শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

পঞ্চগড়-১ আসনে নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তার অনন‍্য আঞ্চলিক ইশতেহার

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

 

 

নির্বাচন অর্থ দলমত নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিকের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও পছন্দমতো প্রার্থী নির্বাচন করার বৃহৎ আনন্দ উৎসব। যেকোন নির্বাচনই মানুষের গণতন্ত্র চর্চার অনুশীলন করার সুযোগ তৈরী করে দেয়। তবে দিন বদলের সাথে সাথে গণতন্ত্র শব্দটি ব‍্যাপক উচ্চারিত হলেও কার্যত সেটা বলতে গেলে মুখে মুখেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বতর্মান বাস্তবতায় গণতন্ত্র যেন অনেকটা বক্তব্যতন্ত্রয় পরিণত হয়েছে। এমন সীমাবদ্ধ অবস্থায় পঞ্চগড়ের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি নির্ভর জেলার গণমানুষকে নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে আঞ্চলিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামীলীগ মনোনীত পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী নাঈমুজ্জামান ভূইয়া মুক্তা। গত একযুগে যিনি মুক্তা ভাই নামে বেশ খ‍্যাতি লাভ করেছেন গোটা জেলায়।
আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে অর্থাৎ স্বাধীনতা পরবর্তীকালে অনুষ্ঠিত প্রায় সবকটি জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে আমার। অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে একেকটি নির্বাচনে একেক ধরণের অভিজ্ঞা আমার ঢেড় আছে। পুরনো সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ব‍্যতিক্রমধর্মী নির্বাচন বলে আমার মনে হচ্ছে। ব‍্যতিক্রম বলছি একারণেই যে, অনুষ্ঠিতব‍্য এ নির্বাচনে বর্তমান সরকার দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি একই দলের দলীয় স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় আওয়ামীলীগের এটি একটা পরিকল্পিত নির্বাচনী কৌশল। আর এ কৌশল কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট দলের দলীয় প্রার্থীর সাথে একই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমার পূর্ব অভিজ্ঞতায় ভিন্ন একটি মাত্রা যোগ করেছে। আর সবচেয়ে যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি কেড়েছে সেটি হলো দেশব‍্যাপী আসন গুলোতে প্রার্থী মনোনয়ন। পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট ও সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক আছে এমন প্রার্থী বাছাই করে মনোনয়ন দেয়া নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বহিঃপ্রকাশ।
অনেকেই বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই দলের ত‍্যাগী নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে। অস্বীকার করছি না বক্তব‍্যটি। তবে দলের দুঃসময়ে হালধরে থাকা ত‍্যাগী নেতারা সুসময়ে তাদের অনেকেই আখের যে বেশ গুছিয়েছে সে কথা বোধ করি খোলাসা করার প্রয়োজন নেই।
আসছে নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে সকল প্রার্থীই যার যার স্থানে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও আমার দৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত প্রার্থী নাইমুজ্জামান ভূইঁয়া মুক্তা এখনও রয়েছে শক্ত অবস্থানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শী চিন্তার ফসল যেমন উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সমতলে চা চাষ, একই চিন্তার ফসল যোগ‍্য প্রার্থী মনোনয়ন। ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থাকা মুক্তা অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকলেও এমপি, মন্ত্রী হবার মোহ না থাকায় তার অংশগ্রহণ করা সেই কর্মসূচি গুলো সাধারণ মানুষের কাছে ঠিক সেভাবে ফুটে উঠেনি। পরবর্তীতে জেলার প্রত‍্যন্ত পল্লী গাঁ থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ একজন পরিছন্ন জননেতা খুঁজছিলেন ঠিক সে সময়েই রাজনীতির মাঠে মুক্তাকে মাঠে টেনেছে সাধারণ মানুষেরাই। পরিচিতি পান গণমানুষের নেতা হিসেবে। বলা যায়, দলমত নির্বিশেষে নাইমুজ্জামান ভূইঁয়া মুক্তা এখন পঞ্চগড়-১ আসনের পরিচ্ছন্ন ও যোগ‍্য নেতা। দুঃখী মানুষের বন্ধু, সাধারণ মানুষের আপনজন ও পরোপকারি মানুষ হিসেবে খ‍্যাত মুক্তা পঞ্চগড় ১ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শুধু আগামী নির্বাচনকে সংসদ সদস‍্য হবার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা নয়, আঞ্চলিক উন্নয়নের রূপরেখা চিহ্নিত করে আঞ্চলিক ইশতেহারও ঘোষণা করেছেন। আমার সাংবাদিকতা জীবনে এমন লিখিত আঞ্চলিক ইশতেহার এই প্রথম হাতে পেয়েছি। ৩৮ পৃষ্টার ইশতেহারে জাতীয় বিষয়গুলোর সাথে পঞ্চগড়ের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে তার গবেষণালব্ধ আগামীদিনের কর্মকৌশল চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন।
ইশতেহারে শিক্ষা, কৃষি ও কৃষিপণ‍্যের বহুমুখীকরণ, গ্রাম কেন্দ্রীয় অংশগ্রহণ মূলক উন্নয়ন আমার গ্রাম আমার শহর, তারুণ‍্যের শক্তি, পঞ্চগড়ের সমৃদ্ধি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ‍্যমে টেকসই উন্নয়ন,মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল‍্যাব ও হাইটেক পার্ক স্থাপন। এছাড়া বন্ধ থাকা চিনিকল পুনরায় চালু করা, উৎপাদিত কৃষিপণ‍্য ও কৃষিশিল্প বহুমুখীকরণ করে কৃষকদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করার নতুন কর্মকৌশল রয়েছে এ ইশতেহারে। এছাড়াও অসংখ্য বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে এ ইশতেহারে। সবচেয়ে যে বিষয়টি আমাকে ভাবিয়েছে সেটি হলো দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আমি যে বিষয়গুলো কল্পনাই করিনি, মুক্তা সেটি দীর্ঘদিন হাট, মাঠ, ঘাট চষে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে বিষয় গুলো চিহ্নিত ও সমাধান করার উপায় দেখিয়েছেন তার ইশতেহারে। এমন সুপরিকল্পিত পঞ্চগড় গড়ার স্বপ্ন দেখানো মুক্তা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবেন এমনটা প্রত‍্যাশা স্থানীয় সবার।
আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব‍্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক মত পার্থক‍্যের কারণে খানিকটা বিতর্ক থাকলেও মুক্তার মতো নন্দিত জননেতা নির্বাচিত হলে এর সুফল সেই বিতর্ককে মুছে দেবে এমনটাই বিশ্বাস করেন মুক্তার সমর্থকসহ রাজনীতি বোদ্ধারা। লেখক: পঞ্চগড়ের একজন প্রবীণ গণমাধ্যম কর্মী।
বি.দ্র.ইশতেহারটি আমার ও নাঈমুজ্জামান মুক্তার ফেসবুক ওয়ালেও আছে পড়ে নিতে পারেন।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন