মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন কর্মসূচি

মো:আমিনুল ইসলাম
যবিপ্রবি প্রতিনিধি

অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বানে মানববন্ধনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি – অধ্যাপক ড. মো: ইকবাল কবির জাহিদ জানান আজকে মানববন্ধনে আছি এবং শিক্ষক ফেডারেশন। আমাদের আরও সামনে ২৮ তারিখ প্রোগ্রাম আছে শিক্ষক ফেডারেশনের অধীনে। সকাল দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবো। এবং তারই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে যতদিন এই প্রজ্ঞাপন বাতিল না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ফেডারেশনের অধীনেও চলবে।

 

এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রজ্ঞাপন দিয়েছে। আমরাও সে রকম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মধ্যে এখন কিন্তু তারা নাম করেছে। বিশেষ করে আপনারা জানেন যে গুচ্ছের পরীক্ষা ২৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় এর ভর্তি পরীক্ষা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে। সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব কর্মসূচিও দিবে। আমরা মনে করি যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যোগ্যতার সম্পন্ন। ভবিষ্যতে আমরা এ যোগ্যতার নিচে নামবো না। এই প্রজ্ঞাপনটি হলে যে যোগ্যতা নেমে যাবে। তার কারণে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যতদিন এটা না থামবে। দেখেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পেনশনের ভেতর নাই এবং সেখানে উচ্চ বেতন দেওয়া হয়। ফলে যেটা হবে আমাদের যারা মেধাবী তাঁরা দেখবে আমি পেনশনটিও পাচ্ছিনা। তখন তারা কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দিকে চলে যাবে। আমি যদি পেনশন না পাই, আমি যদি বেশি টাকা পাই তখন কিন্তু তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকতা করবে । ফলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত টিকার অর্থে বলতে হয় যে গরিব এবং মধ্যবিত্ত মানুষজনের ছেলে মেয়েরাই পড়ে। সেই পরিবেশ আর থাকবে না। ফলে এখনো অন্তত আমরা মধ্যবিত্তরা বিভিন্ন স্বপ্ন দেখি। কিন্তু সেটা আর থাকবে না। মেধাবী শিক্ষক থাকবে না। মেধা এটা মানুষের একটা বাই বর্ন ভেতরের একটা যোগ্যতা এবং ব্রেন ড্রেনেজ যেটা আমরা বলি।

এখন অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে। সংখ্যাটা আরো বাড়বে। বিদেশে উন্নত ব্যবস্থা, উন্নত অর্থ এবং সেখানে অনেক কিছু ব্যবস্থা আছে। আমাদের মেধাবীদের শেষ জায়গা ছিল দুইটা জায়গা ১.বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২.বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দেখেন বাংলাদেশ সেই জায়গা গুলোতে আর মেধাবীরা থাকবে না। ফলে মেধাশূন্যতা হচ্ছেই। কিন্তু এটাকে আরো ত্বরান্বিত করার কৌশল আমরা মনে করি এ প্রজ্ঞাপন । সহ সভাপতি – অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান বলেন আমরা এর আগেও একটি মৌন মিছিল করেছিলাম আপনারা জানেন আমরা এখানে এমনিতে দাঁড়াতে আসিনি আমাদেরকে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে ।

 

আপনারা জানেন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সমূলে ধ্বংস করার লাস্ট ব্রেক মারা হচ্ছে। এখন আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয় আমরা আগেই স্পষ্ট করেছি, আমাদের আন্দোলন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একই পেশায় একই সরকারি চাকরি আমরা করি এবং একই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলা হচ্ছে সার্বজনীন শুধুমাত্র যারা স্বায়ত্তশাসিত চাকরি করেন এটা কি কখন হয় , এটা কি কখনো হতে পারে এটা কি মেনে নেওয়া সম্ভব আপনারা জানেন ইতিমধ্যে বিসিএস নামক একটি চাকরিকে এত লোভনীয় করা হয়েছে যে এখনকার ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা গবেষণা কোন কিছু করতে চায় না ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিসিএস এর গাইড নিয়ে বসে যায় । আমাদের যারা এই শিক্ষানীতি নিয়ে কাজ করছে সরকারের পাশাপাশি থাকেন সেই সমস্ত লোকজন সময় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কিছু বুঝিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকদের প্রতি ভুল ধারণা সৃষ্টি করছেন এবং এরাই আরেকটা লাশ স্টেপ ।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের পেনশন পাবেন না মানে যারা জুলাইয়ের এক তারিখে পর থেকে জয়েন করবে যেটা আমাদের সহকর্মীরা অনেকেই বলছেন এবং আমরা জানি এটা একটা পক্ষপাত দুষ্টরা বলে এটা কখনো সম্ভব না আমরা সিস্টেমেটিক ভাবে এবং ফেডারেশনের নেতৃত্বে এবং প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয় সিস্টেম এটিকের মাধ্যমে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি খুব তাড়াতাড়ি যদি সরকার আমাদের এই দিকটা না দেখে আমাদেরকে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য করা হবে । আমরা চাই না যে আমাদের ছেলে মেয়েদের যে চলমান পরীক্ষা এবং এর ভিতরে ভর্তি আছে সেমিস্টার পরীক্ষা চলছে। এবং কি সরকার আমাদের এই বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখবেন যাতে আমাদের এই ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার কোন সমস্যা না হয় যাতে তারা নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর পাশ করে বের হয়ে যেতে পারে এটা আমাদের যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির দাবি । তথা সমস্ত শিক্ষকদের দাবি আমরা মাঠে নামতে চাই না আমাদের আর মাঠে নামাবেন না আমাদের দাবি যেখানে একই দেশে সরকারি সবার জন্য সমানভাবে টেনশন ব্যবস্থার আয়োজন করেন যদি সার্বজনীন পেনশন ভালো হয় তাহলে আমলা থেকে শুরু করে সব লেভেলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ব্যবস্থা করেন । আর যদি সেটা ভালো না হয় তাহলে পূর্বে নিয়মে পেনশন দেন । তা না হলে আমরা সকল শিক্ষক এখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে থাকবো  সেই সাথে

সাধারণ সম্পাদক , ড. কামরুল ইসলাম বলেন আমরা যে মাঠে নেমেছি, আমাদের ক্লাস পরীক্ষা বাদ দিয়ে আমরা আসলে ক্লাস পরীক্ষায় ফেরত যেতে চাই। আমরা আমাদের ছাত্রদের কাছেই ভালো থাকি, তাদের সাথেই আমরা কম্ফোর্টেবল। আমাদের দাবীগুলো পূরণ হলে আমরা আবার আগের অবস্থানে ফিরে যাবো আমাদের যে শিক্ষা গবেষণা নিয়ে কাজ এগুলোতেই আমরা মনোযোগ দিতে চাই !! আমাদের দাবি টা যতদিন না মানা হবে ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো এবং আমাদের সভাপতি আধ্যাপক ড. ইকবাল কবির জাহিদ স্যার যে কথা বলে গেছেন আমাদের পরবর্তী প্রোগ্রাম হচ্ছে ২ ঘন্টার জন্য ক্লাস বর্জন করবো ।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন