মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন ১১৫টি সম্পন্ন

খাদেমুল ইসলাম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন ১১৫টি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বুধবার  (৫ জুন ) দুপুরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে উপজেলার ৩ নং তেতুলিয়া ইউনিয়নের মমিনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হুমায়ুন কবির
স্ত্রী মনিরা বেগমের (২৩) প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে ওই প্রসূতি এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন।
একই ইউনিয়নের সাহেব জোত গ্রামের আক্তারুলের স্ত্রী মোছাঃ আফরোজা( ২০) অস্ত্রোপচারের পর ছেলে সন্তান জন্ম দেন। বারঘুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা পিতা আব্বাস আলীর কন্যা মোছাঃ নেহার (৩০) টিউমার অপারেশন করেন। তেঁতুলিয়ায় হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনে -অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব পালনে
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন
ডা: মোস্তফা জামান চৌধুরী নেতৃত্বে
গাইনী কনসাল‌টেন্ট ডাঃ আ‌ফিফা জিন্নাত আ‌ফি , পঞ্চগড় সদর হাসপাতা‌লের এনেস‌থে‌সিয়া কনসালটেন্ট ডাঃ সিরাজউ‌দ্দৌলা প‌লিন,উপজেলা প:প: কর্মকর্তা( UHFPI) ডা: এ এস এম রুহুল আমিন, এবং তেতু‌লিয়া হাসপাতা‌লের ডাক্তার ও নার্সগন উপ‌স্থিত ছি‌লেন ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এ এস এম রুহুল আমিন
বলেন, মা ও নবজাতক সুস্থ আছে। সিজারিয়ান অপারেশন এটা অব্যাহত।
তেঁতুলিয়ায় হাসপাতালে ২০২৩ ইং সালের নভেম্বর থেকে ৪ জুন এ পর্যন্ত গত ৬ মাসে ১১৫ টি অস্ত্রোপচার হয়েছে।তেতুলিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়,
১৯৮১ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট তেঁতুলিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করা হয়।
২০০৫ সালের (২৫ জুন) ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়।

হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, আউটডোরের সরঞ্জাম দিয়েই চালানো হচ্ছে এখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়। ইনডোর চালু না থাকায় গড়ে প্রতিদিন ৮-১০ জন রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়। বর্তমান
৫০ শয্যার জনবল দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতালটি শুরু থেকে প্রসূতি স্বাস্থ্য সেবায় জনবল সংকট থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন চালু ছিল না। গাইনি ডাক্তার থাকলেও অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ থাকে না। আবার অ্যানেস্থেসিয়া থাকলে গাইনি ডাক্তার থাকতো না। সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এতদিনে অপারেশন থিয়েটার অচল পড়েছিল। সম্প্রতি এ সংকট সমাধান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন থিয়েটারটি চালু করে।

স্থানীয়রা জানান, কোন প্রসূতি মায়ের সিজারের প্রয়োজন হলে আগে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর
যাওয়া ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না। বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ব্যবস্থা চালু করায় কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সিজারিয়ান সেবা পাওয়া যাবে।

হাসপাতালে প্রথম অস্ত্রোপচারে জন্ম নেয়া শিশুটির বাবা মো. হুমায়ন কবির
বলেন, প্রথমে কিছুটা ভয়ে ছিলাম কারণ হাসপাতালে প্রথম সিজার এটি। সুষ্ঠুভাবে সিজার সম্পন্ন হওয়ার পর খুবই উপকৃত হয়েছি। অন্য কোথায়ও সিজার করলে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হতো। কিন্তু হাসপাতালে ফ্রি সেবা পেয়েছি। এমন কাজের পুরো কৃতিত্বই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএসএম ডা; রুহুল আমিন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএস এম রুহুল আমিন
বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও নানা সরঞ্জামাদির অভাবে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ ছিল। সংকট কাটিয়ে সেটি আমরা চালু করতে সক্ষম হয়েছি। হাসপাতাল সিজারে আমরা সফল হয়েছি। এ সফলতায় হাসপাতালের সব ডাক্তার ও নার্সরা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, অপারেশন থিয়েটার থেকে প্রসূতিসহ নবজাতককে হাসপাতালের কেবিনে রাখা হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এখানেই প্রসূতি এবং নবজাতককে সেবা দেয়া হচ্ছে।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন