পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকায় পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত একটি পুকুরে মধ্যে মাছ ছাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে বোয়ালমারী গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের আব্দুল খালেকের সাথে প্রতিবেশী সোনাহার ইসলাম ও মন্তাজ আলীদের পৈত্রিক পুকুর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন আব্দুল খালেক তার পৈত্রিক পুকুরে মাছের পোনা ছাড়তে গেলে বিবাদী সোনাহার ইসলাম, মন্তাজ আলী ও জসিয়ার রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাধা প্রদান করেন।
এ সময় প্রাণভয়ে আব্দুল খালেক দৌড়ে বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা তার বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে আব্দুল খালেকের বোন মোছাঃ ছালেহা বেগম ও স্ত্রী মোছাঃ তহমিনা খাতুনকে লক্ষ্য করে লোহার রড ও হাসুয়া দিয়ে আঘাত করা হয়।
আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাড়ির বেড়া ভাঙচুর করে এবং বাগানের ২০-২৫টি সুপারি গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।
গুরুতর আহত অবস্থায় ছালেহা বেগম ও তহমিনা খাতুনকে উদ্ধার করে আধুনিক সদর হাসপাতাল, পঞ্চগড়ে ভর্তি করা হয়েছে। উভয়ের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রত্যেকের মাথায় ৩টি করে সেলাই লেগেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী আব্দুল খালেক বলেন, "তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার বোন ও স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।"
পঞ্চগড় সদর থানা ওসি আশরাফুল ইসলাম এঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক: মোঃ গোলাম রাব্বানী, প্রকাশক: নাজমুল হক ভূইয়া
সম্পাদকীয় বার্তা কার্যালয়:
৬৫৭, হাজী সলিমুল্লাহ রোড, নামা শ্যামপুর,
ফরিদাবাদ, কদমতলী, ঢাকা-১২০৪।
স্বত্ব © ২০২৬ লোকালয় বার্তা