শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

অনলাইন জুয়ায়,নাপিত থেকে কোটিপতি

মোঃ সাইদুল ইসলাম মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

 

একটা সময় যিনি সেলুনে নাপিতের কাজ করতেন,নাম সাগর বৈদ্য। সাগর বৈদ্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সংকর সেন গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, দুই বছর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হবিগঞ্জ রোডের জেন্টস পার্লারে কাজ করতেন সাগর বৈদ্য। সেখান থেকেই শুরু করেন অনলাইনে জুয়া খেলা। কয়েকদিন যেতে না যেতেই ভাগ্য পাল্টাতে থাকে তার। হয়ে ওঠেন কোটিপতি। কয়েক বছরের মধ্যে সাগরের ব্যবসাও বাড়তে থাকে।

 

শ্রীমঙ্গলের নতুন বাজারের ফার্ম ফ্রেশ মিট জোন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। সাঘরদিঘি রোডে সুমনা পোল্টি হাউজ নামে আরেটি খাদ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানের মালিকও তিনি। সবই হয়েছে রাতারাতি। এ ছাড়া তিনি গড়ে তুলেছেন আশার আলো শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতি। যার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন দাদন ব্যবসার শক্তিমালি নেটওয়ার্ক। এসব কিছুর পেছনে সাগরের অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক। ২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল জুয়া খেলার দায়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিয়ন্ত্রণ করেন শতাধিক অনলাইন জুয়ারিকে
শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীমঙ্গলের এক ব্যবসায়ী বলেন, সাগর কাতার প্রবাসীদের নিয়েও জুয়ার প্লাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ করেন। কয়েক বছর আগে সে ছিল সেলুনের দোকানদার। এখন বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। শ্রীমঙ্গলের শতাধিক অনলাইন স্কেমার ও জুয়ারিকে সাগর জুয়া খেলা শেখাতে ও ডলার দিয়ে সহায়তা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় শতাধিক কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার কামানোর মোহে পড়েছেন গৃহবধূ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরাও। এই পরিসর দিনদিন বাড়ছে। প্রশাসন যত বেশি তৎপরতা চালাচ্ছেন, তার চেয়েও বেশি সংঘবদ্ধভাবে অপরাধে জাড়াচ্ছেন অপরাধীরা। স্ক্যামিং এক অনলাইন কেন্দ্রিক প্রতারণার ফাঁদ। স্ক্যামাররা অনলাইনে যৌন-সংক্রান্ত ফাঁদ পেতে দেশি-বিদেশি ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সম্পত্তি কেনা-বেচার মধ্যস্থতাও করেন তারা। দ্রুত ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় এ অন্ধকার গলিতে কোনো কিছু না ভেবেই পা বাড়াচ্ছেন উঠতি বয়সীরা।

মো. লকন নামের অনলাইন স্ক্যামার বলেন, ওয়ানএক্সব্যাট, মিলব্যাটসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে গেম খেলে ও বাজি ধরে এসব জায়গা থেকে ডলার আসে। আবার অভিজ্ঞ স্ক্যামাররা গ্রাহকদের সঙ্গে চ্যাট করেন। তারা ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাগর বৈদ্য বলেন, আমি কীভাবে কী করেছি, আপনাকে জানানোর কেন? অনলাইনে কী করি না করি আপনার জানার কিছু নেই। এসব জেনে আপনার কী দরকার?

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, অনলাইনে জুয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ এ ধরণের প্লাটফর্ম তৈরি করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবন

থেকে আরও পড়ুন

থেকে আরও পড়ুন