রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

সিলেটে বাজার গুলোতে সবজির দাম মনগড়া,

সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি

 

 

সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার কাঁচাবাজার থেকে বন্দরবাজারের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার। এখান থেকে মাত্র ৭০ গজ দূরত্বে ব্রাহ্মবাজার। আর বন্দরবাজার থেকে আম্বরখানার দূরত্ব আনুমানিক ২ কিলোমিটার। কাছাকাছি দূরত্বের এসব বাজারে একই সবজি বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন দামে। কোথাও দিগুণের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এর বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় কিছু পাতি নেতাদের জন্য ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতারা হাঁকাচ্ছেন গলাকাটা দাম, পাবলিকের পকেট থেকে নিয়ে নেতাদের দিচ্ছে তারাও পকেট ভরছে।
এ পরিস্থিতিতে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া পরিবারগুলো। নগরবাসী অনেকেই বলছেন, যাচ্ছেতাই অবস্থা সিলেটের সব কটি সবজি বাজারে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাজার তদারকির অভাবে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে সিলেটের সবজি ও বাজারে। এক বাজার থেকে সবজি কিনে অন্য বাজারে নিয়ে তুললেই দাম বেড়ে হয় দ্বিগুণ। আর ওজনে কারচুপি তো আছেই। কোথাও ভোক্তা অধিদপ্তরের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যার যার মতো করে সবজি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার (২১ আগস্ট) সিলেটের সোবহানীঘাট পাইকারি বাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও মদিনা মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে সবজির দাম দ্বিগুণ। খুচরা বাজারে ৬০-৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার সকালে নগরের সোবহানীঘাট পাইকারি বাজারে মানভেদে কাঁচামরিচ ১৯০, ঝিঙে ৮০, ঢেঁড়শ ৩৫, পেঁপে ২০, কাঁকরোল ৪০, বেগুন ৩০, মিষ্টিকুমড়া ৪০, লালশাক ও ঘিকাঞ্চন শাক ১৫, কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০, কচুর মুখি ৫০, কুমড়া প্রতিটি ৪০, শসা ৫০, টমেটো ১৮০ ও গাজর ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক কিলোমিটার দূরে বন্দরবাজারে কাঁচামরিচ ২২০ থেকে ২৫০, ঝিঙে ১০০, ঢেঁড়শ ৫০, পেঁপে ৪০, কাঁকরোল ৬০, বেগুন ৬০, মিষ্টিকুমড়া ৮০, লালশাক ও ঘিকাঞ্চন শাক ৩০, কাঁচকলা প্রতি হালি ৫০ থেকে ৬০, কচুর মুখি ৭০, কুমড়া প্রতি পিস ৫০, শসা ৬০, টমেটো ২০০ ও গাজর ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বন্দরবাজার থেকে মাত্র ৭০ গজ দূরে বরমাই বাজারে কাঁচামরিচ ২৫০, ঝিঙে ১২০, ঢেঁড়শ ৬০, পেঁপে ৬০, কাঁকরোল ৭০, বেগুন ৭০, মিষ্টিকুমড়া ৮০ থেকে ১০০, লালশাক ও ঘিকাঞ্চন শাক ৩৫, কাঁচকলা প্রতি হালি ৬০, কচুর মুখি ৮০, কুমড়া প্রতিটি ৬০, শসা ৬০, টমেটো ২২০ ও গাজর ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
একইভাবে আম্বরখানা, রিকাবীবাজারা ও মদিনা মার্কেট ও অন্যান্য স্থানে বাজার বসিয়ে আরো বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। এক বাজার থেকে অন্যবাজারে গেলেই দাম বেড়ে যায়। আর ভ্যানে করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছে সবজির দাম আরো বেশি পাড়া-মহল্লায় গলাকাটা ব্যবসা করছেন অনেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের সোবহানীঘাট কাঁচাবাজার থেকে সিলেটের সব বাজারের ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে নেন। এখন থেকে শুরু হয় হাতবদল। দফায় দফায় দাম বাড়তে বাড়তে ভোক্তা পর্যায়ে দ্বিগুণেরও বেশি দাম বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়েই সবজি কিনতে হয় ভোক্তাদের।
একজন ক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমরা ভেবেছিলাম পদ্মা সেতু হলে আমরা সিলেটে শাকসবজি কম মূল্যে পাব কিন্তু আজ তার বিপরীত। একজন সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সব সবজির দামই বাড়ছে। বাড়তি দামে সবজি কিনে আনতে হচ্ছে। তা ছাড়া আনুষঙ্গিক খরচও রয়েছে। সব মিলিয়ে সবজি বিক্রি করে খুব একটা লাভ হচ্ছে না।
নগরীর ওসমানী মেডিকেল এলাকার ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, কয়েক হাত বদল হওয়ার পর আমরা সবজি কিনি। সবাই অল্প অল্প করে লাভ করলে তো সবজির দাম বাড়বেই। আমরা খুচরা বিক্রেতা। পাইকারি বাজার থেকে যারা বেশি সবজি কিনেন তারা কিছুটা কম দামে বিক্রি করলেও লোকসান হয় না।
বন্দরবাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এক সবজি দিয়ে একবেলার খাবারও হয় না। কতটা দুর্ভোগে দিন যাচ্ছে নিজেরা ছাড়া বোঝার কেউ নেই। তিনি বলেন, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে গেলে সবজির দাম বেড়ে যায়। আর এক বাজার থেকে অন্য বাজারে গেলে তো উপায় নেই। দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দাম হাঁকান ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টদের সুষ্ঠু মনিটরিংয়ের অভাবে বাজারের এ অবস্থা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট মেট্রোপলিটনের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কিছুদিন আগে কাঁচামরিচের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পর কাজ শুরু করেছি। তবে এরপর সবজি বাজার নিয়ে কোনো অভিযানের তথ্য দিতে পারেননি তিনি। ভোক্তা অধিকারের এ কর্মকর্তা বলেন, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু কর্মকর্তা মাত্র একজন। তার পরও আমি কাজ করছি। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। সবজি বিক্রেতাদের দামের তালিকা দোকানে টানিয়ে রাখতে বলেছি। তারা সচেতন না হওয়ায় এটা মানা হচ্ছে না।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন