শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

সোনাইমুড়ির জোড়া খুনের ৮ বছর নির্বিঘ্নে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে খুনিরা

মোঃ তপু শেখ গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

 

২০১৬ সালের ১৪ মার্চ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গুজব ছড়িয়ে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে হাত পায়ের রগ কেটে, চোখ উপড়ে, জবাই করে ও পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং অতি দ্রুত হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘দুই শহীদের খুনিরা আজও ঘুরে বেড়াচ্ছে, হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হোক’- এই স্লোগানে আজ ১৪ মার্চ, ২০২৪ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ঘটিকায়, গোপালগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদের কার্যালয়ে আলোচনা সভা করে গোপালগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদ।
গোপালগঞ্জ জেলা হেযবুত তওহীদের সদর উপজেলা সভাপতি রানা মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন,হেযবুত তওহীদের গোপালগঞ্জ জেলা আমির আরিফ মো: আলী আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের জেলা সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, হেযবুত তওহীদের টুংগীপাড়া থানা সভাপতি মামুন মোল্লা , হেযবুত তওহীদের মোল্লাহাট থানা সভাপতি মাহফুজুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

মূখ্য আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, মসজিদ নির্মাণের মত পবিত্র কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হয় হেযবুত তওহীদের দুই সদস্য সোলায়মান খোকন ও ইব্রাহিম রুবেল। উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ীরা প্রচার করতে থাকে যে, হেযবুত তওহীদ খ্রিষ্টান, তারা গ্রামে একটি গির্জা নির্মাণ করছে। এসব গুজব ছড়িয়ে ঘটনার দিন বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের নিয়ে এসে ‘খ্রিষ্টান মারো, গির্জা ভাঙো’ স্লোগান দিয়ে তারা একযোগে হামলা চালায়। তারা হেযবুত তওহীদের এই দুই সদস্যের হাত পায়ের রগ কাটে, দুই চোখ উপড়ে ফেলে, পরে জবাই করে আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে।কি দোষ ছিল হেযবুত তওহীদের সদস্যদের? আর কতকাল ধর্মের মুখোসধারী, ধর্মব্যবসায়ী গুজব-সন্ত্রাসীদের এভাবে প্রশ্রয় দিয়ে যাওয়া হবে? ধর্মব্যবসায়ী উগ্রবাদীদের হত্যাযজ্ঞের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এর বিচার শুরু হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন নির্মম পৈশাচিক হত্যাকা-ের বিচার এভাবে ঝুলে থাকতে পারে না। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার ফলে আসামিরা এখন বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই অপপ্রচারকারী ও হামলার চক্রান্তকারী কুচক্রী মহলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখী করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পরেছে। এদের বিরুদ্ধে এখনই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এরা যে কোনো ধরনের তা-ব সৃষ্টি করতে পারে।

সেক্ষেত্রে কেবল হেযবুত তওহীদই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমাজ, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। এসময় ধর্মব্যবসায়ী উগ্রবাদীদের দ্বারা যেন আর একটা প্রাণও না ঝরে এবং দ্রুততার সাথে ইব্রাহিম রুবেল ও সোলায়মান খোকনের হত্যাকারীদের বিচারকার্য শুরু করার জোর দাবি জানান তারা।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন