সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

নাটোরে আদালত চত্বরে যুবককে কুপিয়ে জখম, আটক ৫

মনজুরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

 

নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে মোঃ রাতুল আহমেদ সময় নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চার রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র এবং তিনটি রেজিষ্টেশন বিহীন তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আহত সময় কানাইখালি এলাকার এ ভাই এ ভাই রাজু আহমেদের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সজিব, সোহাগ, সুমন, সবুজ ও ইমন নামে ৫ দুর্বৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ। এরা সবাই স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের অনুসারী হিসাবে পরিচিত

 

অপরদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে আদালত চত্বরে এমন ঘটনায় আইনজীবী, বিচার প্রার্থীসহ সকলের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে এ ঘটনার পর পরই বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর পর নাটোর থানায় প্রেসব্রিফিং করেছেন, পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব বিরোধীদের জের ধরে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায় রাতুল আহমেদ সময়ের উপরে। এ সময় চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তাকে আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চার রাউন্ড পিস্তলের গুলি, হাসুয়া, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, বিদেশী বড় চাকু ৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে করা হয় এবং সজিব, সোহাগ, সুমন, সবুজ ও ইমন নামে পাঁচজনকে আটক করে।

আটককৃতরা হলো, নাটোর শহতলীর ফতেঙ্গা পাড়ার রাইজুল ইসলামের ছেলে সজীব (৩২), শহরের বঙ্গোজল এলাকার সেকেন্দারের ছেলে সুমন (৩৫), কানাইখালী এলাকার শওকতের ছেলে ইমন (২৮), গাড়ীখানা এলাকার সবুরের ছেলে সবুজ (২৭), দক্ষিণ পটুয়া পাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে সোহাগ (৩০)। আটককৃতরা স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের অনুসারী বলে জানা গেছে।
মামলার হাজিরা দিতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বাবু ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতুল ইসলাম সময়সহ তারা বেশ কয়েকজন আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে যায়। এসময় প্রতিপক্ষ সজীব, সোহান, সুমনসহ ১০-১২ জনের একদল সন্ত্রাসীরা চাপাতি, রামদা, চাকু নিয়ে রাতুলের উপর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রাণ রক্ষার্থে রাতুল দৌড়ে গিয়ে আইনজীবীদের বার ভবনে আশ্রয় নেন। সন্ত্রাসীরা সেখানেও ধাওয়া করে রাতুলের উপর হামলা চালায়। পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

নাটোর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মুক্তা জানান, এই ধরণের ঘৃণিত ও নিন্দনীয় ঘটনায় আইনজীবী সমিতির জরুরী সভা ডাকা হয়েছে। সভায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আদালত চত্ত্বর এলাকায় এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি

 

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম এসংক্রান্ত এক প্রেসব্রিফিং করে জানান, আদালত চত্বরে সব সময় পুলিশের একটি টিম অবস্থান করে থাকে। বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫জন অভিযুক্ত ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৫ জনকে গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। এছাড়াও সন্ত্রাসীদের ব্যবহ্নিত তিনটি রেজিঃ বিহীন মটর সাইকেল জব্দ করা হয়। এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন