বুধবার, ২২ মে ২০২৪

মোবাইল চুরির অপবাদে নারীকে বেঁধে নির্যাতন ভিডিও ভাইরাল

খাদেমুল ইসলাম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে বোদা উপজেলায় মোবাইল চুরির অপবাদে এক নারীকে (২৬) রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের জেমজুট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ভ্যানগাড়িতে এক নারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন কয়েকজন নারী। এর মাঝে এক ব্যক্তি ওই নারীকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখছেন। আর তা দাঁড়িয়ে দেখছে উৎসুক জনতা।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী দুই সন্তানের জননী। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি তার বাবার বাড়িতে থাকেন।

স্থানীয়রা বলছেন, ওই নারী তার এক দাদির বাড়িতে গিয়ে মোবাইল চুরি করেছেন। পরে জুটমিল এলাকায় তাকে ধরে মোবাইলসহ বাড়িতে নেয়া হয়।

স্থানীয় আতাউর রহমান বাবুল বলেন, ওই নারী কারও কথা শুনেন না, বাড়িতেও থাকেন না। মাঝেমধ্যে চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ করেন। মোবাইল চুরি করায় লোকজন তাকে ধরে এনে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে সালিশ করে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে ২ থেকে ৩ দিন আগে দাদির বাড়িতে (বাবার খালা) গিয়েছিলাম। দাদিকে বাড়িতে না পেয়ে এক রাত আমার বান্ধবীর বাড়িতে থাকি। পরের দিন দাদি আসলে তার বাড়িতে যাই। সেখানে কল এসেছে বলে দাদি আমাকে কথা বলার জন্য মোবাইলটি দেন। কথা বলার পর দাদিকে না দেখে আমি বাড়িতে চলে আসছিলাম। এর মাঝে বাজারে এলে গ্রামের লোকজন আমাকে মারধর করে বেঁধে ফেলে।’

ওই নারীর বাবা- মা বলেন,
মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের মেয়ে মোবাইল চুরি করেছে। আমরা বলেছি, সে যদি মোবাইল চুরি করে থাকে, তবে তা ফেরত দেবো, না হয় নতুন কিনে দেবো। কিন্তু তারা তাকে বাজারে বেঁধে মারধর করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাদেরও তো মা-বোন ও মেয়ে আছে। এমনটে কিভাবে করলো! আমরা কি বিচার চাইবো, উল্টো আমার মেয়ের বিচার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ গ্রামের লোকজন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবগত না। কোনো অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।’

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন