শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৫৪ বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে ফুলবাড়িয়ায় দাড়িপাল্লার ঐতিহাসিক বিজয়

মির্জা মোঃ মনজুরুল হক,ফুলবাড়িয়া,

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ ৬ ফুলবাড়ীয়া আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ( দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে) ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন।

৫৪ বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে ফুলবাড়িয়ায় দাড়িপাল্লার ঐতিহাসিক বিজয়। সুদর্শন, স্মার্ট ও সদা হাস্যউজ্জল এই ব্যক্তির বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা । নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই তিনি এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ফুলবাড়ীয়া গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) রাতে ফলাফল ঘোষণার পরে চত্বর প্রাঙ্গণে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন ৭৫,৯৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা (ফুটবল) পেয়েছেন ৫২,৬৬৯ ভোট।

অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন এই বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতার মাঝে বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি এই বিজয়কে ফুলবাড়ীয়ার ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক এবং আপামর জনগণের বিজয় বলে অভিহিত করেন। বলেন, আমি কোনো অঞ্চলের নেতা হতে চাই না, কোনো দলের নেতা হতে চাই না। আমি উপজেলার উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম প্রতিটি জনপদের মানুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। বিজয়ী ভাষণে কামরুল হাসান মিলন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, আমার সহযোদ্ধা যে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাদেরকে আমি সম্মানের সাথে স্মরণ করি। আমরা মনে করি আপনারাও ফুলবাড়ীয়ার সম্পদ। নির্বাচনে একজন বিজয়ী হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি বিজয়ী হয়েছি মানে এই নয় যে, আমি একাই ফুলবাড়ীয়াকে গড়ে তুলতে পারব। তাই সকালের সহযোগিতায় আমি ফুলবাড়িয়া উন্নয়ন করব।

অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন ফুলবাড়ীয়া পুনর্গঠনে তরুণ সমাজ এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সকল প্রতিহিংসা, সকল অনৈক্য পেছনে ফেলে আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। এর আগে তিনি ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কোনো প্রকার বিজয় মিছিল না করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমিরে জামায়াতের ঘোষণা, আমরা কোনো বিজয় মিছিল করতে চাই না। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী   রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর করা ফলাফল শিট অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,৩০,৭৮১ জন এবং ভোট পড়ার হার ৫৬.৯২%। ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৫১,২৩৪ ভোট, ধানের শীষে বিএনপি মনোনীত আখতারুল আলম ফারুক ৪৮,৯৯৪ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে মুফতী নূরে আলম সিদ্দিকী ১,৯৩৮ ভোট পেয়েছন।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন