জীবিকার সন্ধানে যাওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত ফুলবাড়িয়ার যুবক।
- ০৫:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 3
মির্জা মোঃ মনজুরুল হক,ফুলবাড়িয়া
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত যুবক আ: রহিমের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় চলছে শোকের মাতম। আসন্ন ঈদে কুরবানীর টাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা আর পাঠানো হল না তার। গত ২ মে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন ফুলবাড়িয়ার আ: রহিম।
জানা যায়, নিহত আব্দুর রহিম জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। জীবিকার সন্ধানে গত বছরের অক্টোবর মাসে রাশিয়ায় যায় রহিম। সেখানে কিছুদিন যাবত চাকরি করে বেতন ভাতাদি বাড়িতে পাঠান। পাঠানো টাকা দিয়ে বিদেশ
যাওয়ার সময় ধার-দেনা করা ঋণ পরিশোধ করেন বাবা। গত মাসে কোম্পানী পরিবর্তনের কথা বলে টাকা পাঠাননি রহিম। ২৮ এপ্রিল ছোট ভাই আ: রাজ্জাকের সাথে কথা হয় রহিমের। আসন্ন ঈদে টাকা পাঠানোর কথা বললে ঐ প্রান্ত থেকে আ: রহিম জানান, ঈদের অনেক বাকী, নতুন কোম্পানী তারপরও ঈদের আগেই টাকা পাঠিয়ে দিবো। পরে জানতে পারেন, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন বলেও দাবি স্বজনদের।
গত ২ মে রুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রহিম নিহত হন।
ওই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।
নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত হয় গত সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। রহিমের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানান।
লিমন নিজেও একই ক্যাম্পে রুশ সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সহজ সরল মা নিজেকে কোনভাবেই সামলাতে পারছেন না। মাঝে মধ্যেই মুর্চা যাচ্ছেন তিনি। প্রথম ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা। স্বজনেরা মাথায় পানি ঢালছেন। খবর পেয়ে নিকটাত্মীয়রা আসছেন আর বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় খোকন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, উনি (আ. রহিম) খুব শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কোনদিন কারো সাথে আচরন খারাপ করেননি।
তিনি খুব পিতা-মাতা ভক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে আমরা খুব মর্মাহত। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, অভাবের সংসারে ছেলে আ: রহিম ই ছিল একমাত্র ভরসা। তার বয়স ৩০ হলেও সে অবিবাহিত। আমরা তার বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম সে বলেছে, ঋণ শেষে ঘর বাড়ি করে বিয়ে করবে।
এখন ঋণ শেষ হয়েছে, কিন্তু আমার পুত্রধন আর নেই। ওর মাকে আমি বুঝাতে পারছি না। আমার সাথে সর্বশেষ ২৫-২৬ এপ্রিল কথা হয়েছিল। ঐ সময় বলেছে আব্বা আমি কোম্পানী পরিবর্তন করেছি। যেখানে গিয়েছি, ভালো আছি, খাওয়া দাওয়ার কোন সমস্যা নাই। আমার জন্য কোন টেনশন করবে না। আমার কাছে বলে নাই, সে যে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। আমি যদি জানতাম তাকে সেখানে যেতে দিতাম না।
এদিকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন। আশ্বস্ত করেছেন লাশ ফিরিয়ে আনতে সবধরনের সহযোগিতা করার।



















