ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা

কুমিল্লা বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার,

প্রতিনিধির নাম
  • ০৬:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 3

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার (২ জুন) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবু এবং তার ছেলে দিদারুল আলম নাফিজ (১৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সাইফুল ইসলামের মেয়ে নেহা প্রেমের সম্পর্কের কারণে উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে চলে যায়। এ ঘটনার জেরে তুহিনকে সন্দেহ করে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও রড দিয়ে বুকে, পিঠে ও পায়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তুহিনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, মামলার তদন্ত চলাকালে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।

তবে প্রধান আসামিরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ তৎপরতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুল আলম শাহ জাানান বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

অপরাধ দমন ও চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লা বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার,

০৬:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার (২ জুন) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবু এবং তার ছেলে দিদারুল আলম নাফিজ (১৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সাইফুল ইসলামের মেয়ে নেহা প্রেমের সম্পর্কের কারণে উজ্জ্বল নামের এক যুবকের সঙ্গে চলে যায়। এ ঘটনার জেরে তুহিনকে সন্দেহ করে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও রড দিয়ে বুকে, পিঠে ও পায়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তুহিনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা যায়, মামলার তদন্ত চলাকালে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে।

তবে প্রধান আসামিরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ তৎপরতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুল আলম শাহ জাানান বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে তাদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

অপরাধ দমন ও চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।