প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৪, ২০২৬, ৪:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৮, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
রাজারহাটের স্ত্রীর স্কীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খিতাবখাঁ গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী নারী সহ এলাকার প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ।
সোমবার ৮ই জুন বিকেল ৫ টায়
এ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের পার্শ্ববর্তী রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়া মহল গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে সামিনার সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের সোলেমান মুন্সীর চতুর্থ পুত্র রফিকুল ইসলাম।
বিয়ের পরে তাদের সংসারে রোমানা নামের এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
বিয়ের পর রফিকুল ইসলাম তার ভাবির সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে স্ত্রী সামিনার সাথে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। একেই এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। সামিনার ডিভোর্সের পরে ঢাকায় গিয়ে একটি গারমেন্টসে অপারেটর হিসাবে তিন বছর চাকুরি করেন।
এদিকে সামিনার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম বিদেশে (মরিচাস) গমন করেন। সামিনার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম পুনরায় সামিনার সাথে বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।
তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে পুনরায় স্বামী স্ত্রী রূপে ঘর সংসার করার প্রলোভন দেখান। সামিনা অবুঝ কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে তার সাবেক স্বামীর কথায় রাজি হন। এরপরে রফিকুল ইসলাম সামিনা কে তার গ্রামের বাড়িতে আসতে বলেন। সামিনা ঢাকায় চাকুরি ছেড়ে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাসায় অবস্থান করতে থাকেন।
কয়েকমাস পেরিয়ে গেলে রফিকুল ইসলাম তার বসতবাড়ি পাকা করণের প্রস্তাব সামিনা কে দেন এবং সামিনাকে তার চাকুরিরত অবস্থায় সঞ্চয় করা প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা বাড়ির কাজের জন্য খরচ করতে বলেন।
সাদাসিধে সামিনা তার স্বামীর কথায় রাজি হয়ে নিজ উদ্যোগে তার সঞ্চিত টাকা খরচ করে রফিকুল ইসলামের নিজ বাড়িতে টিনশেডের ঘর ভেঙে ইটের দালাল নির্মাণ করেন। এই দালান নির্মাণের সামিনার সমস্ত জমাকৃত অর্থ খরচ করার পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণের রাজমিস্ত্রীদের রান্না বান্না করেও খাওয়ান।
বাড়ির কাজ শেষ হবার পরে সামিনা তার বাবার বাসা নাটিয়া মহলে ঘুরতে যান। সেখান থেকে ঘুরে এসে দেখেন তার নিজ হাতে গড়া বাড়িতে রফিকুল ইসলাম বিদেশ থেকে তার ভাইকে নির্দেশ দিয়ে তালাবন্ধ করে রেখেছেন।
এই ঘটনায় জানাজানি হলে এলাকার সাধারণ নারীপুরুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
সামিনা রফিকুল ইসলাম তার বাড়িতে উঠতে না দিয়ে যে অন্যায় করেছেন তার প্রতিবাদে রফিকুল ইসলামের উঠানে এলাকার প্রায় শতাধিক নারীপুরুষ মানববন্ধন করে সামিনা কে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করতে রফিকুল ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান।
উক্ত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী রোকাইয়া বেগম, আব্দুল লতিফ, নাসির শেখ, আতিয়ার রহমান সহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সামিনার সাথে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সেই সাথে একমাত্র কন্যা সন্তান সহ সামিনাকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী সামিনা সাংবাদিক কে জানান, আমি ডিভোর্সের পরে আমার একমাত্র কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ঢাকায় গিয়ে গারমেন্টসে চাকরি করি।
তিন বছর চাকুরি করে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা জমা করি। আমার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলামের প্রলোভনে সব টাকা দিয়ে তার বাড়ি নির্মাণ করি, এই আশায় আমার একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবো বলে।
কিন্তু লোভী রফিকুল ইসলাম বার বার আমার সাথে প্রতারণা করলো। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এর উপযুক্ত বিচার চাই।
চেয়ারম্যান: নাজমুল হক ভূইয়া
সম্পাদক: মোঃ গোলাম রাব্বানী, প্রকাশক: শাহীনুর আক্তার
সম্পাদকীয় বার্তা কার্যালয়:
৬৫৭, হাজী সলিমুল্লাহ রোড, নামা শ্যামপুর,
ফরিদাবাদ, কদমতলী, ঢাকা-১২০৪।
স্বত্ব © ২০২৬ লোকালয় বার্তা