ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা

টাঙ্গাইলে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ: গ্রাহকের বয়স কমিয়ে ভুয়া আইডি কার্ডে ডিপিএস খোলার পাঁয়তারা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • ০৯:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 14

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড-এর শাখা ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এক সরল-সোজা নারী গ্রাহকের বয়স জালিয়াতি করে ডিপিএস খোলার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গ্রাহকের অজান্তেই তার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতিয়ে নিয়ে বয়স ২ বছর কমিয়ে ভুয়া ফটোকপি তৈরির সময় হাতেনাতে

বিষয়টি ধরে ফেলেন সাংবাদিকরা। সম্পূর্ণ ঘটনাটি সাংবাদিকদের গোপন ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী গ্রাহকের নাম মোছা: সাজেদা বেগম (MST. SAJADA BEGUM)। তিনি ঘাটাইল

উপজেলার গৌরিশ্বর (দোপা ভাট পাড়া) গ্রামের মোঃ শফি উদ্দিনের স্ত্রী এবং মোছাঃ রহিমা খাতুনের কন্যা।

তার মূল এনআইডি (নং- ৯৩১২৮৯৪৫১৩১৬৩) অনুযায়ী জন্ম তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮০।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাজেদা বেগম ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ঘাটাইল শাখায় ১০ বছর মেয়াদী একটি ডিপিএস (বীমা) করতে যান।

কিন্তু উক্ত বীমা কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ডিপিএস করার যে নির্ধারিত বয়সসীমা রয়েছে, সাজেদা বেগমের বর্তমান বয়স তার চেয়ে ২ বছর বেশি। বীমা পলিসির এই টেকনিক্যাল বিষয়টি ওই সরল-সোজা নারী জানতেন না।

গ্রাহকের এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ঘাটাইল শাখার ম্যানেজার মুক্তার হোসেন আকন্দ কৌশলে সাজেদা বেগমের কাছ থেকে তার মূল ভোটার আইডি কার্ডটি হাতিয়ে নেন।

এরপর বয়স ২ বছর কমিয়ে একটি ভুয়া এনআইডি-র ফটোকপি তৈরি করার জন্য অফিসের পিয়নকে দিয়ে বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে পাঠান।

বিষয়টি টের পেয়ে দোকানে গিয়ে দায়িত্বরত পিয়নের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে, পিয়ন অকপটে জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

গোপন ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পিয়ন বলছেন— গ্রাহক সাজেদা বেগমের বয়স ২ বছর বেশি হওয়ায় তিনি ডেল্টা লাইফের নিয়ম অনুযায়ী ডিপিএস করতে পারবেন না।

তাই গ্রাহকের সম্পূর্ণ অজান্তেই বয়স ২ বছর কমিয়ে ১০ বছরের নামে একটি ডিপিএস করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পিয়ন আরও মন্তব্য করেন, “২-৪ বছর বয়স কমানো তেমন কোনো সমস্যাই না।

” অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালিয়াতির আদেশ দেওয়া ওই ম্যানেজারের নাম মুক্তার হোসেন আকন্দ, যার বাড়ি ঘাটাইল পৌরসভাধীন বানিয়াপাড়া গ্রামে এবং উক্ত পিয়নের নাম রুলিফা।

বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ম্যানেজার ও পিয়ন মিলে ওই গ্রাহকের সাথে এক চরম প্রতারণার জাল বিছিয়েছেন।

কারণ, এনআইডি জালিয়াতি করে ডিপিএস করা হলে ওই গ্রাহক যদি ১০ বছরের মধ্যে

মারা যান, তবে তার পরিবার এক টাকাও দাবি (ক্লেম) তুলতে পারবে না। আবার বেঁচে থাকলেও ১০ বছর পর মেয়াদ শেষে তিনি টাকা তুলতে পারবেন না। কারণ মূল

এনআইডির সাথে বীমা নথির বয়সের মিল না থাকায় আইনগতভাবে সাজেদা বেগম কোনো টাকাই পাবেন না। ফলে গ্রাহকের জমানো সব টাকা ডেল্টা লাইফের এই চক্রটি আত্মসাৎ করার পথ তৈরি করছিল।

এক নিরীহ ও সরল গ্রাহককে এভাবে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে প্রতারিত করার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ: গ্রাহকের বয়স কমিয়ে ভুয়া আইডি কার্ডে ডিপিএস খোলার পাঁয়তারা

