মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

কুলাউড়ায় ভাইরাল হওয়া সেই শ্বশুর-স্বামী এখন কারাগারে,

মোঃ জাকির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ইফতার সামগ্রী তৈরি নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গৃহবধূ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে শ্বশুর ও স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে কুলাউড়ায় এক গৃহবধূ নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নির্যাতিত গৃহবধূর শশুর শফিক মিয়া (৬৩) ও স্বামী আব্দুস সালাম (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কুলাউড়া থানার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে গৃহবধূর শ্বশুর মোঃ শফিক মিয়া (৬৩) তার পুত্রবধুকে অশ্লীল গালি-গালাজ করে মারধর করতে করতে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির উঠান থেকে নিয়ে যাচ্ছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড়ভাই বাবুল মিয়া কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। বাবুল মিয়া জানান, গত ১৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় ইফতারের শরবতের প্যাকেট কাটাকে কেন্দ্র করে স্বামী আব্দুস সালাম ও তার দেবর রুমান মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় গৃহবধূ রোজিনার। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রোজিনাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরের দিন সকাল অনুমান সাড়ে ৬ টায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন যৌতুক বাবদ একলক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। ভিকটিম যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।পরে প্রাণের ভয়ে প্রতিবেশী জ্যোৎস্না বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নিলে তার শ্বশুর এবং স্বামী জ্যোৎস্না বেগমের বাড়িতে গিয়ে ভিকটিমকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে টেনেহিঁচড়ে তার শশুর বাড়িতে নিয়ে যায়।এ সংবাদ পেয়ে ভুক্তভোগীর ভাই এবং রোজিনার আত্মীয়স্বজন উদ্ধার করতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদেরকে গালি-গালাজ করে বের করে দেয়। পরবর্তীতে কুলাউড়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) হারুনুর রশিদ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ ঘটনাস্থল থেকে রোজিনাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।পরে সুলতানপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্বামী আব্দুস সালাম ও শ্বশুর শফিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন