দেবীগঞ্জে বন্ধ কালভার্টে জলাবদ্ধতা, তলিয়ে যাচ্ছে ৩০ বিঘা জমির ফসল,
- ০৭:১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 1
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি কালভার্টের একাংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ধানক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ২০ থেকে ৩০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বিঘা কৃষিজমি চাষাবাদের বাইরে চলে যেতে পারে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার চেংঠী হাজেরাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন হাট বাজার এলাকায়
গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের দক্ষিণ পাশ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। এতে অনেক জমির ধান তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশের কৃষিজমি পানির অভাবে শুকিয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, কালভার্ট দিয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ পাশেও ধান আবাদ করা সম্ভব হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে কালভার্টের উত্তর ও দক্ষিণ-উভয় পাশ দিয়েই স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচল করত। বর্তমানে উত্তর পাশ খোলা থাকলেও দক্ষিণ পাশ দোকান নির্মাণের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পানি বের হতে না পেরে আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ধানক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রয়েল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর এই কালভার্ট দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হতো। কিন্তু এবার দোকান নির্মাণের কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুত কালভার্টটি সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিক ইসলাম বলেন, পানি বের হতে না পারায় আমাদের ধানের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ২০ থেকে ৩০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।
আরেক কৃষক মো. রহিমুল ইসলাম বলেন, প্রায় আট মাস আগে কালভার্টের দক্ষিণ পাশে একটি ঢোল বসানো হয়। কিন্তু সেটি ব্রিজের তলানি থেকে প্রায় এক ফুট উঁচুতে বসানো হওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এ কারণেই ধানক্ষেতে পানি জমে ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এটি সংস্কার করা জরুরি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও তিনি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কালভার্টটি সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা করা না হলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নয়, ভবিষ্যতের চাষাবাদও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ভূমি অফিসের মাধ্যমে ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