০৯:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড-এর শাখা ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এক সরল-সোজা নারী গ্রাহকের বয়স জালিয়াতি করে ডিপিএস খোলার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গ্রাহকের অজান্তেই তার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতিয়ে নিয়ে বয়স ২ বছর কমিয়ে ভুয়া ফটোকপি তৈরির সময় হাতেনাতে

বিষয়টি ধরে ফেলেন সাংবাদিকরা। সম্পূর্ণ ঘটনাটি সাংবাদিকদের গোপন ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে নিখুঁতভাবে ধরা পড়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী গ্রাহকের নাম মোছা: সাজেদা বেগম (MST. SAJADA BEGUM)। তিনি ঘাটাইল

উপজেলার গৌরিশ্বর (দোপা ভাট পাড়া) গ্রামের মোঃ শফি উদ্দিনের স্ত্রী এবং মোছাঃ রহিমা খাতুনের কন্যা।

তার মূল এনআইডি (নং- ৯৩১২৮৯৪৫১৩১৬৩) অনুযায়ী জন্ম তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮০।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাজেদা বেগম ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ঘাটাইল শাখায় ১০ বছর মেয়াদী একটি ডিপিএস (বীমা) করতে যান।

কিন্তু উক্ত বীমা কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ডিপিএস করার যে নির্ধারিত বয়সসীমা রয়েছে, সাজেদা বেগমের বর্তমান বয়স তার চেয়ে ২ বছর বেশি। বীমা পলিসির এই টেকনিক্যাল বিষয়টি ওই সরল-সোজা নারী জানতেন না।

গ্রাহকের এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ঘাটাইল শাখার ম্যানেজার মুক্তার হোসেন আকন্দ কৌশলে সাজেদা বেগমের কাছ থেকে তার মূল ভোটার আইডি কার্ডটি হাতিয়ে নেন।

এরপর বয়স ২ বছর কমিয়ে একটি ভুয়া এনআইডি-র ফটোকপি তৈরি করার জন্য অফিসের পিয়নকে দিয়ে বাজারের একটি ফটোকপির দোকানে পাঠান।

বিষয়টি টের পেয়ে দোকানে গিয়ে দায়িত্বরত পিয়নের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে, পিয়ন অকপটে জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেন।

গোপন ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পিয়ন বলছেন— গ্রাহক সাজেদা বেগমের বয়স ২ বছর বেশি হওয়ায় তিনি ডেল্টা লাইফের নিয়ম অনুযায়ী ডিপিএস করতে পারবেন না।

তাই গ্রাহকের সম্পূর্ণ অজান্তেই বয়স ২ বছর কমিয়ে ১০ বছরের নামে একটি ডিপিএস করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পিয়ন আরও মন্তব্য করেন, “২-৪ বছর বয়স কমানো তেমন কোনো সমস্যাই না।

” অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালিয়াতির আদেশ দেওয়া ওই ম্যানেজারের নাম মুক্তার হোসেন আকন্দ, যার বাড়ি ঘাটাইল পৌরসভাধীন বানিয়াপাড়া গ্রামে এবং উক্ত পিয়নের নাম রুলিফা।

বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ম্যানেজার ও পিয়ন মিলে ওই গ্রাহকের সাথে এক চরম প্রতারণার জাল বিছিয়েছেন।

কারণ, এনআইডি জালিয়াতি করে ডিপিএস করা হলে ওই গ্রাহক যদি ১০ বছরের মধ্যে

মারা যান, তবে তার পরিবার এক টাকাও দাবি (ক্লেম) তুলতে পারবে না। আবার বেঁচে থাকলেও ১০ বছর পর মেয়াদ শেষে তিনি টাকা তুলতে পারবেন না। কারণ মূল

এনআইডির সাথে বীমা নথির বয়সের মিল না থাকায় আইনগতভাবে সাজেদা বেগম কোনো টাকাই পাবেন না। ফলে গ্রাহকের জমানো সব টাকা ডেল্টা লাইফের এই চক্রটি আত্মসাৎ করার পথ তৈরি করছিল।

এক নিরীহ ও সরল গ্রাহককে এভাবে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে প্রতারিত করার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।