বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পড়ে থাকা ১৯০ মেট্রিক টন গম ধ্বংস

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম

 

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পড়ে থাকা ১৯০ মেট্রিক টন গম ও ৫ মেট্রিক টন ডলোমাইট পাউডার ধ্বংস করা হয়েছে।
ধ্বংস করা গমগুলো ৬ বছর ধরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ওয়্যার হাউজে পড়ে ছিল।

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আটককৃত এসব গম ডলোমাইট পাউডার ধ্বংস করা হয়।জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ভারত থেকে ১৯০ মেট্রিক টন গম আমদানি করেন মেসার্স ইমতিয়াজ ট্রেডার্স নামের আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান। ভারত থেকে গম আমদানির বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আনা হলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর হতে ছাড়পত্র না দেওয়া ও ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ডলোমাইট পাউডার মিস ডিক্লারেশন হওয়ায় গমগুলো প্রায় ৬ বছরের মাথায় ধ্বংস করা হয়।আরও জানা যায়, গমগুলো আমদানির পর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র গমগুলোতে নানা রকম ক্ষতিকারক জীবানু রয়েছে বলে আশঙ্কা করে। পরে গমের সেম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকার (খামারবাড়ি) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ উইং গমগুলোকে পঁচা এবং ৫টি ক্ষতিকারক জীবাণু আক্রান্ত বলে জানানোর পর বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র গমগুলো ফেরত দেয়ার জন্য আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টকে চিঠি দেয়। এরপর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গমগুলোকে আটক করে রাখে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভারত থেকে গমগুলো আমদানির পর স্থলবন্দরের দুটি ওয়্যারহাউজে আনলোড করে রাখা হয়। পণ্যটি প্রায় ৬ বছর যাবৎ ওয়্যার হাউজে পড়ে থাকায় পোকার আক্রমণে গমগুলি বিনষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি তাদেরকে বারবার চিঠি দিলেও কোনো কাজ হয়নি। এই গমের স্তূপ কেন্দ্রিক পোকামাকড়, ইঁদুর ও বিষধর সাপের উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পড়ে যায়। বিনষ্ট গমের দুর্গন্ধে ওয়্যার হাউজের কর্ম পরিবেশ দূষিত হয়ে বন্দরে, কর্মী ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দেয়।

 

এছাড়া প্রায় ৬ বছর যাবত পড়ে থেকে দুটি ওয়্যারহাউজের একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে রাখায় একদিকে চলমান পণ্যের জন্য স্থান সংকুলান করা যাচ্ছে না। অপরদিকে বন্দর তথা সরকার নিয়মিত বন্দর মাশুল ও ভ্যাট হতে বঞ্চিত হওয়ায় বন্দর কমিটির নির্দেশে আজ গমগুলো ধ্বংস করা হয়। এর মধ্য দিয়ে স্থলবন্দরের দুটি ওয়্যারহাউজ খালি হলো। এখন অন্যান্য আমদানি পণ্য রাখা যাবে।

ধ্বংস করার সময় বন্দরের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদসহ এসময় উপস্থিত ছিলেন: জেলার এডিশনাল এসপি আমিরুল্লা, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি পরিচালক ইউসুফ আলী ও ১৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. জামাল হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-গন।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন