পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের সাহেবপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বাদাম ওয়াশ মিল।
মিলটি চালানোর সময় ব্যাপক ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়।
এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাহেবপাড়া এলাকায় ‘নবান এগ্রো মিল’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে বাদাম ওয়াশের কাজ চলছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলটি চালু থাকায় উৎপন্ন ধুলাবালি আশপাশের পরিবেশ ও সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আনুমানিক ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলটি চালু থাকায় ধুলাবালির কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন।
এতে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও
কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবহুল সড়কের পাশে এ ধরনের ধুলা সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁদের দাবি, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মিলটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হোক।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মিলটির মালিক মাহাবুব হোসেনের শ্বশুর প্রয়াত সায়েদ হোসেন পামুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
তিনি ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মাহাবুব হোসেনও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
এদিকে, মিলটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে এবং সেগুলো দেখতে মালিক মাহাবুব হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন প্রতিবেদক।
অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্র দেখানোর বিষয়ে সহযোগিতা না করে তিনি সাংবাদিককে অশ্রাব্য ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকি
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করেও অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ফলে মিলটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পরিচালনার বৈধতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পামুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মণি ভূষণ রায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির শুধু ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে, অন্য কোনো কাগজপত্র নেই।
আমি তাকে একাধিকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু তিনি আমার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজের মতো করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।”
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
চেয়ারম্যান: নাজমুল হক ভূইয়া
সম্পাদক: মোঃ গোলাম রাব্বানী, প্রকাশক: শাহীনুর আক্তার
সম্পাদকীয় বার্তা কার্যালয়:
৬৫৭, হাজী সলিমুল্লাহ রোড, নামা শ্যামপুর,
ফরিদাবাদ, কদমতলী, ঢাকা-১২০৪।
স্বত্ব © ২০২৬ লোকালয় বার্তা