রবিবার, ৩ মার্চ ২০২৪

আচরণবিধি লংঘন ও কুরুচিপুর্ণ বক্তব্য,ঝিনাইদহে নৌকার তিন প্রার্থীকে তলব কারণ দর্শণ ও নোটিশ

মোঃ আব্বাস আলী ঝিনাইদহ

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর আচরণবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা লংঘনের দায়ে ঝিনাইদহের তিনটি আসনে নৌকার প্রার্থীদের নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তার কারণ জানাতে পৃথক ভাবে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। নৌকার তিন প্রার্থীরা হলেন, ঝিনাইদহ-১ আসনে আব্দুল হাই এমপি, ঝিনাইদহ-২ আসনে তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি এমপি ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে আনোয়ারুল আজিম আনার এমপি। নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটি ঝিনাইদহ-১ আসনের চেয়ারম্যান ও যুগ্ম জেলা জজ মোঃ গোলাম নবী সাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ ডিসেম্বর শৈলকুপার দুধসর ইউনিয়নের ভাটই বাজারে নৌকার পক্ষে লাঠিসোটা নিয়ে শ্লোগান দিয়ে মহড়া চালায়। এছাড়া এমপি পুত্র একই দিন শেখপাড়া বাজারের হাজী মার্কেটের সামনে পথসভা করেন। ১২ ডিসেম্বর সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুন মটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এজেন্টদের প্রকাশ্যে হুমকী প্রদান করেন। গত ১৩ ডিসেম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া সরকারী প্রাইমারি স্কুলে ধরহরাচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম প্রকাশ্যে জনসভা করে এবং মটরসাইকেল মহড়া দেয় যা আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ১১(গ) ও ১২ এর সুস্পষ্ট লংঘন। এ ঘটনায় আব্দুল হাই এমপি অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধিকে ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটির কাছে ব্যাখা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঝিনাইদহ-২ আসনে ন্যেকার প্রার্থী তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি এমপিকেও আগামী ১৮ ডিসেম্বর ব্যাখা দাখিলের নির্দশ দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধানী কমিটির চেয়ারম্যান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ তৌফিকুল হাকিম। তিনি প্রেরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন গত ১১ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ শহরের মকবুল প্লাজার তৃতীয় তলার ফুড সাফারি রেষ্টুরেন্টে নৌকা প্রতিকের সমর্থনে মত বিনিময় সভা করেন। এছঅড়া হরিণাকুন্ডু এলাকার বিভিন্ন এলাকায় সভাসমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। ভুটিয়ারগাতি গ্রামে নৌকার সমর্থনে আওয়ামীলীগের এক সমাবেশে জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক রাজু আহম্মেদ স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুলকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপুর্ন বক্তব্য দেন। এছাড়া পোড়াহাটী ইউনিয়নের ইস্তফাপুর গ্রামে নৌকা প্রতিকের জনসমাবেশে ঝিনাইদহ সদর থানা যুবলীগের আহবায়ক ইব্রাহীম খলিল রাজা স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল সম্পর্কে কটাক্ষমুলক বক্তব্য দেন বলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমন্বয়ক শরীফ মাহমুদুল হাসান লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যা আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ১১(গ) ও ১২ এর সুস্পষ্ট লংঘন। এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী আনোয়ারুল আজিম আনারের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আব্দুর রশিদ খোকন আরচণবিধ লংঘনের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয় গত ১০ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ উপজেলাধীন পৌর অডিটরিয়াম কক্ষে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে সাবেক উডপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ রাশেদ শমসের, বলেন, মজিুব কোট পড়ে যদি নৌকার বিরুদ্ধে ভোট চান, এই মজিুব কোট জনতার মাঝে খুলে নেওয়া হবে। সেখানে উপস্থিত মোচিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ গোলাম রসূল তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগের মানুষ হয়ে নৌকায় ভোট না দিলে ভোটের মাঠে যাওয়ার দরকার নেই। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ওহিদজ্জুামান ওদু তার বক্তব্যে বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করলে ক্ষমা করা হবে না। সেখানে উপস্থিত উপজেলা পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমদাদুল হক সোহাগ তার বক্তব্যে বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের বাইরে কেউ ভোট দিলে তাকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে এবং আমার ইউনিয়নে ঢুকতে দেওয়া হবে না যা প্রত্যেকের একক ও সামষ্টিকভাবে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৪(১), ১১(ক) এবং ১২ এর লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ বক্তব্য/ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আগাম ১৭ ডিসেম্বর ঝিনাইদহ জেলা জজ আদালত ভবনে অবস্থিত যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১, ঝিনাইদহ, এর কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য/ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান।

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন