সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের সতরো টেকারবাড়ি গ্রামে রুজি বেগম (২১) নামের এক গৃহবধূকে পরিকল্পিত ভাবে শ্বাসরোধ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামীসহ তিনজনকে আটক করেছে। রুজি বেগম সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানার দেবাইরবহর গ্রামের মোঃ হারিছ আলীর মেয়ে। এ ঘটনায় রুজির ভাই মোঃ শহীদ মিয়া বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জানা যায়, জালালাবাদ থানার সতরো টেকারবাড়ি গ্রামের আক্কেল আলীর ছেলে নূর আহমদের (২৮) সাথে রুজি বেগমের বছর খানেক আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো। অভিযোগ রয়েছে, স্বামী ও স্বামীর পরিবারের সদস্যরা একটি নোহা গাড়ি কেনার জন্য রুজির পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলো। বৃদ্ধ বাবা যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার ওপর অমানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো এবং প্রায়ই খাবার না দিয়ে অনাহারে রাখা হতো।
এ ব্যাপারে প্রায়ই তাহার বাবা ও ভাইদের বলতো। তখন বাবা - মা ভাইয়েরা মেয়ের এই নির্যাতন কথা শুনেও তারা মেয়েকে প্রায় সময় সান্ত্বনা দিতেন একটু ধৈর্য্য ধর একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে। এর আগেও গত ৩১ মে যৌতুকের জন্য তাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হলে, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তীতে জালালাবাদ থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পুনরায় আর নির্যাতন করা হবে না মর্মে সালিশে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রুজিকে আবার তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রুজির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় আসামিরা পুনরায় মারধর করে বলে রুজি বেগম তার ভাই আব্দুস সহিদ জানালে। এর কিছুক্ষণ পর থেকে রুজির সাথে মা-বাবা তাহার ভাইদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তাদের সন্দেহ হলে পরে রুজির স্বজনরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে ঘরের ভেতর রুজি বেগমকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখতে পায়। তবে তার পা বিছানায় স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল শরীর সম্পূর্ণ পানিতে ভিজা ছিলো। পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা নির্যাতন করে মেরে ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোদ্ব হত্যা করে ঝুলিয়ে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
ঘটনার খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত নূর আহমদ (২৮) আক্কেল আলী (৫৫) ও লেবু নেছাকে (৫০) আটক এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে রবিবার বিকেলে রুজির লাশ বাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব জানান, এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান: নাজমুল হক ভূইয়া
সম্পাদক: মোঃ গোলাম রাব্বানী, প্রকাশক: শাহীনুর আক্তার
সম্পাদকীয় বার্তা কার্যালয়:
৬৫৭, হাজী সলিমুল্লাহ রোড, নামা শ্যামপুর,
ফরিদাবাদ, কদমতলী, ঢাকা-১২০৪।
স্বত্ব © ২০২৬ লোকালয় বার্তা