সোমবার, ২০ মে ২০২৪

লাখাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র নীরব ভোট প্রার্থীদের চিন্তার কারণ

মুফতী আসাদুজ্জামান আনোয়ারী
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও বর্জনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। ভোটে জনগণকে নিরুৎসাহিত করতে জেলা-উপজেলায় কর্মিসভা এবং গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণও শুরু করেছে দলটি। ভোটের মাঠে বিএনপি’র কিছু নেতাকর্মী প্রকাশ্য বা গোপনে  কোন কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছে তবে অধিকাংশ ভোটাররা এই নীরব।
লাখাই  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের   বিএনপির নীরব ভোট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা  এদিকে  আগামী ২৯ মে এই উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের   সাবেক সভাপতি মাহফুজুল আলম মাহফুজ, আওয়ামী লীগ নেতা  ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আলম,
লাখাই উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক  একরামুল মজিদ চৌধুরী শাকিল, উপজেলার চেয়ারম্যান  পদে প্রার্থী রয়েছে। কোন প্রার্থী নির্বাচিত হলে উপজেলার উন্নয়ন হবে, কোন প্রার্থী বিজয়ী হলে উপজেলার সাধারণ ভোটারদের উপকারে আসবে এই হিসাব করছে ভোটাররা। অন্যদিকে গত ১৩ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচারের ব্যস্ত সময় পার করছে প্রার্থীরা। তবে সাধারণত জনগণের অভিমত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে কিন্তু নির্বাচনের তেমন আমেজ নেই। এদিকে সাধারণ ভোটারদের মন জোগাতে  বিরতিহীন  দৌড়ঝাপসহ গণসংযোগ করে
যাচ্ছে প্রার্থীরা। সূত্র বলছে, এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই উপজেলায় বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় এবং কোনো দলীয় প্রতীক না থাকার কারণে নির্বাচনের আমেজ তেমন নেই। তাছাড়াও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের চার প্রার্থী রয়েছে, সেই ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটের বিষয় মাথায় রেখে এগোতে হবে প্রার্থীদের। বিএনপির কোন কোন নেতারা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা নেমেছেন আবার অনেকেই রাতের অন্ধকারে গোপনে প্রচারণায় নেমেছে।  এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র কয়েকজন সিনিয়র  নেতা বলেন  যারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে প্রতারণায় নেমেছে  তারা কি জানেনা অতীতে এই আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা  মামলা দিয়ে জেল কাটিয়েছে। তারা আরো বলেন  যে সমস্ত নেতারা আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রতারণায় নেমেছে তারা লোভ লালসায় পড়ে।
যে নেতা আমাদেরকে বিভিন্ন মামলা দিয়েছে সেই নেতার  পক্ষে প্রচারনায় নেমেছে তাদের  লজ্জা করা উচিত।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  ও দু’বারের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এডভোকেট মুশফিউল আলম আজাদ বিভিন্ন জনসভায়  বলেন নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে এসে সবাই আমাকে ভোট   দিবেন আমি সকল জনগণের কাছে ভোট প্রত্যাশি।
অপর দিকে মাহফুজুল আলম মাহফুজ বিভিন্ন জনসভায় বলেন আমি জনগণের সম্পদ চুরি ডাকাতি করি নাই তাই দল মত নির্বিশেষে সকলেই আমাকে ভোট দিবে এটাই আমি আশা করি।
আমিরুল ইসলাম আলম বলেন আমি কারো কোন ক্ষতি করি নাই তাই আমি আশা করি  সবাই  আমাকে ভোট দেবে ।
ইকরামুল মজিদ চৌধুরী শাকিল বিভিন্ন জনসভায় বলেন, লাখাই উপজেলাবাসী পরিবর্তন চাই, দাঙ্গা এবং মামলামুক্ত উপজেলা চাই তাই দলমত নির্বিশেষে সবাই আমাকে ভোট দিবে এটা আমি আশা করি।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডঃ আক্তার আহাদ চৌধুরী স্বপন বলেন  জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা ভোট বর্জন করব,  ভোট  না দেওয়ার জন্য   আমরা লিফলেট বিতরণ করছি।
লাখাই  উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামসুল ইসলাম  বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা থাকবেনা। সকল নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয়ভাবেনির্দেশ দেওয়া আছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভোট বর্জন করার। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে তারা। এরপরও যদি কোনো নেতাকর্মী কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন