বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বাংলাদেশের নির্বাচন : চীন বলছে মাইলফলক, অভ্যন্তরীণ বিষয় বলছে ভারত

মোঃ শাহাদাত হোসেন স্টাফ রিপোর্ট

 

 

রোববার সকাল ৮টা থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে যাচ্ছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। একটি আসনের একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের এ নির্বাচন গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। কয়েক দিন ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিবিসি, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট, আল-জাজিরাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন।

নির্বাচনটি আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমানও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন ভোট ভালো না হলে ভবিষ্যৎও খুব একটা ভালো হবে না।

আসন্ন এ নির্বাচন নিয়ে গতকাল কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন মুখপাত্র রণধীর জয়সাওয়াল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তার কাছে এক সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল— আগামী ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেননা, প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী?

জবাবে জয়সাওয়াল বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত বলে আসছি, বাংলাদেশের নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

ভারত নির্বাচনে পর্যবেক্ষণে পাঠাবে কি না— এমন প্রশ্নও করা হয় মুখপাত্রের কাছে। তবে জয়সাওয়াল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে ভোটের বিষয়ে গতকাল কূটনীতিকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্রিফ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্রিফিংয়ে চীন, রাশিয়া, জাপানসহ পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা থাকলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুজনই দূতাবাস থেকে প্রতিনিধি পাঠান।

ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি।

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, আমি মনে করি, এটা সফল নির্বাচন হবে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও মাইলফলক হবে। নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হবে।

জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার বলেন, শুরু থেকে আমার অনুধাবন হচ্ছে তারা (ইসি) সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করছে। আমি মনে করি, তারা বেশ গুরুত্বসহকারে কঠোর পরিশ্রম করছেন।

ইইউ রাষ্ট্রদূত হোয়াইটলি বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের সর্বশেষ পরিস্থিতি আমাদেরকে অবহিত করেছে।

কিছু বলার নেই জাতিসংঘের
২০১৪ সালের মতো এবারের নির্বাচনও বয়কট করেছে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দলটি এখন তাদের সমর্থকদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচন বয়কটের ব্যাপারে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সহযোগী মুখপাত্র ফ্লোরেন্সিয়া সোতো নিনোর কাছে বুধবার প্রশ্ন করেছিলেন এক সাংবাদিক। তার প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ফ্লোরেন্সিয়া জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তাদের কোনো কিছু বলার নেই। জাতিসংঘ চায় বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তারা এ বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বাংলাদেশের একটি পত্রিকার ওই সাংবাদিক জাতিসংঘের মুখপাত্র ফ্লোরেন্সিয়াকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনি জানেন বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের জন্য ৪৪টি রাজনৈতিক দলের ২৮টির ১ হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক অবস্থান করছেন। এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বদলে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বয়কটের কর্মসূচি দিয়েছে। জাতিসংঘের কি এ ব্যাপারে কোনো পর্যবেক্ষণ আছে?’

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন