ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ইতালি পাঠানোর নামে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা,

শাহাদত হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
  • ০৩:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩
  • / 56

মোঃ শাহাদাত হোসেন,ষ্টাফ রিপোর্টার

 

 

আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র সুনামগঞ্জ ও সিলেটের অনেক ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ২১ আগষ্ট সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার হোসেনপুর গ্রামের সৈয়দ মশাহিদ আলীর স্ত্রী সানওয়ারা বেগম। এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার স্বামী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর্থিক ও সামাজিক উন্নতির আশায় ইউরোপ যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তিনি। তখন জগন্নাথ পুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের পড়ারগাঁও গ্রামের শাহীন আহমদের স্ত্রী আমিনা বেগম তালুকদার জানায় তার স্বামী শাহীন আহমদ লিবিয়ায় থাকেন এবং তিনি লিবিয়া হয়ে ইউরোপের দেশ ইটালিতে পাঠাতে পারবে। এ সময় একই গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র রোকন আহমদ, মৃত ইরশাদ আলীর পুত্র তোতা মিয়া ও ছন্দন মিয়া, এবং রুস্তুম উল্লাহর পুত্র হারুণ মিয়া, ও ইসহাক আলীর পুত্র শাহজাহান আহমদ, এবং সিলেট জেলার সালাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আকবর উপস্থিত ছিলেন। আকবর বলেন মাদারীপুর জেলার রায়েরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইতালি প্রবাসী জসিম বেপারীর ছেলে নজরুল বেপারী ইতালি নেওয়ার কথা বলে তার কাছে থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে,তার সাথে যুগাযুগ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। পরে জানা যায় এবং শাহীনের স্ত্রী আমিনার সাথে মিলে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে লোক পাঠান বলে নিশ্চিত এই চক্র। লিখিত বক্তব্যে সানোয়ারা জানান, আমিনা বেগম তালুকদারসহ তারা সবাই মিলে মশাহিদ আলীকে ইতালি পাঠানোর বিনিময়ে আমাদের কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা গ্রহণের চুক্তি করে। তখন শাহীনের স্ত্রী ও তার সহযোগী রোকন আহমদ, তোতা মিয়া ও ছন্দন মিয়া, শাহজাহান এবং হারুণ মিয়া মিলে রোকন মিয়ার মাধ্যমে মশাহিদ আলীর পাসপোর্ট বি কিউ ০৪৪৫২৮৬ ও প্রথম দফায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। সানোয়ারা অভিযোগ করে বলেন, আমিনা বেগম তালুকদার ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালে ২৯ নভেম্বর তার স্বামীকে প্রথমে আরব আমিরাতের দুবাই পাঠায়। দুবাই থেকে লিবিয়ায় নিয়ে পরে আরো ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করে। লিবিয়ায় নেওয়ার পর মানব পাচার চক্র তার স্বামী সৈয়দ মশাহিদ আলীকে জিম্মি করে ও বারবার শারীরিক নির্যাতন করে। মোশাহিদের লাশ সমূদ্রে ফেলে দেওয়ার ও গুম করার ভয় দেখিয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় তাদের কাছ থেকে মোট ২২ লাখ মুক্তিপণ আদায় করে। কিন্তু তাকে মুক্তি না দিয়ে কিংবা ইতালি না পাঠিয়ে মশাহিদ আলীকে গুম করে রাখে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি লিবিয়ায় জিম্মি থাকাবস্থায় আমিনা বেগম তালুকদারসহ উরফে আকলিমা তার সহযোগী রোকন আহমদ, তোতা মিয়া, ছন্দন মিয়া ও হারুণ মিয়ার কথায় আমিনার স্বামী শাহীন ও তার অজ্ঞাত সহযোগীরা অমানবিক নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করে রেখেছে। সানোয়ার অভিযোগ করেন এ বিষয়ে শাহীনের স্ত্রী আমিনা বেগম ও তার সহযোগীদের কাছে মশাহিদ আলীকে জীবিত অথবা মৃত ফেরত চাইলে তারা উল্টো সন্তানাদিসহ তাকে অপহরণ ও খুন গুম করার হুমকি দেয়। সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সানোয়ারা বেগম তার স্বামী সৈয়দ মশাহিদ আলীকে উদ্ধার ও আত্মসাৎকৃত ২২ লাখ টাকা ফেরত পেতে এবং আমিনা বেগম তালুকদার উরফে আকলিমা ও তার সহযোগী মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। আরেক ভুক্তভোগী আকবর বলেন এরা মানব পাচারকারী চক্র মাদারি পুরের নজরুল বেপারী বাড়িতে গিয়ে খুজ নিয়ে জানা যায় তার গত বছর তার এক আত্মীয়কে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ভূমধ্য সাগরে ডুবিয়ে মেরেছে। এর পর জানতে পারি অনেক বাড়িতে ভুক্তভোগীরা বলেন এদের হাত অনেক লম্বা। তাহারা প্রশাসনের কোন সহযোগিতার না পেয়ে। অনেকবার তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে জানতে পারি আমি জোর দাবি জানাচ্ছি মানুষের সাথে প্রতারণা  করে আসছে এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইতালি পাঠানোর নামে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা,

০৩:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০২৩

মোঃ শাহাদাত হোসেন,ষ্টাফ রিপোর্টার

 

 

আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র সুনামগঞ্জ ও সিলেটের অনেক ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ২১ আগষ্ট সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার হোসেনপুর গ্রামের সৈয়দ মশাহিদ আলীর স্ত্রী সানওয়ারা বেগম। এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার স্বামী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর্থিক ও সামাজিক উন্নতির আশায় ইউরোপ যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তিনি। তখন জগন্নাথ পুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের পড়ারগাঁও গ্রামের শাহীন আহমদের স্ত্রী আমিনা বেগম তালুকদার জানায় তার স্বামী শাহীন আহমদ লিবিয়ায় থাকেন এবং তিনি লিবিয়া হয়ে ইউরোপের দেশ ইটালিতে পাঠাতে পারবে। এ সময় একই গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র রোকন আহমদ, মৃত ইরশাদ আলীর পুত্র তোতা মিয়া ও ছন্দন মিয়া, এবং রুস্তুম উল্লাহর পুত্র হারুণ মিয়া, ও ইসহাক আলীর পুত্র শাহজাহান আহমদ, এবং সিলেট জেলার সালাম ইউনিয়নের বাসিন্দা আকবর উপস্থিত ছিলেন। আকবর বলেন মাদারীপুর জেলার রায়েরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইতালি প্রবাসী জসিম বেপারীর ছেলে নজরুল বেপারী ইতালি নেওয়ার কথা বলে তার কাছে থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে,তার সাথে যুগাযুগ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। পরে জানা যায় এবং শাহীনের স্ত্রী আমিনার সাথে মিলে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে লোক পাঠান বলে নিশ্চিত এই চক্র। লিখিত বক্তব্যে সানোয়ারা জানান, আমিনা বেগম তালুকদারসহ তারা সবাই মিলে মশাহিদ আলীকে ইতালি পাঠানোর বিনিময়ে আমাদের কাছ থেকে নগদ ৭ লাখ টাকা গ্রহণের চুক্তি করে। তখন শাহীনের স্ত্রী ও তার সহযোগী রোকন আহমদ, তোতা মিয়া ও ছন্দন মিয়া, শাহজাহান এবং হারুণ মিয়া মিলে রোকন মিয়ার মাধ্যমে মশাহিদ আলীর পাসপোর্ট বি কিউ ০৪৪৫২৮৬ ও প্রথম দফায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। সানোয়ারা অভিযোগ করে বলেন, আমিনা বেগম তালুকদার ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালে ২৯ নভেম্বর তার স্বামীকে প্রথমে আরব আমিরাতের দুবাই পাঠায়। দুবাই থেকে লিবিয়ায় নিয়ে পরে আরো ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করে। লিবিয়ায় নেওয়ার পর মানব পাচার চক্র তার স্বামী সৈয়দ মশাহিদ আলীকে জিম্মি করে ও বারবার শারীরিক নির্যাতন করে। মোশাহিদের লাশ সমূদ্রে ফেলে দেওয়ার ও গুম করার ভয় দেখিয়ে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় তাদের কাছ থেকে মোট ২২ লাখ মুক্তিপণ আদায় করে। কিন্তু তাকে মুক্তি না দিয়ে কিংবা ইতালি না পাঠিয়ে মশাহিদ আলীকে গুম করে রাখে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি লিবিয়ায় জিম্মি থাকাবস্থায় আমিনা বেগম তালুকদারসহ উরফে আকলিমা তার সহযোগী রোকন আহমদ, তোতা মিয়া, ছন্দন মিয়া ও হারুণ মিয়ার কথায় আমিনার স্বামী শাহীন ও তার অজ্ঞাত সহযোগীরা অমানবিক নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করে রেখেছে। সানোয়ার অভিযোগ করেন এ বিষয়ে শাহীনের স্ত্রী আমিনা বেগম ও তার সহযোগীদের কাছে মশাহিদ আলীকে জীবিত অথবা মৃত ফেরত চাইলে তারা উল্টো সন্তানাদিসহ তাকে অপহরণ ও খুন গুম করার হুমকি দেয়। সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সানোয়ারা বেগম তার স্বামী সৈয়দ মশাহিদ আলীকে উদ্ধার ও আত্মসাৎকৃত ২২ লাখ টাকা ফেরত পেতে এবং আমিনা বেগম তালুকদার উরফে আকলিমা ও তার সহযোগী মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে। আরেক ভুক্তভোগী আকবর বলেন এরা মানব পাচারকারী চক্র মাদারি পুরের নজরুল বেপারী বাড়িতে গিয়ে খুজ নিয়ে জানা যায় তার গত বছর তার এক আত্মীয়কে ইতালি নেওয়ার কথা বলে ভূমধ্য সাগরে ডুবিয়ে মেরেছে। এর পর জানতে পারি অনেক বাড়িতে ভুক্তভোগীরা বলেন এদের হাত অনেক লম্বা। তাহারা প্রশাসনের কোন সহযোগিতার না পেয়ে। অনেকবার তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে জানতে পারি আমি জোর দাবি জানাচ্ছি মানুষের সাথে প্রতারণা  করে আসছে এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।