ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

ফুলবাড়ীয়ায় আলোচিত রাকিব রায়হানের নিখোঁজের ১০দিন পর লাশ ২৪ দিন পর আসামি গ্রেফতার

প্রতিনিধির নাম
  • ০২:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 4

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়ায়েতপুর গ্রামের বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত সিপাহি রায়হান তালুকদার

নিখোঁজের ১০দিন পর বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ৩ পুটলায় ১৫ টুকরো লাশ ও ২৪ দিন পর প্রধান আসামি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ( ২৫ আগস্ট) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলগেইট এলাকা থেকে আসামি রাজু ও জিতুলকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানাগেছে, নিহত আবু রায়হান গত২৩ জুলাই  রাতে নিজ বাড়িতে আসেন। বাড়ির রক্ষাবেক্ষণকারী (কেয়ারটেকার) রাজুকে নিয়ে রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরের দিন শুক্রবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্যেশে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় রাজু। দুই দিন পর সোমবার তার অফিসের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটি কে মোবাইল ফোনে জানান আবু রায়হান অফিসে আসেননি।

তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ছোট ভাই নিখোঁজ উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করেন।

পরের দিন জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তার কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। তারা দু’জনেই মাদকাসক্ত। নিখোঁজের দশদিন পর বাড়ির তিনশগজ পূর্বে পরিত্যাক্ত একটি পুকুরে ৩টি ব্যাগে খন্ডিত লাশ পাওয়া যায়।
সহকারী পুলিশ সুপার ( ত্রিশাল সার্কেল) এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কয়েকটি টিম প্রায় মাস খানেক ধরে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

আসামিরা বিভিন্ন সময় ঢাকা,চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সর্বশেষ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করছিলেন। ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই শুভ্রত’সাহার নেতৃত্বে চৌকস দল ৪ দিন একটানা অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে আলামত সংগ্রহের জন্য খুনের ঘটনা স্থলে আসামীদের নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে খুনের আলামত হিসেবে স্টেইনলেস স্টিলের চাপাতি,ধারালো চাকু, রক্তমাখা বালিশ-কভার-তুলা,লোহার রড, কাঠের গুড়ি উদ্ধার করি।

এখন আইনগত পক্রিয়া শেষ করব। আগামীকাল ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার  (এসপি স্যার) বিস্তারিত জানিয়ে বিফ্রিং দিবেন বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলবাড়ীয়ায় আলোচিত রাকিব রায়হানের নিখোঁজের ১০দিন পর লাশ ২৪ দিন পর আসামি গ্রেফতার

০২:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়ায়েতপুর গ্রামের বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত সিপাহি রায়হান তালুকদার

নিখোঁজের ১০দিন পর বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ৩ পুটলায় ১৫ টুকরো লাশ ও ২৪ দিন পর প্রধান আসামি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ( ২৫ আগস্ট) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রেলগেইট এলাকা থেকে আসামি রাজু ও জিতুলকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানাগেছে, নিহত আবু রায়হান গত২৩ জুলাই  রাতে নিজ বাড়িতে আসেন। বাড়ির রক্ষাবেক্ষণকারী (কেয়ারটেকার) রাজুকে নিয়ে রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরের দিন শুক্রবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্যেশে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় রাজু। দুই দিন পর সোমবার তার অফিসের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটি কে মোবাইল ফোনে জানান আবু রায়হান অফিসে আসেননি।

তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ছোট ভাই নিখোঁজ উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করেন।

পরের দিন জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তার কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। তারা দু’জনেই মাদকাসক্ত। নিখোঁজের দশদিন পর বাড়ির তিনশগজ পূর্বে পরিত্যাক্ত একটি পুকুরে ৩টি ব্যাগে খন্ডিত লাশ পাওয়া যায়।
সহকারী পুলিশ সুপার ( ত্রিশাল সার্কেল) এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, আসামিদের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কয়েকটি টিম প্রায় মাস খানেক ধরে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

আসামিরা বিভিন্ন সময় ঢাকা,চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সর্বশেষ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থান করছিলেন। ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই শুভ্রত’সাহার নেতৃত্বে চৌকস দল ৪ দিন একটানা অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পরে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে আলামত সংগ্রহের জন্য খুনের ঘটনা স্থলে আসামীদের নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে খুনের আলামত হিসেবে স্টেইনলেস স্টিলের চাপাতি,ধারালো চাকু, রক্তমাখা বালিশ-কভার-তুলা,লোহার রড, কাঠের গুড়ি উদ্ধার করি।

এখন আইনগত পক্রিয়া শেষ করব। আগামীকাল ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার  (এসপি স্যার) বিস্তারিত জানিয়ে বিফ্রিং দিবেন বলে জানান তিনি।