মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

বাংলা উন্নয়ন বোর্ডকে পুনরায় কার্যকর করতে হবে প্রফেসার মোঃ আসাদুজ্জামান চেয়ারম্যান বি এইচ পি

বাংলা উন্নয়ন বোর্ডকে পুনরায় কার্যকর করতে হবে বললেন চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান
শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, আইনশাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে বাংলা ভাষার পাঠ্যপুস্তক তৈরির কাজ বাধাহীন ও সাবলীল করার স্বার্থে বাংলা একাডেমির সঙ্গে ১৯৭৩ সালে একীভূত করা বাংলা উন্নয়ন বোর্ডকে পুনরায় তার স্বতন্ত্র মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক হয়ে দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশের প্রায় সমুদয় জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা বাংলায় শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক নির্মাণ অত্যাবশ্যক। কিন্তু জাতির বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়, বাংলা পাঠ্যপুস্তক নির্মাণের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা অতীতে কখনও তৎপর ছিলেন না, আজও নেই। তদুপরি, সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনে কখনও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কোনো রূপ যোগাযোগ করেছেন, তারও কোনো প্রমাণ নেই। অথচ একটা স্বাধীন জাতিকে সম্মানিত জাতিসত্তায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নানা বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি অর্জন করতে হয়। সে ক্ষেত্রেও তাদের অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ।
বাংলা একাডেমি তার সূচনালগ্ন থেকে ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে কাজ করে আসছিল। অন্যদিকে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তিবিদ্যা এবং চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ের উচ্চ পর্যায়ে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির জন্য দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের ওপর। এক সময় বাংলা একাডেমির পরিচালক ছিলেন মরহুম ড. মযহারুল ইসলাম এবং বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক ছিলেন দেশের খ্যাতনামা পণ্ডিত মরহুম ড. এনামুল হক।
ড. মাযহারুল ইসলামের আমলে খুব সম্ভবত ব্যয় সংকোচনের নিমিত্তে বাংলা উন্নয়ন বোর্ডকে বাংলা একাডেমির সঙ্গে ১৯৭৩ সালে একীভূত করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দুর্ভাগ্য, এই দুটি প্রতিষ্ঠান একীভূত করার ফলে আলাদাভাবে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির কাজ নিদারুণভাবে ব্যাহত হয়। ফলে দুটো প্রতিষ্ঠানের একীভূত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল অতিক্রান্ত হলেও বাংলা ভাষায় পাঠ্যপুস্তক তৈরির কাজ সিকি ভাগও এগোতে পারেনি।
একুশের ৭০ বছর শিরোনামে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষায় উপেক্ষিত মাতৃভাষা বাংলার বিষয়ে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা বাজারমুখী হওয়া, চিকিৎসা, প্রকৌশল বিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার নেই। ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮টিতে বাংলার ব্যবহার রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষায় বাংলার ব্যবহার দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। লেখাপড়া বাজারমুখী হওয়ার কারণে বাংলা ভাষা যেন অনেকটাই আজ নির্বাসনে। এতে আমরা দেশের সমুদয় জনগোষ্ঠী নিদারুণভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত।
অথচ একটি স্বাধীন দেশের সমুদয় জনগোষ্ঠী যে ভাষায় কথা বলে তা তাদের মাতৃভাষা। সে দেশের শিক্ষা, অফিস-আদালত, বিচার-আচার ইত্যাদি গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী সেই মাতৃভাষায়ই চলার কথা। কিন্তু দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এর প্রধান কারণ সংশ্নিষ্টদের ব্যাপক দায়িত্বহীনতা।
একুশ এলেই প্রভাতফেরি হয়; শহীদদের কবর জিয়ারত হয় এবং শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। দীর্ঘকাল ধরে প্রতি বছর এভাবে শহীদ দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা পাঠ্যপুস্তক তৈরির মূল কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। পরিকল্পিত কোনো ইনিশিয়েটিভ এবং ড্রাইভও কখনও পরিলক্ষিত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে অর্থাৎ জাতির বৃহত্তর স্বার্থে শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ের জন্য বিজ্ঞান, প্রকৌশল বিদ্যা, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, আইনশাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে বাংলা পাঠ্যপুস্তক নির্মাণের কাজ বাধাহীন ও সাবলীল করার স্বার্থে বাংলা উন্নয়ন বোর্ড’কে আবার এর স্বতন্ত্র মর্যাদায় ফিরিয়ে এনে বাংলায় পাঠ্যপুস্তক নির্মাণের বিশাল জাতীয় দায়িত্ব এই বোর্ডের ওপর ন্যস্ত এবং এটি পরিচালনার দায়িত্ব একজন প্রতিভাশালী যোগ্য ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানাই।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন