সোমবার, ২০ মে ২০২৪

খালবিল থেকে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির মাছ

সিরাজুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 

 

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এদেশের আনাচে-কানাচেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের পুকুর, নদ নদী হাওড় বাওড় তাইতো আমরা বিশ্বের বুকে এক নামে জায়গা দখল করেছি আমরা
মাছে-ভাতে বাঙালি। খাল-বিল-নদীর দেশ বাংলাদেশ। একসময় বাঙালির পাতে তিন বেলাই মাছ দেখা যেত। মাছ দিয়ে করা হতো অ্যাপায়ন।
বিয়ে বাড়িতে কয়েক প্রকার মাছ না দিলে যেন মান থাকত না। এখন সেই দিন আর নেই। কালের বিবর্তনে নদী শুকিয়ে খাল হয়েছে। কমে গেছে খাল-বিল-জলাশয়। ফলে কমে গেছে মাছের সংখ্যা। এক সময় প্রতিনিয়ত যেসব মাছ দেখা যেত তার অনেক মাছই এখন বিলুপ্ত। যে কারণে মাছে-ভাতে বাঙালি চিরায়ত এই কথাটি এখন আর কাউকে খুব একটা বলতে শোনা যায় না।
দেশের হাওর-বাঁওর, খাল-বিল, নদী-নালায় একসময় মিঠাপানির দেশি প্রজাতির মাছ প্রচুর পাওয়া যেত। গত কয়েক দশকে দেশি প্রজাতির অনেক মাছই হারিয়ে যেতে বসেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াইশর বেশি। হাওর-বঁওর, পুকুর, খাল-বিল, হাটবাজার কোথাও এখন আর মিঠাপানির অনেক সুস্বাদু মাছ আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। দেশি মাছের বদলে এখন পুকুরে, বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্পজাতীয় মাছ।
দেশি প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ক্রমেই হারিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ডোবা-নালা, খাল-বিল ভরাট করায় মাছের আবাসস্থল কমে যাওয়া, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, নদীদূষণ, নদ-নদীর নাব্য হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা-পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো।
এছাড়া কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। একই সঙ্গে পোনা আহরণ, নেটজাল ও মশারি জাল ব্যবহার করে খালে-বিলে-নদীতে মাছ ধরার কারণেও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে।এক সময় বর্ষা এলে নদ নদী পুকুর ভরাট হয়ে ধান ক্ষেতে অসংখ্য দেশীয় মাছ পুটি,টেংরা,চেং কই,মাগুর, শিং,চান্দা,খলসে, ঢানকান,চিংড়ি শোল,প্রচুর মাছ দেখা যেত কিন্তু আধুনিক চাষাবাদ অতিরিক্ত জমিতে কীটনাশক ছিটানোর ফলে আজ দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। হরিপুর উপজেলার স্হানীয় বাসিন্দা জমিরুল জানায় এক সময় মাছ বেচে সংসার চলত কিন্তু জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ঔষধ ব্যবহার,বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশ্রণ,কারেন্ট জাল ব্যবহার ও বৈরি আবহাওয়ার কারনে দেশীয় মাছগুলো বিলুপ্তি পথে,যার ফলে বাজারে দেশী মাছের দাম ও খুব চড়া। সুধী মহলের অনুরোধ আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের দেশিও মাছ গুলোকে বিলুপ্তি হাত থেকে বাঁচাই এবং সরকারি মোতাবেক সকল মাছ ধরার বিধিনিষেধ মেনে চলি

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন