সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

কুলাউড়ায় ৭এপিবিএন এর অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ দু’জন গ্রেপ্তার

মোঃ জাকির হোসেন স্টাফ রিপোর্টের

 

 

মধ্যপ্রচ্যের সাধারণ প্রবাসী ও দেশের সহজ সরল মানুষদের তার্গেট করে এক শ্রেনীর দালাল ও মানব পাচার চক্র দীর্ঘ দিন থেকে ইউরোপ আমেরিকার স্বপ্ন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন এক পাচার চক্র মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কুখ্যাত মানব পাচার চক্রের মূল হোতা শাহীন আলম ও তার ভাই সাইদুর রহমানের খপ্পরে নিঃস্ব একই জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের এলাইচ মিয়ার ছেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ইসলাম উদ্দিনসহ কয়েকজন প্রবাসী।
ইসলাম উদ্দিন এর ভাই মাওলানা সালাহ উদ্দিন এর অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ আর্মড পুলিশ ব্যটালিয়ন সিলেটের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার ফরিদুল ইসলাম এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মফিজুল ইসলাম এর তত্বাবধানে, সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আসাবুর রহমান এর নেতৃত্বে অদ্য ১৩/০৩/২৪ খ্রিঃ তারিখ সকাল ৭.৩০ ঘটিকার সময় কুলাউড়া থানার কানেহাত গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে মানব পাচার চক্রের মূল হোতা শাহীন আলম ও তার ভাই সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়। শাহীন আলম সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই চক্রকে নেতৃত্ব দেয় এবং তার ভাই দেশে থেকে ট্রাভেল্স ব্যবসার আড়ালে মানব পাচারে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
মাওলানা সালাহ উদ্দিন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন বিবাদী ১। মোঃ শাহীন আলম (৪০), ২। সাইদুর রহমান (৪৪), উভয় পিতা- মাসুক মিয়া @ লেচু মিয়া, সাং- কানেহাত, থানা- কুলাউড়া, জেলা-মৌলভীবাজার সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী ও দালাল চক্রের সদস্য। তার ভাই ভিকটিম ইসলাম উদ্দিন ও আরেক ভাই শাহীন উদ্দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাধারণ শ্রমিকের কাজ করেন। ০১ নং বিবাদী শাহীন আলম সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করার সুবাদে তার ভাইদের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার পরে ইসলাম উদ্দিন সহ আরো ২০/২৫ জন প্রবাসী সাধারণ শ্রমিককে আমেরিকার প্রেরনের প্রলোভন দেখায়। তার প্রলোভনে ইসলাম উদ্দিনকে আমেরিকা নেওয়ার জন্য শাহীন আলম এর সাথে ১৮,০০,০০০/- টাকার মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসে শাহীন আলমকে নগদ ৫,০০,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। টাকা পেয়ে শাহীন আলম জানায় ইসলাম উদ্দিন যে মালিকের কাছে আছে তার কাছ থেকে আমেরিকা পাটানো যাবে না তাই ইসলাম উদ্দিনকে গত ১২/০৪/২৩ খ্রিঃ তারিখ দেশে পাটিয়ে দেয়।

দেশে আসার পর শাহীন আলম এর সহযোগী তার ভাই সাইদুর রহমান এর কাছে গত ২০/০৪/২৩ খ্রিঃ তারিখ জমি জমা বিক্রি করে নগদ ৮,০০,০০০ টাকা দেয়।

গত ১৩/০৬/২৪ খ্রিঃ তারিখ ভিকটিম ইসলাম উদ্দিনকে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে আমেরিকা নেওয়া কথা বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার অজ্ঞাতনামা প্রচার চক্রের সদস্যদের কাছে ইসলাম উদ্দিনসহ আরো কয়েকজনকে জিম্মি করে রাখে। কারো সাথে যোগাযোগ করতে দেয় না। ভিকটিমের ভাই সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী শাহীন উদ্দিন অনেক কষ্টে দালাল শাহীন আলম এর সাথে যোগাযোগ করলে সে জানায় কিছু দিনের মধ্যে আমেরিকা পাটাবে। ভিকটিমের সাথে কথা বলতে বা দেখা করার কোন সুযোগ দালাল শাহীন আলম দেয় নাই। দীর্ঘ দিন থেকে আমেরিকা না নেওয়া এবং জিম্মি রাখায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে শাহীন আলম এর পরিবারকে চাপ দিলে দেশে প্রেরনের জন্য আরো ৮০,০০০/- টাকা দাবী করে। ৮০,০০০/- টাকা পেয়ে দীর্ঘ সময় জিম্মিসালায় রাখার পর গত ১০/১১/২৩ খ্রিঃ তারিখ ইসলাম উদ্দিনকে বাংলাদেশে প্রেরন করে। ভিকটিম ইসলাম উদ্দিন দেশের আসার পর শাহীন আলমের সহযোগী তার ভাই সাইদুর রহমানসহ তার পরিবারের কাছে বার বার গেলে কোন টাকা ফেরত পাওয়াসহ কোন সুবিচার পায় নাই। কিছু দিন পূর্বে দালাল শাহীন আলম দেশে আসলে গত ০৬/০৩/২৪ খ্রিঃ তারিখ সকাল ১০.৩০ ঘটিকার সময় এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে দালাল শাহীন আলম এর কাছে গেলে সে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হত্যার হুমকি প্রদান করে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আটকৃত মানব পাচার চক্রের মূল হোতা শাহীন আলম ও তার সহযোগী সাইদুর রহমানকে কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। ভিকটিম ইসলাম উদ্দিন এর ভাই মাওলানা সালাহ উদ্দিন বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় এজাহার দায়ের করেন৷ মামলা রুজু পক্রিয়াধীন আছে।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন