রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

শেষ নির্বাচনী প্রচারণাতে মাঠে নেই ৫ জন প্রার্থী

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

 

 

আগামী ৭ জানয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছে নৌকা-ট্রাকসহ সাত প্রতীকের প্রার্থীরা।

আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৩ জন। তার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৩৮ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৪ জন।
পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ ইং
পঞ্চগড় -১তেতুলিয়া, পঞ্চগড়, আটোয়ারী তিন উপজেলায়

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাঈমুজ্জামান ভুইয়া মুক্তা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ একতারা প্রতীক, মুক্তি জোটের আব্দুল মজিদ ছড়ি প্রতীক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মশিউর রহমান বাবুল আম প্রতীক, বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টির সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে লড়ছেন। তবে নৌকা ও ট্রাক প্রতীক ছাড়া অন্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা নেই। নেই কোন পোস্টার। তবে এ আসনে নৌকা-ট্রাকের মধ্যে লড়াই হচ্ছে বলে ভোটারদের ধারণা।
এই দুই প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন ও করছেন গণসংযোগ, নির্বাচনী সভা, উঠান বৈঠক।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়া মুক্তা। তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সাবেক জনপ্রেক্ষিত কর্মকর্তা। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেটের স্বতন্ত্র পরিচালক, শিকদার গ্রুপের কনসালট্যান্ট, মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রী কলেজের পরিচালনা পর্যদের সভাপতি, একটি ইংরেজি দৈনিকের উপসম্পাদক। গত ১৫ বছর ধরে এলাকায় বিভিন্ন জনমানুষের সাথে মিশেছেন ও অনেককে সহযোগিতা করেছেন, এলাকা উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।

বন্ধ চিনিকল আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু, মেডিকেল কলেজ, কারিগরি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন, চা চাষীদের সংকট নিরসন, পঞ্চগড় শহরের বিকল্প সড়ক সেতু নির্মাণসহ ১০ দফা আঞ্চলিক ইশতেহার প্রকাশ করে পঞ্চগড়কে স্মার্ট পঞ্চগড় গড়ে তুলতে চান। জেলা, তিনটি উপজেলার, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সকল নেতাকর্মী তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোটে নুরুল ইসলাম সুজন মুক্তার পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন।
অপরদিকে এবার নির্বাচনে বৃহত্তর বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে না আসায় আওয়ামী লীগ থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিমধ্যে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সারোয়ার বকুলকে দায়িত্ব দেওয়া দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোটে নুরুল ইসলাম সুজন। জেলা, তিনটি উপজেলার, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন। দিন যত গড়াচ্ছে, ঘনিয়ে আসছে নির্বাচন। নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে সর্বত্রভাবে ভোটের মাঠ গরম করছেন এ দুই তরুণ প্রার্থী। ভোট লড়াইয়ে ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে জোরেশোরেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তারা। সম্ভাবনা উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নিয়ে গণসংযোগ, নির্বাচনী সভা ও ভোটারদের কাছে গিয়ে তুলে ধরছেন প্রার্থী ও সমর্থক নেতাকর্মীরা। আসনটিতে এ তরুণ দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ভোটারদের মধ্যে এ দুই তরুণ প্রার্থীকে নিয়ে চলছে নানান আলোচনা। তারা কাকে দিবেন ভোট এ নিয়ে চলছে কানাঘুষা। চায়ের টেবিল থেকে সর্বত্রই চলছে আলোচনা। বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী দুই প্রার্থীই। অনেকেই বলছেন জাতির পিতার প্রতীক নৌকা আমরা সেখানেই ভোট দিব। আবার অনেকেই বলছেন দুইবারের সফল সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাটের রাজনীতির নীতিগত কারণে ট্রাক প্রতীককেই ভোট দিব। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ভোটে কে পরবেন জয়ের মালা তা দেখার প্রতীক্ষার ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে এখন থেকেই।
পঞ্চগড়-১ আসনটি জেলা সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী এ তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৮৪ সালে গঠিত হয় পঞ্চগড়-১ নির্বাচনী এলাকা। ১৯৮৬ সালে এ আসনটিতে আওয়ামীলীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সিরাজুল ইসলাম। তিনি পঞ্চগড়-২ আসনের বর্তমান রেলমন্ত্রীর নুরুল ইসলাম সুজনের বড় ভাই। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত আব্দুল কদ্দুস। এরপর ১৯৯১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এ আসনটি ছিল বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা গোলাম হাফিজ ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দখলে। ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন মির্জা গোলাম হাফিজ ও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।
এরপর ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ। এ আসনে সংসদ নির্বাচিত হন মজাহারুল হক প্রধান। ২০১৪ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে নাজমুল হক প্রধান ও ২০১৮ সালে আবার আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত হন মজাহারুল হক প্রধান। এবারও তিনি মনোনয়নপত্র না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ আসনে এবার নতুন মুখ হিসেবে মুক্তা-সম্রাট লড়াই করছেন একই দলের। একজন দলীয় মনোনীত, অপরজন স্বতন্ত্রভাবে।
২০০৮ ও ২০১৮ সালে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করেন পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-ভাপতি মজাহারুল হক প্রধান। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ বার দলীয়ভাবে মনোনয়ন না পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন