকজন রাকিবের বিষয়টি পরিবার কে জিজ্ঞেস করলে রাকিব ঘুমিয়ে আছে বলে জানান। পরে পরিবারের লোকজন সহ আশেপাশের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

নিহতের বড় ভাই মোঃ সাগর মিয়া জানান, কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ হওয়ার বিষয়টি মেয়ের অভিভাকরা মেনে নেয়নি। মেয়েকে তাদের বাড়িতে রেখে মারধর করে রাকিবের সাথে না মিশতে চাপ প্রয়োগ করে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।

এবিষয়ে অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলবাড়িয়ায় বিচ্ছেদ সইতে না পেরে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা।

১২:০৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রুবায়েত হাসান রাকিব (২৩) নামের যুবক ভালবাসার বিচ্ছেদ সইতে না পেরে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সোমবার (৪ মে) সকালে পৌর শহরের পোস্ট অফিস সংলগ্ন নিজ বাসায় রাকিবের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ। রাকিব ফুলবাড়িয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের বৈদ্যবাড়ী গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। রাকিব ফুলবাড়িয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি  ২০২০ ব্যাচের ছাত্র।

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল নুসরাত জাহান রীথি নামের এক মেয়েকে ময়মনসিংহ কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করে। নি’হত রাকিব আ’ত্মহত্যার পূর্বে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার মৃ’ত্যুর জন্য স্ত্রী রীথি, রীথির পিতা, ভাই ও মামা সহ পুরো পরিবারকে দায়ী করে বিস্তারিত লিখে একটি পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেন,

আমি রাকিব হোসেন আমার বউ নুসরাত জাহান রীথি। আমরা দীর্ঘ চার বছর  লিভিং রিলেশনশিপে ছিলাম  এবং ১৯/০৪/২০২৬ তারিখে দুজনের ইচ্ছাতে ময়মনসিংহ কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ করি । এখন আমাদের সম্পর্কটা রীথির ফ্যামিলি এবং রীথি মানে না। আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে প্রথমে রীথির আব্বু মোহাম্মদ  মাকসুদুল আলম (মাসুদ) এবং রীথির ছোট ভাই রিফাত এবং তার মামা।

আর রীথির পুরো ফ্যামিলি আমার এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে। আমি আত্মহত্যা করি নাই আমারে খুন করা হয়েছে।

আমার জব নাই আমি বেকার ছেলে আরো অনেক কিছু বোঝাইছে রীথি সবকিছু বুঝে শুনে আমাকে বিয়ে করছে।এখন রীথি বলতেছে সে নাকি রাগের মাথায় আমার বিয়ে করছে আমি নাকি তার সুযোগ নিছি। এখন বলতেছে আমার সরকারি চাকরি না হইলে আমার  সাথে থাকবে না।

তিনি পোষ্টে আরো লিখেন, আপনারা সবাই আমার খুনের  সঠিক বিচারটা কইরেন। আর প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আমার ফ্যামিলি যাতে এর সঠিক বিচারটা পায়। আমি জানি তুমি আমারে  অনেক ভালোবাসো আমিও তোমারে অনেক ভালবাসি রীথি। হয়তো এখন তুমি তোমার ফ্যামিলি চাপের জন্য আমারে ভুল বুঝেছো। আমি তোমারে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি তাই তুমি আমারে খুন করলা। তোমারে আমি কথা দিয়েছিলাম তোমার কথা আমি রাখলাম। তুমি হয়তো এখন আমারে বোঝো নাই বুঝবা যখন আমি আর এই দুনিয়াতে থাকবো না। তখন বুঝলেও আর কোন লাভ হবে না।

আব্বু আম্মু আমি তোমাদের জন্য কোন কিছু করতে পারলাম না। তোমরা আমারে মাফ কইরা দিও।  তোমরা ভালো থাইকো তোমরা নিজেদের খেয়াল রাইখো। তোমাদের ছেলেকে তারা বাঁচতে দিল না খুন কইরা ফেলছে । আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম আমি সুন্দর সংসার করতে চেয়েছিলাম আমি রীথিকে অনেক ভালোবাসতে চেয়েছিলাম। দুনিয়ার মানুষের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন এটা কি আমার অপরাধ ছিল??

স্থানীয়রা জানান,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাকিবের ফেইসবুকে আত্ম হত্যার বিষয়টি জানতে পারলে আশেপাশের লোকজন রাকিবের বিষয়টি পরিবার কে জিজ্ঞেস করলে রাকিব ঘুমিয়ে আছে বলে জানান। পরে পরিবারের লোকজন সহ আশেপাশের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে দেখেন ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

নিহতের বড় ভাই মোঃ সাগর মিয়া জানান, কোর্টের মাধ্যমে বিবাহ হওয়ার বিষয়টি মেয়ের অভিভাকরা মেনে নেয়নি। মেয়েকে তাদের বাড়িতে রেখে মারধর করে রাকিবের সাথে না মিশতে চাপ প্রয়োগ করে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।

এবিষয়ে অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।