শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত অর্থনৈতিক বিপ্লব ড.সুফি সামস সাগর

শোষিত বঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য,বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বিপ্লব ছিল দুটি। একটি বাঙালি জাতির ‘স্বাধীনতা’, অপরটি ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর প্রথম বিপ্লবের সফলতা অর্জন করেন, কিন্তু দ্বিতীয় বিপ্লব ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’ অর্জনের পূর্বেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য অবিরাম সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, কিন্তু দুর্নীতি আর হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে তিনি কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছেন না। দুর্নীতি বন্ধের জন্য তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তিনগুণ বৃদ্ধি করে দিয়েছেন, কিন্তু দুর্নীতি কমেনি, বরঞ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি হিংসা-বিদ্বেষ ও সংঘাতের রাজনীতি বন্ধের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লব সফল করতে হলে বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর মতো বাংলাদেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ভালোবাসতে হবে এবং জনগণকে দেশাত্মবোধের বন্ধনে আবদ্ধ করে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এজন্য দেশের রাজনীতিকে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের রাজনীতিতে রূপদান করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্য অপশক্তি দেশে যে হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি সৃষ্টি করেছে, তা পরিহার করতে হবে। জাতীয় মূলনীতির ভিত্তিতে অর্থনৈতিক মুক্তির রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অতঃপর উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পালা। উন্নত দেশে উত্তরণ করতে হলে, দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জাতীয় রাজনীতির মূলনীতি নির্দিষ্ট করতে হবে। এই মূলনীতি নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে দেশের রাজনীতিবিদদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদ বলে জাতীয় সংসদের নির্বাচনকালীন নির্বাচিত সর্বদলীয় সরকার গঠন, আইন বিভাগের ন্যায় নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। দেশের সৎশুদ্ধ দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করতে হবে। দেশের অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা, বিশাল মানবসম্পদ ও খনিজসম্পদকে কীভাবে অর্থসম্পদে রূপান্তর করা যায়, সেই চিন্তাভাবনা আর কর্মকৌশলই হবে দেশের রাজনীতি। আমাদের আছে কর্মক্ষম ৮ কোটি যুবক। এই যুবকরা নিশ্চিতভাবে আগামী ৩০ বছর সার্ভিস দিতে সক্ষম, যা পৃথিবীর অনেক দেশের নেই।বাংলাদেশ খনিজসম্পদের ওপর ভাসমান একটি দেশ। এখানে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ মহামূল্যবান ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, প্লাটিনাম, স্বর্ণ, তেল, গ্যাস, কয়লা, পাথর এবং প্রাকৃতিক আগুনের বিশাল ভান্ডার। বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়ায় আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন এবং নিঝুম দ্বীপে আন্তর্জাতিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হলে পৃথিবীর বিশাল বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ।বঙ্গোপসাগরের নোনা পানি হলো আমাদের তরল সোনা। এখানে নামমাত্র মূল্যে উৎপাদন করা যায় ভিটামিন ঔষধ তৈরির উপাদান ও রোগপ্রতিরোধক খাদ্য তৈরির ‘শ্যাওলা’ ও বিভিন্ন প্রকার ‘কেমিক্যাল’। এই শ্যাওলা রপ্তানি করে আমরা অর্জন করতে পারি বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা এবং কেমিক্যাল উৎপাদন করে সাশ্রয় করা যায় বছরে তিন হাজার কোটি টাকার কেমিক্যাল আমদানির টাকা। এছাড়া আমাদের আছে অফুরন্ত প্রাণিজসম্পদ এবং সোনার চেয়ে মূল্যবান ধাতুসমৃদ্ধ ভারী খনিজ বালু। আছে প্লাটিনামসমৃদ্ধ অতি মূল্যবান ম্যাগানিজ নডিউল ক্রাস্ট এবং তামা সিসা জিঙ্ক সোনা ও রুপা দিয়ে গঠিত ‘সালফাইড’। সমুদ্র তলদেশে আছে উন্নতমানের সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ‘ক্লে’। এই ‘ক্লে’ আহরণ করা হলে সিমেন্ট শিল্পে বিপ্লব ঘটে যাবে। কর্মক্ষম মানবসম্পদ, অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিশাল খনিজসম্পদকে অর্থসম্পদে রূপান্তর করতে সক্ষম হলেই উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নতরাষ্ট্রে উন্নীত হবে বাংলাদেশ।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন