সোমবার, ২০ মে ২০২৪

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত  বিজিবির প্রতিবাদ 

বদরুদ্দোজা প্রধান
রিপোর্টার
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার খয়খাট পাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন।  ইয়াসিন আলী (২৩) ও আব্দুল জলিল (২৪)  । তারা দুজনেই পাথর শ্রমিক। মঙ্গলবার সকালে সীমান্ত নদী মহানন্দার তীরে তাদের মরদেহ দেখে পুলিশ ও বিজিবিকে খবর দেয় স্থানীয়রা। বিএসএফের গুলিতে পঞ্চগড় জেলায় এ নিয়ে গত ১৭ মাসে অন্তত: ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা রনচন্ডি বিওপি আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৪৪৬/১৪ আর এর নিকট খয়খাটপাড়া দরগাসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানাগেছে  ভারতের ১৭৬/ফকির পাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদলের গুলিতে তারা মারা যান। নিহতদের মরদেহ বিএসএফ ভারতীয় ফাঁসিদেওয়া ক্যম্পে নিয়ে গেছে। জানা গেছে,নিহত ইয়াসিন আলী জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা ব্রহ্মতোল গ্রামের কেতাব আলীর ছেলে এবং আব্দুল জলিল একই উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের জুনু মিয়ার ছেলে।
বিএসএফের গুলিতে নিহত  দুই যুবকের মৃত্যুতে  পরিবার এবং এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবার জানায় তিরনই হাট ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য হাফিজউদ্দিন সহ চারজন সোমবার রাত ৭ টার দিকে ইয়াসিন আলী ও আব্দুল জলিলকে ডেকে নিয়ে যায়। ইয়াসিন আলী পরিবারের সদস্যদের সাথে এসময় রাতের খাবার খাচ্ছিল। ইয়াসিন আলীর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আফরোজা কলি জানায় ফেসবুকের মাধ্যমে তিন বছর প্রেম করার পর মাত্র এক মাস আগে তারা বিয়ে করে। গত ঈদের আগের দিন পরিবার কে না জানিয়ে বরগুণা থেকে কলি চলে আসে ইয়াসিনের বাড়ি। এখানে তাদের বিয়ে হয়। পরে সে পরিবারকে জানায়।  আগামী ঈদুল আজহায় তার বাবা আসার কথা । আফরোজা কলি স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথর। তিনি বলেন আমার স্বামী অপরাধ করতেই পারে। তারা আইনের মাধ্যমে বিচার করতো। কিন্তু গুলি করে মারলো কেন ? আমি এর বিচার চাই। স্থানীয়রা বলছেন মঙ্গলবার সকালে রনচন্ডি এলাকার দরগাসিং সীমান্ত এলাকার মহানন্দা নদীতে হঠাৎ ওই যুবকদের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে তারা বিজিবি ও পুলিশকে খবর দেয়। জানাগেছে নিহত ওই দুই যুবক গরু চোরাকারবারীতে ভারির কাজ করতো। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও চোরাকারবারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এদিকে নিহত আব্দুল জলিলকে বিয়ে দেয়ার জন্য আলাপ আলোচনা চলছিল বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।
জানাগেছে বিএসএফের গুলিতে গত ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের এ পর্যন্ত  অন্তত: ১০ জন নিহত হয়েছে। বিএসএফের গুলিতে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সীমান্তে এসব নিহতরা হলেন— তেঁতুলিয়ার দক্ষিণ কাসিমগঞ্জ এলাকার আকবর আলীর ছেলে আইনুল হক, খয়খাট পাড়া এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে আক্কাশ আলী,দেবনগর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আনারুল হকের ছেলে সুজন আলী,ভজনপুর বগুলাহাগি এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে পলাশ হোসেন,বোদা উপজেলার সাকোয়া বকশীগঞ্জ এলাকার আব্দুর জব্বারের ছেলে নুর ইসলাম, আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ভারিয়া পাড়া এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম,তেঁতুলিয়ার পাথর শ্রমিক ফরিদ,বোদা বড়শশী এলাকার হাবিবুর রহমান ছুটু।
এদিকে দুপুর ০১ টায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১৮ বিজিবির অধিনায়ক ল্যাফনেন্টে কর্ণেল জুবায়েদ হাসান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আইনকে অবজ্ঞা করে বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করে কখনো দুইদেশের সম্পর্ক ভালো হতে পারেনা। আমরা লিখিত ভাবে এ ঘটনার তীব্র ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এসময় বিএসএফ ১৭৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার এস এস সিরোহী উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়/ ৮ মে ২০২৪

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন